এক লোক ৫লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধোর করতো। গত ১৪ই আগস্ট তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেয়। নির্যাতিতা নারী আইনের দ্বারস্থ হলে আদালত গত ২০শে সেপ্টেম্বর সেই টাকাপাগল লোকটির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

কিন্তু এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, সে নিজেও আদালতে আত্মসমর্পণ করেনি। উল্টো সে এখন তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।

ঘটনা সম্পর্কে জেনে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন সেই ব্যক্তিটি ক্ষমতাধর। হুম…সে আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কম্পিউটার অপারেটর ছিল, এখন স্বরাষ্ট্র সচিবের নিরাপত্তা কর্মকর্তা! নাম মিজানুর রহমান।

যৌতুকের প্রকোপ শহরে-গ্রামে সবখানে কমবেশি দেখা যায়। যৌতুক দিতে পারলে কোন সমস্যা নেই, কেউ জানবে না। কিন্তু না দিতে পারলে স্ত্রীদের উপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলে। আগে নারীরা নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতেন না, কিন্তু যত দিন যাচ্ছে নারীরা প্রতিবাদমুখর হচ্ছেন, ডিভোর্স নিচ্ছেন এবং থানায় মামলা করছেন। ফলে নির্যাতনের ঘটনা সংবাদপত্রে আসছে এবং যৌতুকবিরোধী প্রচারণা বাড়ছে।

প্রকাশিত ঘটনার সংখ্যা কম হলেও সারাদেশে ঘটে যাওয়া যৌতুক সংক্রান্ত নির্যাতন, খুন ও আত্মহত্যার ঘটনা নেহাত কম নয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাব বলছে, গত পাঁচ বছরে শুধু যৌতুকের কারণে এক হাজারের বেশি নারী হত্যার শিকার হয়েছেন। এর বাইরে আত্মহত্যা, শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের ঘটনা তো আছেই। ২০১০ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে ১,২৪৩জন নারীকে শুধু যৌতুকের কারণে স্বামী ও স্বজনেরা হত্যা করেছেন।

এর বাইরে একই সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ১,০৩৪ নারী। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসেই হত্যা করা হয়েছে ৯৭ জন নারীকে। নির্যাতনের শিকার ৭৫ জন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ি, ২০০৭ সালে ১৬, ২০০৮ সালে ৭, ২০১৩ সালে ২১ এবং ২০১৪ সালে ১১জন নারী যৌতুকের কারণে আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া গত বছর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৬৩ জন নারীর।

যৌতুক নিরোধ আইনে বিভিন্ন অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ কঠোর সাজার কথা বলা আছে। কিন্তু সামাজিক সম্মান রক্ষা, পুলিশের গাফিলতি ও হয়রানি আর নির্যাতনের ভয়ে অনেক নারী আইনের দ্বারস্থ হন না অথবা ন্যায়বিচার পান না।

Advertisements