আজকাল নিজের বাসা ছাড়াও রাস্তাঘাটে, বাজার-শপিং মলে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়,কর্মক্ষেত্র আর ইন্টারনেটে নানাভাবে নারী ও মেয়ে শিশুরা যৌন হয়রানি, শারীরিক লাঞ্ছনা ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। যেহেতু এসব ঘটনায় মিডিয়া, পুলিশ ও বিচারবিভাগ আগের চেয়ে বেশি সচেতন, সেহেতু অনেক নির্যাতিতাই আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন এবং দেরীতে হলেও সুবিচার পাচ্ছেন।

তবে দুঃখের বিষয় হলো অনেক শিক্ষিত-শহুরে নারীই জানেন না এ ধরণের অপরাধ দমনের জন্য পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া আছে। মামলা করতে চাইলে পুলিশ সহযোগিতা করতে বাধ্য। সহযোগিতা না পেলে অন্য কোন থানা বা আদালতে সরাসরি মামলা করতে পারেন। তাছাড়া সাংবাদিকদের মাধ্যমেও আইনি পরামর্শ পেতে পারেন।

Helplineঘটনা সংঘটনের সাথে সাথে প্রতিকার চাইলে সংশ্লিষ্ট থানা ছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে হেল্পলাইন আছে কমপক্ষে তিনটি।

  • নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনে হেল্পলাইন ১০৯২১ (যেকোন নাম্বার থেকে),
  • ঘটনা ঢাকার কোন এলাকায় ঘটে থাকলে ডিএমপির সাথে যোগাযোগ করুন এই দুটি নাম্বারে ০১৭৪৫৭৭৪৪৮৭, ০১৭৫৫৫৫৬৬৪৪,
  • এছাড়াও ইন্টারনেটে কোনভাবে যৌন হয়রানির শিকার হলে ফোন করুন এই নাম্বারে ০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮!

# যৌন নিপীড়ন কি ও শাস্তি

সংবিধান ও নানা আইন সম্পর্কে ধারণা থাকলে দেশের নাগরিক হিসেবে আইনি সহায়তা নেবার আগ্রহ ও সাহস জন্মায়। কয়েকটি আইন ও নারী উন্নয়ন নীতিতে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি রোধে বেশকিছু নির্দেশনা আছে। আপনি বা আপনার পরিচিত অনেক নারীই এ ধরণের সমস্যায় পড়ছে প্রতিনিয়ত।

আপনার টাকা-পয়সা বা রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও থানায় গিয়ে আপনি আইনের সহায়তা চাইতে পারেন। বিফল হলে আদালতে গিয়েও মামলা করতে পারেন।

# ঢাকা মহানগরী পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬
ধারা -৭৬

যদি কেহ কোনো রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বা সেখান হইতে দৃষ্টিগোচরে স্বেচ্ছায় এবং অশালীনভাবে নিজ দেহ এমনভাবে প্রদর্শন করে যাহা কোনো গৃহ বা দালানের ভিতর হইতে হউক বা না হউক, কোনো মহিলা দেখিতে পায়, অথবা স্বেচ্ছায় কোনো রাস্তা বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে কোনো মহিলাকে পীড়ন করে বা তাহার পথ রোধ করে অথবা রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে অশালীন ভাষা ব্যবহার করিয়া অশ্লীল আওয়াজ, অঙ্গভঙ্গি বা মন্তব্য করিয়া কোনো মহিলাকে অপমান বা বিরক্ত করে, তবে সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদন্ড অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানাদন্ড অথবা উভয় প্রকার দন্ডে দন্ডনীয় হইবে।

 

# দন্ডবিধি, ১৮৬০
ধারা-৩৫৪

যে ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতা নষ্ট করিবার অভিপ্রায়ে বা সে তদ্দারা তাহার শালীনতা নষ্ট করিতে পারে জানিয়া তাহাকে আক্রমণ করে বা তৎপ্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে সেই ব্যক্তি যেকোনো বর্ণনার কারাদন্ডে-যাহার মেয়াদ দুই বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে বা অর্থদন্ডে বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।

# ধারা-৫০৯

যে ব্যক্তি কোনো নারীর শালীনতার অমর্যাদা করিবার অভিপ্রায়ে এই উদ্দেশ্যে কোনো মন্তব্য করে, কোনো শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি করে বা কোনো বস্ত্ত প্রদর্শন করে যে উক্ত নারী অনুরূপ মন্তব্য বা শব্দ শুনিতে পায় বা অনুরূপ অঙ্গভঙ্গি বা বস্ত্ত দেখিতে পায়, কিংবা উক্ত নারীর নির্জনবাসে অনাধিকার প্রবেশ করে, সেই ব্যক্তি বিনাশ্রম কারাদন্ডে-যাহার মেয়াদ এক বৎসর পর্যন্ত হইতে পারে বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।

# নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)
ধারা-১০

যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্ত্ত দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানী করেন তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ১০ বৎসর কিন্তু অনূন্য ৩ বৎসর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

ধর্ম শিক্ষাও ধর্ষণ ঠেকাতে ব্যর্থ!

ঢাকার পথে-ঘাটে আমাদের মেয়েরা কেমন আছে?

দেখি, দেখিনা: একটি যৌন সন্ত্রাসের গল্প

ভুল চাল

বাসে গনধর্ষণঃ মেয়েরা কি ধর্ষকদের ভয়ে ঘরে বসে থাকবে?

Child rape, gang-rape become alarming in Bangladesh!

যে কয়টা নারী নির্যাতনের ঘটনা চোখে পড়ে তা কি যথেষ্ট লোমহর্ষক নয়!

ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয়া শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের

ধর্ষণের সংবাদঃ দুঃস্বপ্নের কয়েকটা মুহুর্ত

Finally shameless police admit DU sexual assaults!

Bangladesh: Even gang rape cases are neglected!

প্রিপারেটরি স্কুলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ঘৃন্য আচরণ!

Advertisements