উন্নয়ন কাজে বাধাদানকারীদের সারাজীবন জেলে ভরে রাখার মতো আইন করুন!


আমরা এদেশের ফকিন্নীর ছেলেমেয়েরা উন্নয়ন চাই – রাস্তাঘাটের, বাসটেম্পুর, হাটবাজারের, ডাস্টবিনের, গ্যাসবিদ্যুতেরকারন কয়েক যুগ চলে যায় এখনো আমাদের ঢাকার শহরটাকেই উন্নত মনে হয়না, দেশের বাকি এলাকার কথা বাদই দিলাম।

আমরা জানি সরকারি পরিকল্পনাকারীরা শহরটাকেই আগে গুরুত্ব দেন, কেননা শহরের মানুষ খুশী থাকলে বাকি পাবলিকের ক্ষীণ আওয়াজ মিডিয়ার কানে আসবেনা। এ কারনেই দেশের বিদ্যুতের অর্ধেকের বেশি ঢাকাতেই সাপ্লাই দেয়া হয়। আমাদের শহরে বিদ্যুত মাঝে মাঝে যায়, আর দূরের কোন গ্রামে দিনেরাতে কয়েকবার বিদ্যুত আসে।

স্বৈরাচার এরশাদ তার ক্ষমতাকে জায়েজ করার জন্য দেশের প্রধান সুবিধাবাদী ও গ্রামের অশিক্ষিত ও সরলবোকা মানুষদের জন্য অনেক স্থাপনা প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। বিশেষ করে রাস্তাঘাট আর কালভার্টসেতু ইত্যাদি। পাশাপাশি সরকারি টিভিতে সেসব প্রকল্পের নামে ক্রমাগত ঢোল বাজানো তো ছিলই। তাতে কাজ হয়েছিল। এখনো অনেকেই বলে এরশাদের সময় দেশে অনেক উন্নতি হয়েছিল।

২০০১ এ ক্ষমতায় এসে নির্বাচন পরবর্তী খুনধর্ষণ, সন্ত্রাস আর দুর্নীতির মহোৎসবকে চাপা দিতে বিএনপিজামায়াত সরকারও এমন ব্যবস্থা নিয়েছিল। তাদেরও খায়েশ ছিল টানা দুই টার্ম ক্ষমতায় থাকার। কিন্তু পরিকল্পনায় গলদের কারনে তারা পারেনি।

আওয়ামীলীগ পেরেছে। যেভাবেই হোক, তাদেরকে ক্ষমতা থেকে কেউ সরাতে পারেনি।

এত বড় একটা সুযোগ। শুনেছিলাম আওয়ামীলীগকে দুইবার ক্ষমতায় আনলে নাকি দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। কথা সত্যি; দেশে এখন হাজার হাজার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান এবং লাখে লাখে নতুন প্রকল্প পাইপলাইনে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

কিন্তু আপনি যত বেশি জানবেন বা মিডিয়া যত বেশি জানাবে ততই আওয়ামীলীগের জন্য অমঙ্গল। কেননা আমরা জেনে যাচ্ছি কিভাবে অনিয়মদুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছে এবং আরো বেশি অনিয়মের মাধ্যমে সেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

হাইওয়ে, ফ্লাইওভার, চারলেন, সেতুকালভার্ট, কুইক রেন্টাল ও কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র, আবাসান প্রকল্প ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দুর্নীতিস্বজনপ্রীতিঅনিয়ম একটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে। এতোটাই সাধারণ হয়েছে যে অবৈধ ও চরম অনিয়মে নিমজ্জিত প্রকল্পের পক্ষে খোদ প্রধানমন্ত্রী ওকালতি করেন।

এত কষ্টের মধ্যেও কিছুটা বিনোদন নিয়ে আসে বিশেষ বিশেষ দিবসে সরকারপ্রধান ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সুন্দর সুন্দর কথাবার্তা; যেমন কৃষজমি ধ্বংস করে অর্থনৈতিক এলাকা করা হবে না, পরিবেশের ক্ষতি করে কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র হবে না ইত্যাদি। আবার ভুল তথ্য দিয়ে একমুখী বক্তব্য দিয়েও মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আমাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করেন।

সাত বছর তো দেখলাম; ভেবেছিলাম আপনারা হয়তো আগের আমল ও বিএনপিজামায়াতের দুঃশাসন থেকে কিছু শিখেছেন। কিন্তু না। আপনাদের চেনা হয়ে গেছে। আমলাদের চেনা হয়ে গেছে। এটা কোন জনকল্যাণমুখী দেশ নয়। এটি একটি ব্যবসাবান্ধব দেশ যেখানে ঘুষের বিনিময়ে যেকোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। যেখানে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে আমলাগামলারা জোর করে কমিশন নেন। উপহার হিসেবে নয়।

এমতাবস্থায় সরকারের কাছে নিবেদন এই যে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টিকারী সব আইন বাতিল করুন এবং উন্নয়ন কাজে বাধা দানকারীদের সারাজীবন জেলে ভরে রাখার মতো আইন করুন।

আর পরিশেষে বলতে চাই, উন্নয়ন করতে চাইলে দুর্নীতি কইরেন না; আর দুর্নীতি করতে চাইলে রাখঢাক কইরেন না। আপনারা আমাদের মাবাপ, আপনাদের ইচ্ছাই সব।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s