Photo post: Foreign couple treated like aliens on Dhaka street

image

I found them walking on Dhanmondi Road#32 towards the Bangabandhu Museum on Sunday afternoon. Several street children were accompanying them — mainly for some alms and also out of curiosity. The bystanders including policemen sitting or walking were starring at them, no, actually at the girl, whose dress was relatively aggressive in the eyes of common women of this Muslim-majority country.

Since the Hefazat movement against atheists and progressive women in 2013, the number of women wearing burqa or hijab has risen significantly. Moreover, following the recent incidents of rape and sexual assaults, many people have been blaming women and their dresses for being persecuted.image

image

image

image

image

image

image

image

image

Advertisements

ভাস্কর্য ভাঙ্গোঃ এখন হেফাজত, ২০০৮-এ উলামা আঞ্জুমানে আল-বাইয়্যিনত

ছবিঃ ব্লগ থেকে
ছবিঃ ব্লগ থেকে

অধুনা চমক সৃষ্টিকারী জামায়াত-বিএনপির ভাই-ব্রাদার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের ঐতিহাসিক ১৩-দফা দাবীনামার মধ্যে একটা রেখেছে ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে। তারা বলছে এটা অনৈসলামিক।

তাদের দাবীঃ “মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলে-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।”

আমি ভাই মুসলমান না, তবে বাংলাদেশের একজন নাগরিক, এবং এমনকি নানাভাবে সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত সমাজের একটা অংশ। তাই এই বিষয়ে মাথা গলাতে বাধ্য হচ্ছি।

আমার প্রথম কথা হলো, সমাজে-রাষ্ট্রে প্রচলিত কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে এধরনের উগ্র মানসিকতার বিরোধী আমি। হেফাজত বা উলামা আঞ্জুমানে আল-বাইয়্যিনত আমাদের দেশে কতটা জনপ্রিয় ইসলামী দল বা গোষ্ঠী তা নিয়ে হাজারটা প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু কথা হলো উনারা মিছিল নিয়ে-মাইক হাতে যা খুশি বলতে পারেন না, করতে পারেন না। উনাদের আগে মানুষ হতে হবে, তারপর মুসলিম, এবং শুধু তারপরই তারা ধর্মপ্রচারে নামতে পারেন। নইলে যা হবে তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। মুসলিমদের মান-ইজ্জত কি বাড়ছে না কমছে?

২০০৮সালের ১৫ই অক্টোবর বিমানবন্দরের সামনের নির্মানাধীন ‘বাউল’ ভাস্কর্‍্য ভেঙ্গে ফেলে উত্তেজিত মুসলিম ভাইয়েরা। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের উপরেও চড়াও হয় তারা। পরে সরকার সেই প্রকল্প বাতিল করে দেয়। কেন? সারাদেশে প্রতিবাদ হলো দিনের পর দিন, সরকার আর সেই পদক্ষেপ নিলো না। বরং…

বলাকা। ছবিঃ লেখক
বলাকা। ছবিঃ লেখক

এরপর ২৯শে নভেম্বর দিলকুশার বিমান ভবন চত্বরে ৬টি বকের সমন্বয়ে তৈরি ‘বলাকা’ ভাংতে যায় উগ্র মুসলিমরা। ক্ষতিগ্রস্ত করে ভাস্কর্যগুলোর নীচের অংশ। সেদিনই ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সামনে একটি ভাস্কর্যের নামফলক ভেঙ্গে ফেলে তারা।

সর্বশেষ হেফাজত তাদের দাবীনামা প্রকাশ করার পর তারা অনেক রাজনৈতিক দল ও সাধারন মুসলমানের সমর্থন পেলেও কেউ বলেনি সবাই সবগুলো দাবীর কথা জানে বা সমর্থন করে।

সরকার একটা ব্যাখ্যা দিয়েছিল এইসব দাবী নিয়ে। ভাস্কর্য নিয়ে সরকার বলেঃ “সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ ওনুসারে সরকার জাতীয় সংস্কৃতি ও শিল্পকলাসমূহের পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন। ২৩ অনুচ্ছেদটি নিম্নরূপঃ- রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন, যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহন করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন।

