Padma Bridge_mosharrafপদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার আসামী জামিনে থাকা অবস্থায় সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়াকে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য করে সরকার কি বুঝাতে চাইলো?

২০১২ সালের ৮ই আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে দুদকে যান সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের এই খাসচ্যালা।

বের হয়ে সাংবাদিকদের যা বলেন তা এইরকমঃ “আমি নির্দোষ, পদ্মা সেতু প্রকল্পে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আছে, তবে সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিরুদ্ধে একটি চক্র কাজ করছে। বিশ্ব ব্যাংকের integrity department-এর কিছু অদক্ষ কর্মকর্তা অভিযোগ তুলে ভুল বুঝানোর চেষ্টা করছে।”

২০১২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর দুদকের করা মামলায় ৭ আসামীর একজন মোশাররফ। মামলার পরপর পলাতক থাকায় গোয়েন্দারা ২৬শে ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে দুদক অফিসে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আদালতে।

আগে বুক ফুলিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করলেও মামলা হওয়ার পর আর তার বুকে সেই সাহস ছিলনা।

এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ শাহের ডাইরিতে যে কয়জনের নামের সাথে ঘুষের টাকার পার্সেন্টেজ লেখা ছিল তাদের মধ্যে এই মোশাররফও ছিল। তার ভাগে ছিল ১%।

গ্রেপ্তার হওয়ায় ২৬তারিখ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ায় গতবছরের ৫ই জুন বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে ওএসডি করা হয়।

২৬শে জুলাই তিনি দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সাথে শুভেচ্ছা সাক্ষাত করতে তাদের অফিসে যান।

অর্থমন্ত্রী মাতাল মুহিতের মতে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা দুর্নীতি করেনি, কানাডিয়ান এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছে মাত্র। টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি।

আর প্রধানমন্ত্রী তো আবুল হোসেনকে ‘দেশপ্রেমিক’ খেতাব দিয়েছিলেন। তবে ১০ম সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোয়নয়ন দেননি। একই সাথে নির্বাচনের আগে আগে ফরিদপুরের এক জনসভায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে ‘পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সাথে জড়িতদের’ ভোট না দিতে এলাকাবাসীকে বলেন তিনি। দুর্ভাগ্য উনার, ঐ এলাকার লোকজন সেই মুজিবর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরীকেই জিতিয়েছে।