দেখি, দেখিনা: একটি যৌন সন্ত্রাসের গল্প


Men Can Stop Rape!
Men Can Stop Rape!

===দেখি, দেখিনা===

ছেলে বাইরে যাচ্ছিলো, ডাইনিং টেবিলে বসা বাবা তাকে থামালেন, পাশে বসতে বললেন।

ছেলেটি উসখুশ করে বসলো, তাড়া দিলো ‘তাড়াতাড়ি বলো, আমাকে জলদি এক জায়গায় যেতে হবে।’

বাবা জিজ্ঞেস করলেন ‘কোথায় যাবে? কেউ অপেক্ষা করছে?’

ছেলের উত্তর ‘হুম।’

নরম মনের ভদ্রলোক ছেলেকে বললেন ‘আজকেও কি ইডেন কলেজের সামনে, গাউসিয়া যাবে?’ ছেলে চমকে উঠে।

আমতা আমতা করতে থাকে। বলে ‘বন্ধুদের সাথে ঘুরবো।’

বাবার প্রশ্ন ‘তোমার কি সারা বছর ঈদ লেগে থাকে?’

ছেলের মাথা গরম হতে থাকে…’কেনো? কি করলাম আমি? মা, দেখো, বাবা আমাকে হয়রানি করছে।’ অন্য ঘরে ছিলেন মা, উত্তর দেননা।

বাবা বলেন ‘নীলক্ষেত থেকে বাসে করে কোথায় যাচ্ছিলে?’

ছেলে বলে ‘লালমাটিয়া। বন্ধুর বাসায়।’

বাবা চোখ গরম করেন ‘মিথ্যা কথা বলবিনা হারামী। মহিলা কলেজের সামনে কেন দেখা গেল তোকে? তুই কি জানিস না তোর বোন সেই কলেজে পড়ে, ওর বান্ধবীরা তোকে চেনে? ইডেন কলেজে তোর মায়ের আত্মীয় একজন শিক্ষক, জানিস না? গাউসিয়া, নিউ মার্কেটে হাজার হাজার মেয়ের মধ্যে দুই-একজন পরিচিত থাকতে পারেনা?’

বাবার এই মূর্তি আগে দেখেনি ছেলেটি। নিরুপায় হয়ে আবার মাকে ডাকে সে। মা সাড়া দেননা। সে বুঝতে পারে তার কর্মকান্ডের অনেক কিছুই বাবা জেনে গেছে। গত কয়েকমাসে সে অনেকবার এসব এলাকায় গেছে, আর বন্ধুদের সাথে ঘুরে ঘুরে মেয়ে দেখেছে, গায়ে হাত দিয়েছে, মন্তব্য করেছে… এক বন্ধুর সাবেক প্রেমিকাকে উঠিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করার কথা ছিলো আজকে; ভাবছে বাবা কি সেটাও জেনে গেছে!

‘আমার সম্পর্কে কি জানো তুমি? সারাদিন তো বাসায় বসেই থাকো।’

বাবা রাগে গজগজ করছিলেন, এরপর কি বলবেন ভাবছিলেন, কেননা পরের কথাগুলো বলতে তার কষ্ট হচ্ছে। জীবনে কখনো ভাবেননি তার ছেলে চোখের আড়ালে গিয়ে এত কিছু করে বেড়াচ্ছে। সততা, নৈতিকতা সব গুলে খেয়েছে।

‘কদিন আগে ইডেন কলেজের সামনে যে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেছিলে একরাতের জন্য রেট কতো, সে তোমার বোনের বান্ধবী। সেই মেয়ে তার শিক্ষককে তোমার ছবি দেখিয়ে অভিযোগ করেছে। আর গতকাল বাসে তোমার সামনে পর্দাপড়া মহিলাটি ছিলেন তোমার মা, যাকে তুমি অসভ্যের মতো…আমি জানিনা তুমি আর কি কি করে চলেছো প্রতিদিন, কিন্তু আর নয়। আমার চোখের সামনে থেকে যাও এবং আর কোনদিন আমার সামনে আসার সাহস দেখাবে না।’

ছেলেটি বুঝতে পারছিলো আজই তার শেষ দিন। তাই হেনস্তা না করে সে যাবেনা। এসব কথা বাইরের কেউ জানলে সে আর মুখ দেখাতে পারবেনা। তাই বুড়া-বুড়িকে বটি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে, আলমারি থেকে টাকা-গহনা নিয়ে, ব্যাগ গুছিয়ে অজানা দেশে পাড়ি জমালো ছেলেটি।

তার ছোট বোনটি, যে কিনা তখন কলেজে ছিলো, গত কয়েক বছর ধরে নানাভাবে হেনস্তা হয়েছে তার এই ভাইটির কাছে, কিন্তু কাউকে বলতে পারেনি — লজ্জায় আর ভয়ে।

4 comments

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s