medicine_webওষুধ এবং খাদ্য প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, আর সেসব উপাদানে বা পণ্যে যখন অধিক লাভের আশায় ব্যবসায়িরা বিষাক্ত উপাদান মেশায় তখন আমাদের মতো জনসাধারণ তা ধরতে পারেনা।

এসবের কুফল আমরা জানতে পারি পত্রিকা/টিভি দেখে বা বই পড়ে। যারা খাবার বা ওষুধে বিষাক্ত কিছু মেশায় তারা নিশ্চয়ই জানে তারা কি করছে। শুধু গায়ে লাগায় না এই যা।

গত বছরের জুলাইয়ে ঢাকার ড্রাগ কোর্ট একটি মামলায় (এডফ্লেম ফার্মা) আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিলো। খুশি হয়ে গিয়েছিলাম এইটুকু শুনে। পরমুহুর্তে আমার ভুল ভাঙ্গলো। সর্বোচ্চ শাস্তি তো দেখি মাত্র ১০ বছর। তাও আবার একজন আসামী শাস্তি পাবার পরেও হাইকোর্ট থেকে জামিন বের করে নিলো! নব্বইয়ের দশকে ৭৬টি শিশুর মৃত্যুর জন্য ১৯৯২ সালের এই মামলা বিচারিক আদালতে শেষ হতে লাগলো ২২ বছর। এখনো হাইকোর্ট আর আপীল বিভাগে শুনানী বাকি আছে। বাদী থেকে শুরু করে আদালতের কর্মচারী, পুলিশ ও আইনজীবীরা মারাত্মক খামখেয়ালীর নজির রেখে গেছে এই মামলায়।

এ বছর ১৭ই আগস্ট রায় হলো আরো একটি মামলার (বিসিআই)। সেখানেও সর্বোচ্চ শাস্তি, সেই ১০ বছর।

এরকম আরো তিনটি কোম্পানীর বিরুদ্ধে বিষাক্ত ওষুধ তৈরি করে শিশু হত্যার অভিযোগ আছে, কিন্তু মামলা চলমান আছে দুটির বিরুদ্ধে — পলিসেম এবং রিড ফার্মা।

আমার আপত্তি হলো সর্বোচ্চ শাস্তিতে। ১৯৮২ সালের এই আইন নিয়ে আদালতের বিচারক কোন মন্তব্য করেননি। কোন আইনজীবী বা মানবাধিকার কর্মীকে দেখলাম না রাস্তায় বা সভা-সেমিনারে এই আইনকে আরো কঠোর করার পক্ষে কথা বলতে। মন্ত্রী বা আইনপ্রনেতারাও চুপ!

আইনটি অত দ্রুত কঠোর করা উচিত, কেননা সরকারের তথ্যমতে দেশের বেশিরভাগ ওষুধ কোম্পানী দেশীয় বাজারের জন্য নিম্নমানের ওষুধ তৈরি করে। এছাড়া ভেজাল ওষুধের কারখানা চিহ্নিত ও সিলগালা করার খবর তো হরহামেশাই পাওয়া যাচ্ছে।

যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদন্ডের বিধান কেন থাকবে না? কেউ যদি সজ্ঞানে এবং লোভের বশবর্তী হয়ে কারো মৃত্যুর কারন হয় তবে তারা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কেন হবেনা? কোম্পানীর মালিকরা অনেক টাকা ঘুষ দিতে পারে বলে?

অন্যদিকে ফল-মূল, মাছ, সব্জি ও অন্যান্য খাদ্যশস্যে বিষের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এসব খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে অসুখ-বিসুখ পিছু ছাড়বেনা। কিন্তু জনসাধারণের জন্য খাদ্য দেখে বিষ চিহ্নিত করা সহজ কাজ নয়। ওষুধের মতো খাবারে বিষাক্ত উপাদান মেশানো বন্ধ করতে দরকার সরকারের বলিষ্ঠ ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। ঢাকাসহ দেশজুড়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার অবস্থা এতোই নাজুক যে, ঠিকমতো কাজ করলে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের ঘুম হারাম হয়ে যাবে!

Advertisements