ফকিন্নী দুর্নীতিবাজ খুনে ধর্ষকামী আর উগ্র ধর্মান্ধতার পরিচয় লুকাতে উন্নয়ন কর্মকান্ড সবচেয়ে ভালো কাজে দেয়, কেননা এসব প্রকল্পে কাজ ঠিকমতো না হলেও জায়গামতো ঘুষ পৌঁছে দিলেই ওকে! প্রশংসাবাক্য শুরু হয়ে যাবে। হাতে উঠবে বিদেশী পুরষ্কার আর দেশী সম্মাননা।

image

আর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্যেও তো কিছু করতে হয়, তাই না? কিন্তু একটাই শর্ত: সরকারের পছন্দসই কাজ ইচ্ছেমত করতে দিতে হবে কিন্তু! তাদের যুক্তিকে অগ্রাহ্য বা সমালোচনা করা যাবে না।

# বাঁশখালীতে স্থানীয়দের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে, পরিবেশ আইন অমান্য করে, মিডিয়া, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ঘুষ দিয়ে চার খুনের তদন্ত মাটিচাপা দিয়ে দুর্নীতিবাজ এস আলম গ্রুপকে বারোশো মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলো সম্প্রতি!

# সুন্দরবনের পাশে রামপালে একই সাইজের আরো দুটি এবং প্রায় অর্ধেক ক্ষমতার আরেকটি কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এখানেও আছে অনিয়ম, দুর্নীতি আর অত্যাচারের গল্প!

# দিনাজপুরে একটা কয়লা খনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খননের কাজ পাওয়ার জন্য লন্ডনের এশিয়া এনার্জি (জিসিএম পিএলসি) গত দশ বছর ধরে অপেক্ষা করছে, অন্যদিকে শেয়ার বাজারে মুনাফা নিচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলে থাকাকালীন এই প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দেন কিন্তু এখন তিনি চান ন্যূনতম শর্ত পূরণ হলেই যেন এশিয়া এনার্জিকে কাজটা দেওয়া হয়। উন্নয়ন কর্মকান্ড বলে কথা!

# ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাউজিং প্লট, ভবন, মার্কেট, রেষ্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট, শিল্প স্থাপনা, বিশেষ অঞ্চল, রাস্তা, ব্রীজ ইত্যাদি বানানোর জন্য গরীব মানুষের, বিশেষ করে অমুসলিমদের সহায় সম্বলটুকু কেড়ে নিতে বা ছুঁড়ে ফেলে দিতে কষ্ট লাগেনা সরকারি কর্মকর্তা, মেজিস্ট্রেট, পুলিশ বা দলীয় পান্ডাদের! আর নদী, ডোবানালা ভরাট করা এবং গাছপালা, পাহাড় কেটে সাফ করতেও কোন বাধা নেই এই উন্নয়নের আমলে! আর বাধা আসলে পুলিশ আর আদালত তো আছেই!

এভাবে আর কতদিন নিজেদের স্বার্থের জন্য আজ ও আগামীর মানুষ ও পরিবেশকে ধ্বংস করবে এরা? তার চেয়ে এক কাজ করেন, এইসব ফালতু আইন সব বাতিল করে দেন। একটা থিউরি দাঁড় করান যে উন্নয়নকে সবকিছুর আগে গুরুত্ব দিতে হবে, এবং তা ঘিলুওয়ালাদের গেলানোর ব্যবস্থা করেন। আর প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারার কারন হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য কিছু একটা বলুন!

Advertisements