মাত্র অল্প কিছুদিন বেঁচে ছিল; লম্বা শরীর আর একটা লম্বা লেজ। ছিল দুর্দান্ত বুদ্ধিমান ও ছটফটে। আর তাতেই মাতিয়ে রাখতো আমাকে আর আমার বন্ধুদের। 
আমি যখন ওকে রাস্তা থেকে তুলে আনলাম, তখন সে তিন-চার সপ্তাহ বয়সের একটা ছানা।

আলবেরুনী এক্সটেনশন থেকে ট্রান্সপোর্ট আবার হল, মাঝে খেলার মাঠ, কমনরুম, হলের বারান্দায় ছুটাছুটি করে কাটিয়েছে সে। 
যখন মাত্র দাঁত উঠছিল, হলের বারান্দায় রাখা জুতা, ঝুলানো কাপড় কামড়ে ধরে দিত ভোঁ দৌড়! তখন তাকে দেখেছি মাটি, ইটের টুকরা, এমনকি কাঠ, লোহা কামড়াতে। 
পাশে পাশে হাঁটার সময় মাঝে মাঝেই লাফিয়ে উঠতো। একবার তো আমার ডানহাতের বুড়ো আঙুলে কামড় বসিয়েছিল! অবশ্য ব্যথা পাইনি। 
টাইক আমার লাই পেয়ে মাথায় উঠে গিয়েছিল। “স্পাইক”কে ধরে রাখতে পারিনি বলে তখনো অনেক কষ্ট পেতাম।
হলের মাঝবয়সী বাদামী “মালেক” কুকুরটার সাথে তার কোন ঝামেলা ছিল না। নিজে জুনিয়র হলেও টাইক ওকে বিশেষ পাত্তা দিতো না। 
তবে ট্রান্সপোর্টে প্রথম দিনই “পল্টু”র সাথে তার দারুন খাতির হয়ে যায়। দুজন মিলে দৌড়াদৌড়ি আর বরফ পানি খেললো।
তার দুই-তিনদিন পর “টাইগার”-এর সাথে ভাব হলো। তিনজন মিলে ভালোই সময় কাটতো, টাইক আর হলে ফিরতে চাইতো না। 

কদিন পর দেখি টাইক আর টাইগার জুটি হয়ে গেছে। বুড়া টাইগারের সাথে কিশোরী টাইক। দুজনেই বেশ লম্বাটে, তবে টাইগার তার চেয়ে অনেকটাই উঁচু। টাইক সাদা আর টাইগার কালো। দুজনের চোখের চারপাশে বিপরীত রঙ!
তার অল্প কিছুদিনের মধ্যে ওরা সবাই মারা পড়লো, কাছাকাছি সময়ে। এখন থেকে দশ বছর আগে জুলাইয়ের কোন এক দিন সকালে। টাইকের বয়স তখন পাঁচ-ছয় মাস।
সেই খুনের গল্পটা আরেকদিন খুলে বলবো।

Advertisements