This slideshow requires JavaScript.

ঢাকার নামকরা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে সম্প্রতি তিনটি শিশু ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। শেষেরটি ঘটে ৫ই মে, আর সে বিষয়ে শিশুটির অভিভাবকরা অভিযোগ করেন ৯ই মে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১৩ই মে অভিভাবকরা রাস্তায় নামেন। তাদের দাবি অভিযুক্তের শাস্তি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার জন্য অব্যাহতি ও নিরাপত্তা বাড়ানো।

আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্কুলটির প্রায় দুইশ অভিভাবক এ উপলক্ষে বিক্ষোভ করে। এসময় তারা জড়িতদের গ্রেফতার ও চার দফা দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন করে। দাবিগুলো হচ্ছে-স্কুলের সব কর্মচারী যেমন গার্ড পিয়নে নারীদের নিয়োগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয় এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, স্কুল/কলেজ ভবনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট বন্ধ করে দিতে হবে, যে ভবনে ধর্ষণ চেষ্টা ঘটে সেটির কাজ বন্ধ করা।

আজ স্কুলের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। দোষীদের বিচার দাবিতে রাজধানী বিভিন্ন স্কুল-কলেছে তিন শতাধিক ছাত্র মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের সামেন অবস্থান নিয়েছে।

ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ জানাতে গেলে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা জিন্নাতুন্নেছা অভিভাবকদের বলেছিলেন, ‘মধু থাকলে মৌমাছি আসবেই’ । এছাড়া তিনি নারী অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ‘ আপনাদের বাসায় যখন স্বামীরা একা থাকেন তখন কাজের বুয়ার সঙ্গে তারা কী করেন তা কি আপনারা দেখতে পান।’

image

দুপুরে ধর্ষকদের পক্ষ নেয়ায় ভাইস-প্রিন্সিপাল জিন্নাতুননেছা ও সকল পুরুষ কর্মীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আজ তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেয়ার কথা থাকলেও তাদের আরো তিনদিন সময় দেয়া হয়েছে! ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ম তামিম জানালেন। অভিযুক্ত কর্মচারী গোপালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিভাবককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দারোয়ান শরীফুল ইসলামকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্কুলের প্রতিটি টয়লেটের সামনে একজন করে আয়া নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বাথরুম সমস্যাসহ নানা অভিযোগ আসার পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলো সংস্কারেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তামিম।

উপাধ্যক্ষ জিনাতুন নেছার এক মন্তব্যও তাদের ক্ষুব্ধ করেছিল। পাশাপাশি স্কুলের ‘সুনাম ক্ষুণ্ন’ করতে একদল অভিভাবক বিক্ষোভ করছে বলে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানানোয় তাতে উত্তেজিত ছিল অভিভাবকরা। অধ্যক্ষ মাঠ ছেড়ে স্কুল ভবনের তিন তলায় নিজের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে কয়েকজন অভিভাবক তাকে লাঞ্ছিত করেন। তিনি ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে আশ্রয় নিলে সেই কক্ষের জানালা-দরজার কাচ ভাংচুর করে অভিভাবকরা। এ অবস্থায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানসহ এলাকার বেশ কয়েকজন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন। ততক্ষণে পুলিশও হাজির হয় ক্যাম্পাসে। তবে পরিস্থিতি জটিলতার দিকে মোড় নিলে উপস্থিত হন স্কুলের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ম তামিম। তিনি বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে অভিভাবকরা শান্ত হন।

এই ঘটনা সম্পর্কে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেউ মোহাম্মদপুর থানায় অভিযোগ করেনি বলে জানান মোহাম্মদপুর  থানার ওসি  আজিজুল হক। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংশ্রিষ্ট শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগই আমরা পাইনি।” তবে স্কুলের ‘সুনাম ক্ষুণ্ন’ করতে একদল অভিভাবক বিক্ষোভ করছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছেন বলে জানান ওসি।

ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান হলেন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, মোহাম্মদপুরের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক।

ঘটনাক্রমঃ

৫ই মেঃ ইংরেজি মাধ্যম শাখার প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে মুখ চেপে ধরে বিদ্যালয়ের পেছনে নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের থাকার একটি কক্ষে নিয়ে যায়  এক ব্যক্তি। পরে অন্য ছাত্রীরা চিৎকার করলে শিশুটিকে ছেড়ে দেয় লোকটি। ঘটনার শিকার শিশুটি ভয়ে এ বিষয়ে তার অভিভাবকদেরও কিছু বলেনি। পরদিন শিশুটিকে নিয়ে তার মা স্কুলে এলে শিশুটির অন্য সহপাঠীরা মাকে বলে, ‘আন্টি, ওকে গতকাল ডাকাত ধরেছিল। ছুরি দেখিয়ে ঘরে নিয়ে গিয়েছিল।’ ওই অভিভাবক পরে শিশুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে কোন ঘরে তাকে নেওয়া হয়েছিল তা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ৯ মে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।

৮/৯ই মেঃ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

১৩ই মেঃ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে স্কুল ক্যাম্পাসে দুই শতাধিক অভিভাবক বিক্ষোভ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পরে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন এসে অভিভাবকদের নিবৃত্ত করেন। বেলা ১১টার দিকে স্কুলে গেলে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাঁদের অভিযোগ কলেজ কর্তৃপক্ষ শিশু ধর্ষণচেষ্টার বিষয়টিকে কোনো আমলেই নিচ্ছে না। আট দিনেও এর কোনো প্রতিকার করেনি কর্তৃপক্ষ। শুধু এই শিশুটি নয়। অতি সম্প্রতি পঞ্চম ও চতুর্থ শ্রেণির আরও দুটি শিশু এ রকম ঘটনার শিকার হয়েছে। তবে তাঁরা কেউই ওই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেননি। তবে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নিগ্রহের অভিযোগটিকে গুজব হিসেবে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অভিভাবকদের ভাষ্যমতে ৫ মে শিশুটি যখন খেলছিল, তখন কে বা কারা তার মুখ চেপে ধরে একটি ঘরে নিয়ে যায়। পরে ছেড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত শিশুটির কোনো ক্ষতি হয়নি। ৬ মে শিশুটি ক্লাসও করেনি। এর পরের দুই দিনেও অভিভাবকেরা কিছুই জানাননি। চার দিন পরে ৯ মে ওই শিশুটির অভিভাবকসহ আরও কয়েকজন অভিভাবক বিদ্যালয়ের রেক্টরের কক্ষে গিয়ে মৌখিকভাবে ঘটনাটি জানান এবং ঘটনার বিচার না করলে বিক্ষোভের হুমকি দেন। ওই দিনই কলেজ শাখার শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির কাছে শিশুটি যে লোকটিকে দোষী হিসেবে শনাক্ত করেছে, সে ৫ মে ওই স্কুল ক্যাম্পাসে ছিল না বলে জানা গেছে। এ কারণে গতকাল কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও কমিটি আরও তিন কার্যদিবস বেশি সময় চেয়েছে।

১৪ই মেঃ 

 

 

 

 

 

Advertisements