অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, প্রথমত যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের দল, যারা এদের উস্কানী দিচ্ছে সেইসব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুরা, এবং সর্বোপরি ক্ষমতাবানেরা সাম্প্রতিক ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের শিকারে পরিণত হবেনা। হবে বৌদ্ধ ও হিন্দুরা, আদিবাসীরা, দলিত সমাজের সদস্যরা, সংখ্যালঘু মুসলিম গোষ্ঠী যেমন শিয়া, আহমদীয়া ও আহলে হাদিসের সমর্থকেরা, এবং অসাম্প্রদায়িক ও ঈশ্বরে অবিশ্বাসীরা।

সুবিধাবাদী ও সুবিধাভোগীদের দল ক্রমশঃ বড় হচ্ছে।

এসব উগ্রপন্থী জঙ্গিদের সাথে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি এবং সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা না থাকলে এরা এতোটা দুঃসাহসী হতে পারতো কিনা সন্দেহ।

তার মানে এই নয় আওয়ামীলীগ নিজের সুবিধার্থে জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে এবং দরকার মতো তাদের ব্যবহার করছে। হতে পারে কোন জেলার গুটিকয়েক নেতা কোন একটি জঙ্গি দলকে সহযোগিতা করছে।

২০০১-০৬ জোট সরকারের আমলে বিএনপি-জামায়াত ও আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারা ব্যাপকহারে জেএমবি ও জেএমজেবি’র আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইকে, এবং হুজি’র মুফতি হান্নানকে সহায়তা করেছিল।

খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান থেকে শুরু করে মন্ত্রী-উপমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরাও জঙ্গিদের নানা কর্মকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল।

২০১২ থেকে জঙ্গিরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত কোন আওয়ামীলীগ নেতার সাথে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে জোটের দল জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর (ভাতিজা) সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

নিষিদ্ধ দলগুলোর সাথে প্রকাশ্যে যোগাযোগের খবর পাওয়া না গেলেও বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার সাথে উগ্রপন্থী হেফাজতে ইসলাম, ওলামা লীগ ও খেলাফতে মজলিসের ধরম মহরমের ধারণা পাওয়া যায়।

তবে এটা নিশ্চিত যে, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত যেহেতু সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি, তারা নানা ঘটনা ঘটিয়ে একটা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। আগামী নির্বাচনের আগে পর্যন্ত এমনটি চলতেই থাকবে।

আজ বগুড়ায় শিয়া মসজিদে ঢুকে গুলির ঘটোনা, রংপুরে পাদ্রিদের হত্যার হুমকি, পাবনা ও দিনাজপুরে যাজকদের হত্যার চেষ্টা, খিজির খান হত্যা, হোসাইনি দালানে শিয়া মিছিলের উপর হামলা ইত্যাদি ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শংকিত তারাই যারা উগ্রপন্থাকে সমর্থন করেনা এবং কোন ধরণের সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী নয়।

এটা বড় লজ্জার যে, এক সময়ের গনমুখী বাংলাদেশ আজ টাকাওয়ালা আর রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের জন্য স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এর সহসা কোন সমাধান নেই। আগামী কয়েক যুগ ধরে এই ধর্মীয় উন্মাদনা চলতেই থাকবে – প্রাণ হারাবে আরো কিছু মানুষ, সম্মান হারাবে বাংলাদেশ।

আর তখনো পকেটে হাত ঢুকিয়ে বসে থাকবে সুশিক্ষিত ধর্মীয় নেতা ও অনুসারীরা।

Advertisements