বর্ষায় বন্যা হয় — অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারনে; বন্যায় বাঁধ ভাঙ্গে, নদীর পাড় ভাঙ্গে; ঘর ডুবে যায়, জমির ফসল তলিয়ে যায়; মানুষ গবাদিপশু মারা পড়ে; লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়; পড়াশুনা, কামাই-রোজগারে বাধা পড়ে; অনেকেই শহরমুখী হয় উপার্জনের নতুন পথ খুঁজতে আর অনেকেই অপেক্ষায় থাকে কবে পানি সরে যাবে এই আশায়…।

সরকারি কিছু সাহায্য বরাদ্দ হয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ব্রিজ, কালভার্ট মেরামত হয়; কিন্তু তাতেও লুটপাট চলে! সভা, সেমিনার হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে, কনসালট্যান্টরা ঢাকার এসি রুমে বসে বাজেট বানান আর পাজেরো হাঁকিয়ে প্রকল্প এলাকায় পায়ের ধুলো দেন…কিছু এনজিওর ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে গতি আসে; আগের ঋণের বোঝা শেষ না হতেই নতুন করে চড়া সুদে টাকা নিতে বাধ্য হয় গাঁয়ের মানুষগুলো। 
বন্যা কি ভূমিকম্পের মতোন পুর্বাভাস ছাড়া আসে? হঠাৎ হয়? তা তো নয়। তাহলে কেন সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিপদে ফেলে, কষ্ট দেয়? 

বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলায় সরকারের নীতিনির্ধারকদের অদূরদর্শিতা, অবহেলা আর দুর্নীতির কারনে ধ্বংস হয় সাজানো সংসার আর তিলে তিলে গড়ে তোলা সামান্য সম্পদ!
এটাই এখন সিস্টেম। এটাই স্বাভাবিক। আর তাই এসব মানুষের দুর্দশার কথা মিডিয়াতে বারবার আসেনা, আসলেও ঢিলেঢালা; সরকারও পাত্তা দেয়না। 

এই আধুনিক যুগে, সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা বাজেটের বাংলাদেশে এটা ঘোরতর অন্যায়; অগ্রহণযোগ্য ও দুঃখজনক!

Advertisements