ডাস্টবিনে বা ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতক শিশুর দেখা পেলেই আমরা সবাই “হায়, হায়” করে উঠি। ঠিকমতো না জেনেই এর জন্য প্রথমেই দায়ী করা হয় দুইজন মানুষের “অনৈতিক” শারীরিক সম্পর্ককে।
 
অথচ বাংলাদেশের মিডিয়ার মাধ্যমে এ যাবত এ ধরণের যত ঘটনা শুনেছি একটি বাদে কোনটির রহস্য উন্মোচিত হয়নি। মানে বাবা-মাকে পাওয়া যায়নি।
 
শুধু একটি ঘটনার পেছনের ঘটনা জানতে পেরেছি।
 
গত পহেলা ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডের একটি বাড়ির ছয়তলা দিয়ে ফেলে দেয়া শিশুটি আজ মারা গেছে। তার মা এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কারণ শিশুটি ধর্ষণের ফসল। মেয়েটির ভগ্নিপতি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেছিল।
 
সেই ধর্ষকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি এবং আশা করি স্পর্শকাতর এ ধরণের বিষয়ে সবাই আরো সচেতনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তিন সপ্তাহ ধরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর দুদিন আগে শিশুটি কেন এত অসুস্থ হয়ে পড়লো সেটা এখনো জানা যায়নি।
উদ্ধারের পর পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, নবজাতকটি নড়াচড়া একটু কম করছে। অনেক ওপর থেকে পড়ায় তার মস্তিষ্কে হালকা আঘাত রয়েছে। তবে তা গুরুতর নয়।
 
কিছুদিন আগে জানলাম জার্মানীতে কিছু সরকারি সেন্টার আছে যেখানে চাইলে কেউ নবজাতকদের রেখে আসতে পারে। সেটা ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয়া শিশু হতে পারে বা তার বাবা-মা সন্তান পালনে আর্থিক বা সামাজিকভাবে অক্ষম হলেও হতে পারে।
এ ধরণের জনকল্যানমূলক উদ্যোগ হয়তো বাংলাদেশে সম্ভব নয়। কিন্তু বিষয়টি ভাবনার উদ্রেগ করে বৈকি, অন্ততঃ দেশে যখন ধর্ষণ-গনধর্ষণ মহামারীর আকার ধারণ করেছে।