সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে খুনীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে, এরা আবার ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় ও প্রক্টরের মদদে বহাল তবিয়তে আছে। জুবায়ের হত্যা মামলায় পুলিশ ও প্রশাসনের ঢিলেমি, শিক্ষক নিয়োগ আর নানাক্ষেত্রে অনিয়মের বাড়াবাড়ি চলছে।

এই অবস্থায় আশা করি জাহাঙ্গীরনগরের বর্তমান শিক্ষার্থীরা আলোচনার মাধ্যমে একটা দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি নির্ধারন করবে। কেননা বর্তমান রাজনীতি + রাষ্ট্র + সমাজব্যবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এই গন্ডারগুলোকে সহজে পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। তার মানে এদেরকে দিনের পর দিন নজরদারিতে রাখতে হবে এবং উল্টাপাল্ট কিছু করলেই হুশিয়ারি উচ্চারন করতে হবে।

আমার নিরাশাবাদী বক্তব্যের পেছনে কারন হলো অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীর হার আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়া, অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িতদের দল ভারি হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের উপর শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রন ও প্রভাব বাড়তে থাকা ইত্যাদি।

যেসব কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তার সাথে আমার একটা প্রস্তাবনা আছে: সন্ত্রাসপ্রবন কমপক্ষে ১০টি ভার্সিটি/মেডিক্যাল কলেজ/নামকরা কলেজ থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতিনিধি নিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে জানুয়ারিতে সন্ত্রাসবিরোধী একটি সম্মেলন করা যায় কিনা যেখানে একদিন শুধু অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করে দীর্ঘমেয়াদী কর্মকৌশল নির্ধারন করা হবে।

সবার সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি সম্মিলিত মঞ্চ করা হবে যেখানে সাধারন শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। এরা সবসময় ক্যাম্পেইন করবে সন্ত্রাস-চাদাবাজি-দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে, সিলেবাস, কারিকুলাম, পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, হলের সমস্যা, খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করবে, এবং সর্বোপরি, মিডিয়ার সাথে সমন্বয় করবে।

এই কাজগুলো সাধারনভাবে ছাত্র সংসদের কাজ। কিন্তু আমরা যতক্ষন তা না পাচ্ছি, ততদিন আমরা যারা সরকারি বা বিরোধীদলের লেজুড়বৃত্তি করিনা, অস্ত্র বা মামা চাচার জোর দেখিয়ে ক্যাপাসে বাড়তি সুবিধা নেইনা, বেশি নাম্বার পাবার আশায় ও শিক্ষক হবার স্বপ্নে বিভাগের শিক্ষকদের ব্যাগ টানি না তারা এই প্রতিকূল ক্যাম্পাসজীবনটা­কে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে পারি।

সম্মিলত জোটে সুপারিশ সাপেক্ষে সমমনা প্রাক্তনদেরও অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে, এতে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সাংগঠনিক শক্তি বাড়বে।