তাছাড়া সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদ জাতীয় স্মৃতি নিদর্শনসমূহ সংরক্ষনের জন্য রাষ্ট্রকে ক্ষমতা প্রদান করেছে। ২৪ অনুচ্ছেদটি নিম্নরূপঃ- বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমন্ডিত স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু বা স্থানসমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারন হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

সংবিধানের উক্ত বিধান অনুসারে বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমন্ডিত স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু বা স্থানসমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারন করার সাংবিধানিক ও আইনগত কোন সুযোগ নেই।

এছাড়া, জাতিসংঘের কালচারাল হেরিতেজ সংক্রান্ত বিভিন্ন কনভেনশন এবং ইউনেস্কো’র কার্যক্রমের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের প্রস্তাব গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।”

কিন্তু এই ব্যাখ্যা ভালো লাগেনি হেফাজতীদের। দাবীটাকে সংস্কার করে তারা, যোগ করে মঙ্গলপ্রদীপ ইস্যুঃ “ভাস্কর্যের নামে মূর্তিস্থাপন, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের নামে শিরিকী সংস্কৃতিসহ সকল বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।”

ব্যাখ্যাঃ “দেশে ভাষ্কর্যের নামে আবক্ষ নারী-পুরুষ বা জীবজন্তুর মূর্তি তৈরি ও ফুল দিয়ে সেসবকে সম্মানপ্রদর্শনের রেওয়াজ যেহারে শুরু হয়েছে, তা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কখনো কাম্য হতে পারে না। ইসলামে স্পষ্টভাবে মূর্তি তৈরি ও সম্মান প্রদর্শনকে শিরক ও হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আমরা কখনো প্রাণহীন শিল্পকর্মের বিরোধী নই। বরং ইসলাম সৌন্দর্য ও জ্ঞান-উদ্দীপক শিল্পকর্মকে উৎসাহিত করে।

অপরদিকে মঙ্গলপ্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অগ্নিপূজক ও পশ্চিমা সংস্কৃতি। কথিত গণজাগরণ মঞ্চ থেকে এটাকে এদেশে ঢালাওভাবে প্রচলনের জোর চেষ্টা চলছে। ৯০ভাগ মুসলমানের দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে অগ্নিপ্রজ্জ্বলনের মতো পশ্চিমা ও বিজাতীয় এই সংস্কৃতির প্রচলন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারো ধর্মীয় আচরণে এধরনের কোন সংস্কৃতির চর্চার বিধান থাকলে সেটা তারা নিজেদের পরিসরে পালন করতে পারে। কিন্তু কথিত গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ঘোষণা দিয়ে ঢালাওভাবে এদেশের তরুণ ও ছাত্রসমাজকে দিয়ে এই সংস্কৃতি চর্চা করিয়ে জাতীয় সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এদেশের তৌহিদী জনতা এটা মেনে নিতে পারে না। এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং বাস্তবসম্মত।”

এর পর আর সরকার কিছু বলেনি। কোন ধর্ম বিশারদকেও দেখলাম না এই দাবীসহ বাকিগুলো নিয়ে কথা বলে একটা বিহিত করতে। কোনটা যে ইসলামিক আর কোনটা যে নাস্তিকপন্থী, সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটানো শিক্ষিত মুসলমানদের দায়িত্ব।

নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে যদি বারো রকমের ইসলামিক মতাদর্শ থাকে তাহলে আমার মত অন্যান্য ‘অমুসলিম জনগোষ্ঠীর’ জন্য তা ঝামেলার, টিকে থাকা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রথম আলো‘-তে হুমায়ূন আহমেদ সাহেব একটি কলাম লিখেছিলেন। বিষয় বাউল ভাস্কর্য। লেখার এক অংশে তিনি উল্লেখ করেছেন আমাদের মহানবী (সা.) কাবা শরিফের ৩৬০ টি মূর্তি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেয়ালের সব ফ্রেসকো নষ্ট করার কথাও তিনি বললেন। হঠাৎ তাঁর দৃষ্টি পড়ল কাবার মাঝখানের একটি স্তম্ভে। যেখানে বাইজেন্টাইন যুগের মাদার মেরির একটি অপূর্ব ছবি আঁকা। নবীজী (সা.) সেখানে হাত রাখলেন এবং বললেন এই ছবিটা তোমরা নষ্ট করো না। কাজটি তিনি করলেন সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর অসীম মমতা থেকে।