আবর্জনা, মশা সামলাতে ব্যর্থ ঢাকার মেয়ররা


Garbageঅনেক বড় বড় আশার ফুলঝুড়ি নিয়ে এসেছিলেন তারা। সরকারি দলের সমর্থনপুষ্ট হওয়াতে জনগনও ভেবেছিল তারা হয়তো ঢাকার নোংরা চেহারা আর প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির চিত্র বদলে দিতে পারবেন। একটা সময় হয়তো পারবেন। কিন্তু একবছরে কতটুকু পেরেছেন?

আনিসুল হক ও সাঈদ খোকনকে কত নাম্বার দেয়া যায় — বিশেষ করে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশা নিধনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়ে?

আলিশান গুলশান বা ধানমন্ডি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের মোহাম্মদপুর, মিরপুর বা লালবাগে এখনো রাস্তায় আবর্জনা জড়ো করে রাখে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়িরা। এমনকি কিছু খোলা জায়গায় সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও আবর্জনা জমা করে রাখে। একটা সময় পর ময়লার গাড়ি এসে সেসব তুলে নিয়ে যায়।

কখনো বা পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সেসব আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলছে।

সেদিন দেখলাম মোহাম্মদপুরের মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মান করা হয়েছে যেখানে আশেপাশের সব আবর্জনা এনে রাখা হবে। পরে ট্রাক এসে সেগুলো শহরের বাইরে গিয়ে ভাগাড়ে ফেলে আসবে। সেই ডাম্পিং স্টেশনের সামনেও আবর্জনার স্তুপ দেখা গেলো। ঠিক তার পেছনেই পরিবেশ রক্ষায় জাতিসংঘের বিশেষ পুরস্কার পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকার সংসদ সদস্যের একটি বিশাল ব্যানার চোখে পড়লো, যা রীতিমতো হাস্যকর।

এসব ডাম্পিং স্টেশন ও ডাস্টবিন স্থাপনের আগে আশেপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি কতটুকু পর্যালোচনা করা হচ্ছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।

ময়লা-আবর্জনার অব্যবস্থাপনার এই অসহ্য যন্ত্রনা থেকে তারা আমাদের কবে মুক্তি দিতে পারবেন হয়তো তা তারা নিজেরাও জানেন না। এই বিষয়ে তাদের পরিস্কার ধারণা নেই বলেই এই হযবরল অবস্থা।

আর মশা তাড়াতে এবং তাদের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে সিটি কর্পোরেশনের আইওয়াশ বন্ধ হওয়া উচিত। বছরের পর বছর নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ন ওষুধ ব্যবহার করে কিভাবে মশা নিধন সম্ভব? আবার খাল, ডোবা, ড্রেন ইত্যাদি সঠিকভাবে পরিচালনা না করতে পারলেও মশা নিধন অসম্ভব।

এমতাবস্থায়, কেউ যদি মশার সংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা এবং জনগনকে প্রতিনিয়ত আবর্জনার দুর্গন্ধ খাওয়ানোর জন্য মেয়রদের বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করতে চায় তাহলে তা হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

মেয়রেরা নিজেরা এসি গাড়িতে করে চলাফেরা করেন বলে আবর্জনার দুর্গন্ধ টের পাননা আবার মশার কামড় থেকেও রক্ষা পান। কিন্তু এই শহরের বেশিরভাগ মানুষেরই সেই আর্থিক সক্ষমতা নেই।

দয়া করে বাস্তবমুখী প্রকল্প গ্রহণ করুন ও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকুন। নিশ্চিত থাকুন আপনারা ভালো কাজ করলে নির্বাচনে ভোট চুরি না করেও আবার মেয়র হতে পারবেন।

Advertisements

1 Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s