আবার বিকাশ ঘটুক মানবিকতার, এবার আরো দ্রুত


জনগনের কন্টকময় জীবনের অবসান হোকবস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়, শ্রম, শিল্প, স্বরাষ্ট্র, পরিবেশ, বানিজ্য ও অর্থ মন্ত্রনালয়ের মধ্যে সমন্বের মাধ্যমে একটি দক্ষ মন্ত্রনালয় গঠন করা অতীব জরুরি, যার কাজ হবে চলমান বাস্তবতায় সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে “গার্মেন্টস খাতকে” দ্রুত প্রসারিত করা। প্রায় ৪০বছর আগে শুরু হলেও, এখন পর্যন্ত কোন সরকারই এই গুরুত্বপূর্ণ খাতকে নিয়ে গভীর বিশ্লেষনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা উপস্থাপনা করতে পারেনি, বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন তো দূরে থাক।

ফলে সারাবছরই দেখা যায় বেতন-ভাতা, কর্মপরিবেশ, কর্তৃপক্ষের আচরন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে, কিছু জায়গায় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তখনই শুরু হয় কর্তৃপক্ষের তোড়জোড়, বিবৃতি-হুমকি-বিষোদগার-ষড়যন্ত্রতত্ত্ব… সে এক জগাখিচুড়ী কান্ড! এর শেষ হওয়া প্রয়োজন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জীবন-জীবিকা কেন খামখেয়ালীপনার কারনে থুবড়ে পড়বে?

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির মূল ৩টি চালিকাশক্তির উপর সার্বক্ষনিক নজর দিতে হবে সরকারকে, যাদের কাজ সংবিধান ও আইন অনুযায়ি দায়িত্বশীলতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। গার্মেন্টস, কৃষি ও রেমিটেন্স খাত ঠিকমতো চললে আমাদের বর্তমান অসাম্যের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন আসবে। এসব খাতের সাথে জড়িত গরীব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষরাই বিনিয়োগকারীদের হাতে জিম্মি থাকে, আর তাদেরকে “ফড়িয়াদের” হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্বটাই সরকারের।

যদিও বাস্তবতার নিরিখে আমরা দেখি সব সরকারই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় সর্বোচ্চ আইনী-বেআইনী সহায়তা দেয়, কিন্তু কোটি কোটি মানুষের অধিকারকে অগ্রাহ্য করে চলে অবিরত। শুধু মাঝে মাঝে প্রতিবাদ-প্রতিক্রিয়া চাড়া দিয়ে উঠলে সরকার নড়েচড়ে বসে, “মিডিয়া শো” করতে হয় নাহ!

ফসলের উৎপাদন বাড়ানো থেকে শুরু করে ভালো দাম নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি কোষাগার থেকে প্রনোদনা দেয়া এবং কৃষিকাজকে আরো আধুনিক, সস্তা ও সহজতর করতে কোটি কৃষক পরিবারকে সর্বতোভাবে সহায়তা করা সরকারের দায়িত্ব।

বিদেশে কর্মরত লাখো শ্রমিকের জীবন ও কাজের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট থাকা, তাদের টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করা এবং সেই টাকার যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পরামর্শ ও সহায়তা করতে সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে।

তবে সেক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, দক্ষতা ও মানবিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে। ক্ষমতার কেন্দ্রের সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিদেরকে তাদের সমস্ত অমানবিক মনোভাব ত্যাগ করতে হবে – মহানুভবতা দেখাতে নয়, সাংবিধানিক ও আইনি বাধ্যবাধকতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে।

এই দেশটা শুধু ১ভাগ সুবিধাভোগীর নয়, বরং এটা “গনপ্রজাতন্ত্রী” বাংলাদেশ! এই দেশে “জনগন” আগে। জনগনের এই সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অন্যায়কারী সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে। ন্যায়ের পথে আসতেই হবে সবাইকে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s