Police_gunsখবর (দুঃসংবাদ) — বাঁশখালীতে উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়ায় একজন আন্দোলনকারী আটক।
অন্যদিকে ৪ঠা এপ্রিল সরকারি সন্ত্রাসী ও পুলিশের গুলিতে নিহত কমপক্ষে চারজনের খুনীদের ধরতে মানা আছে।
দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে ও এলাকাবাসীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাজ শুরু করে এস আলম গ্রুপ। ধীরে ধীরে এলাকাবাসী কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্রের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থা নেয় এবং বিক্ষোভ করে। এমতাবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন একটি প্রকল্পবিরোধী এক সমাবেশের আগে বায়বীয় ১৪৪ ধারা জারি করে। তারা যুক্তি দেখায় প্রকল্পের পক্ষের গ্রুপ একই সময়ে একই সময়ে নাকি সমাবেশ ডেকেছিল। তাই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু আদতে অন্য কোন গ্রুপকে পাওয়া যায়নি এবং মাইকিং-ও করা হয়নি। সেদিন পুলিশ আর এস আলম গ্রুপের সন্ত্রাসীরা (সরকারি দলের মদদপুষ্ট ভাড়াটে কর্মীরা) নির্বিচারে গুলি করে এবং নির্যাতনের এক ন্যাক্কারজনক নজির সৃষ্টি করে কমপক্ষে চারজনকে হত্যা করে। কিন্তু তারা আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়।
অতঃপর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এলাকার আওয়ামীলীগের নেতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ১৫ দিন সময় চেয়ে নেন। স্থগিত হয় ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী। এরপর এলাকার সংসদ সদস্য নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময় গুলি করার জন্য সন্ত্রাসীদের দোষারোপ করেন। পুলিশ আদৌ তদন্ত করছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলো।
প্রথম সুযোগে সমাধানের বদলে উন্নয়নবিরোধীদের একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী। জানালেন কয়লা ও কয়লা বিদ্যুত পরিবেশের কোন ক্ষতি করেনা।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী আবার বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে কথা বলতে ভুলে যানঃ তিনি কিছুদিন আগে পরিবেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের একটি পুরস্কার পেয়েছেন। অন্যদিকে তার সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানীকে কম গুরুত্ব দিয়ে আমদানী নির্ভর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র বানাতে উঠেপড়ে লেগেছেন যা কিনা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত করবে; তাও আবার অনিয়ম, দুর্নীতি সহযোগে।
আন্দোলনকারী খুন হওয়ায় এস আলম গ্রুপ বিকল্প স্থান নির্বাচন করে চকোরিয়াতে। আবার পাশাপাশি সরকারদলীয় নেতা এবং অন্যান্যদের দিয়ে এলাকাবাসীকে রাজী করানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। এর মধ্যে দুঃসংবাদ আসলো; ২৮ তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তরের সভায় সিদ্ধান্ত হলো এখন এই প্রকল্পকে অবস্থানগত ছাড়পত্র দেয়া হবেনা। এলাকাবাসীকে রাজী করানো এবং প্রয়োজনীয় আরো কাগজপত্র জমা হলে পরে তখন এ বিষয়ে আবার আলোচনায় বসবে কর্মকর্তারা।
সরকারি কর্মচারি, দলীয় কাডার এমনকি সাংবাদিকদের আপনারা টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে পারবেন, কিন্তু হাজার হাজার এলাকাবাসীকে কিভাবে ভূগোল বুঝিয়ে হাত করবেন?
আসলে ব্যবসায়ি ও দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদদের কাছে পরিবেশ বা সাধারণ জনগনের জীবনের কোন মূল্যই নেই।
সরকারি ও সরকার সমর্থিত প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দেওয়ার ঘটনা এদেশে খুব বেশি নেই। তবে পুলিশ ও সরকারিদলের নেতা-কর্মীদের নির্মম লাঠিচার্জ ও গুলিতে আহতের সংখ্যা হয়তো অনুমানকেও ছাড়িয়ে যাবে।
২০১১ সালে মুন্সীগঞ্জে বিমানবন্দর বানাতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে সরকার। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ আক্রমন করলে গুলি ও লাঠিচার্জে কমপক্ষে ১০০ জন আহত হন, মারা যান একজন পুলিশ সদস্য।
এর আগে ২০১০ সালে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে সেনাবাহিনীর আবাসন প্রকল্পের জন্য জোরপূর্বক জমি দখল করতে চাইলে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। এতে কমপক্ষে একজন নিহত হন, আহত হন ৫০ জনের বেশি। তবুও নির্যাতন শেষে সেই গ্রামবাসীরাই আবার মামলার আসামী হন।
২০০৬ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত খনিবিরোধী আন্দোলনে বিডিআর-পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনজন। স্থগিত করা হয় প্রকল্পের কাজ। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সরকারকে বলেছিলেন এলাকাবাসীর দাবি মেনে নিতে, মানে এশিয়া এনার্জির সাথে চুক্তি বাতিল, উন্মুক্ত খনি না করা, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেয়া ইত্যাদি। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তার সরকার সেই এশিয়া এনার্জিকেই কাজ পাইয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে; চুক্তিটিও বাতিল করেনি।
উন্নয়ন কাজ করাই সরকারের কাজ। নেতারা সাগ্রহে উন্নয়ন কাজ করেন কেউ সম্মানের আশায় আর কেউবা প্রকাশ্যে দুহাতে টাকা কামানোর জন্য। কোন সরকার যদি উন্নয়নের নামে খেয়ালখুশিমত প্রকল্প নেয় এবং আইন-কানুন না মেনে, এলাকাবসীকে আস্থায় না নিয়ে এবং জোরপূর্বক কিছু করতে যায় তখন এটা স্পষ্ট যে, এখানে কোন ঘাপলা আছে। আর জনগন যখন কোন ঘাপলা সম্পর্কে একবার সচেতন হয়ে যায় তখন সেই প্রকল্প জোর করে বাস্তবায়নের চেষ্টা না করে ইমেজ ভালো করার জন্য হলেও বাতিল করে নতুনভাবে শুরু করা উচিত, যেন কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে এবং উল্টো আরো বাহবা দেয়।
Advertisements