২০০৯ সাল, আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের সরকারের পরিকল্পনা ছিল প্রতীকী যুদ্ধাপরাধের বিচার। অল্প কয়েকজনের বিচার হবে এবং তাদের গুরুদন্ড দেয়া হবেনা। এমনটিই জানা যায় উইকিলিকসের ফাঁস করা আমেরিকান দূতাবাসের তারবার্তায়। এই তারবার্তাটি লিখেছিলো জেমস এফ মরিয়ার্টি  ২২শে জুন, ২০০৯-এ। আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের সাথে তার কথা হয় ১৮ই জুন ২০০৯

২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে বহুপ্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুরুতেই সমালোচনার মুখোমুখি হয়। এর তদন্ত দলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পায় আব্দুল মতিন নামের এক প্রাক্তন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা। পরে তাকে সরিয়ে দেয় সরকার। কে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল তা এখনো অজানা। আবার রাজাকারদের গুরু গোলাম আযমের বিচার প্রথমে না করে শুরু হলো সাঈদীর মামলা। তদন্ত মোটামুটি ভালোই চলছিলো, সমস্যাটা হয়েছিল মামলার অভিযোগ ও তথ্য-প্রমান দাখিলে।

একই রকম সমস্যা দেখা গেছে অন্যান্য মামলাতেও, যার প্রভাব পড়েছে রায়ে। আদালতের প্রতিদিনকার কার্যক্রমে বুঝা গেছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অদক্ষতা কতটা ক্ষতি করেছে ঐতিহাসিক মামলাগুলোকে।

তবুও চলছে মামলা, আসছে রায়। নতুন নতুন মামলাও শুরু হচ্ছে। দুইটি আদালত একাধিক মামলা দেখছে।

কিন্তু জট লাগছে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে। যেখানে একটিমাত্র বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপীল শুনানী করে, তাও আবার অন্যান্য নিয়মিত মামলার পাশাপাশি।

সরকার দুইটা ট্রাইব্যুনাল করতে পারলো, কিন্তু একটা বিশেষ বেঞ্চ করতে পারে না…এইটা বিশ্বাসযোগ্য না।

একসময় বিচার করতে না চাইলেও, জনগনের চাপে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামীলীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিল। গুরুদন্ড যেন না হয় সরকারের এই পরিকল্পনা না থাকলেও আইন অনুযায়ি শাস্তি এখন ঠিকই দিতে পারছে আদালত। তেমনি, আপীল বিভাগে মামলাগুলোকে ধীরগতিতে চালানোর অনাকাঙ্ক্ষিত দুরভিসন্ধিকেও মাথানত করতে হবে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী বাংলার মানুষের চাপের মুখে।

আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। লাখো শহীদ ও ধর্ষিত মুক্তিযোদ্ধার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে সমকালীন ও আগামী প্রজন্ম এই ক্ষমতাশালী সরকারকে ক্ষমা করবে না ।