শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের চূড়ান্ত রায়ের পর কি হবে?


জামায়াতে-ইসলামির তিন কান্ডারী — নিজামী, মীর কাশেম ও মুজাহিদ — এখন ফাঁসির অপেক্ষায়। লাইনে আরো আছে সাকা চৌধুরী।

মুজাহিদের শাস্তি কমার কোন সম্ভাবনা দেখছি না, কেননা সে দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইবে না; যেমনটি ঘটেছিল কাদের মোল্লা, সাঈদী ও কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে। আর মুজাহিদের আপিল মামলায় পূর্ণ রায় বের হবার পর রিভিউ পিটিশন দাখিলের সুবিধা থাকলেও, সেক্ষেত্রে শাস্তি পাল্টাবে না, কেননা তখন শুধু বানান ভুলের মত ছোট ছোট বিষয়ে সংশোধন করা হয়। সুতরাং মাসখানেকের মধ্যেই তার শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে।

এদিকে জামায়াতবন্ধু সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদন্ডও ঝুলে আছে। বিচারপতিরা মুজাহিদ মামলার পরপর সাকার মামলা শুরু করে দ্রুত শেষ করে দিলেও মাসাধিককাল পেরিয়ে গেলেও পূর্ণরায়ের দেখা নেই।

জামায়াত তাদের টাকার জোর আর মুসলিম দেশের সমর্থনে আর দেশের মূর্খ ও দুইনাম্বার জনগনের সহায়তায় কতটা ধ্বংসমুখর হতে পারে তা দেশবাসী ২০১৩ সালে সাঈদীর রায়ের পর প্রত্যক্ষ করেছে।

আমরা এও দেখেছি যে, এত প্রাণের বিনাশ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তিমালাকানার সম্পদ নষ্ট আর অপপ্রচারের পরেও মহান আওয়ামীলীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি বা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেয়নি। যেসব মামলা করা হয়েছিল, তার প্রায় সবগুলোই চলছে ধীর গতিতে। অন্যদিকে মামলার হাত থেকে রেহাই পেতে কোন কোন জায়গায় পাকিস্তান-প্রেমী জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আওয়ামীলীগে যোগ দিচ্ছে।

সত্যিই সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ!

যেই রাষ্ট্রপক্ষের ভুলের জন্য সাঈদীর মৃত্যুদন্ড কমাতে বাধ্য হয়েছিলেন আপীল বিভাগের বিচারপতিরা, সেই রাষ্ট্রপক্ষ এখন বলছে তারা আশাবাদী যে রিভিউ-এ মৃত্যুদন্ড বহাল হবে!

বাংলাদেশের মীরজাফরদের (পাকিস্তানের স্বেচ্ছাসেবকদের) শাস্তি কার্যকর হলে জামায়াত-শিবির বিলীন না হলেও মুখ থুবড়ে পড়বে এটা নিশ্চিত। ২০০৯-এ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই তারা অবশ্য এটা বুঝতে পেরেছিল, আর তাই ছোট ছোট জঙ্গি গ্রুপ তৈরি করে আর আওয়ামীলীগবিরোধী জোটকে ক্ষেপিয়ে তুলে তারা ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন খুচরা ইস্যুতে ইতিমধ্যেই ধর্মভিত্তিক দলগুলো একাট্টা হয়ে গেছে।

জানেন তো, জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তারা নাস্তিক ও ইসলাম-বিদ্বেষী? — সেই একাত্তরে এবং ২০১৩ থেকে এখন পর্যন্ত!

রায়ের আগে ও পরে আগের মতো সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কেননা তারা সহজ টার্গেট এবং তাদের পুলিশ প্রটেকশন নেই। কিন্তু আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার কি এবার সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারবে?

দুইটা খুচরা আলাপঃ

# ১৯৯১ সালে হবিগঞ্জের জামায়াত নেতা মাওলানা সাইদুর রহমানের সাথে আলোচনায় মুজাহিদ বলেছিল একাত্তরের ১৪ই ডিসেম্বর সব বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে পারলে আর কেউ কোনদিন জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেতো না। সেই সাইদুর পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়।

# একাত্তরে সাকা-ফকার বাড়ি গুডস হিলের নির্যাতন কেন্দ্রে সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমও ছিল। ছাত্রলীগ ছেড়ে কনভেনশন মুসলিম লীগে যোগ দেয়া ওয়াহিদুল এখন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। সাতকানিয়ার এই প্রাক্তন সংসদ সদস্য ২০০১-০৬ পর্যন্ত সংসদের হুইপ ছিল। তার মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা সম্প্রতি নতুন জঙ্গি গ্রুপ শহীদ হামজা ব্রিগেডকে কোটি টাকা দেয়ার কারনে ধরা পরেছে।

এর আগে সাকার পরিবার টাকার বিনিময়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের খসড়া কপি ফাঁস করে ধরা পড়ে মামলা খেয়েছে। তবে কাশিমপুর কারাগারে এক বন্দীকে যৌন নির্যাতন করার মামলাটির কোন অগ্রগতি গত দুই বছরে পাওয়া যায়নি!

তাছাড়া ট্রাইব্যুনালে মামলা চলাকালীন সময়ে ও আপীল বিভাগের শুনানীতেও সাকা ও তার আইনজীবীরা দাবী করেছিল সাকা নাকি তার ২৯শে মার্চ থেকে ২০শে এপ্রিল ১৯৭৪ পর্যন্ত তার জন্মস্থান পাকিস্তানে ছিল; মানে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভুয়া আর সে ঝকঝকা মানুষ!

১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে ১৯৯২ সালে নিজামীর ব্যাখ্যা

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s