আপনি এরশাদকে ঘৃনা করেন তো?


people's revolution

বৃহষ্পতিবার স্বৈরাচার হুমো এরশাদের পতন দিবস। জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন হয় ইতিহাসের নিকৃষ্টতম কীটগুলোর মধ্যে একটি, এই সাবেক সেনাশাসকের, ইতি হয় নয় বছরের ঘৃণ্য স্বৈরশাসনের।

শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ গনধীকৃত এই স্বৈরাচারের সঙ্গ ছাড়ুক আর না ছাড়ুক, আপনি ওরে ঘৃনা করেন তো?

যদি এখনও সেরকম অনুভূতি আপনার মধ্যে কাজ না করে তাহলে বেশি করে ইতিহাস পড়ুন। তখন দেখবেন ওর বেঁচে থাকাটাই আপনার কাছে অসহ্য মনে হবে।

আমি এই পোস্টে এরশাদের সাথে অন্য কারো শাসনামলের তুলনামূলক বিচারের দিকে যাচ্ছিনা। আবার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ কেন-কিভাবে এরশাদের সাথে মাখামাখি করেছে বা করছে সেটা নিয়েও কিছু বলছিনা।

আমার আশংকা এদেশের মানুষ ইতিহাস কম পড়ে/ভালো করে জানার চেষ্টা করেনা। আর তার ফলে সামরিক শাসন/মার্শাল ল, খুন, সংবিধান লংঘন, মানবাধিকার লংঘন, ইসলামকে রাজনীতির একটা “বিষয়ে” রুপান্তর করা, ভুয়া শিক্ষা কমিশন, ছাত্রদের মিছিলে পুলিশী হামলা…এমন অজস্র ঘৃণ্য অপরাধ করার পরেও এরশাদের আমলে অনেক সেতু-রাস্তা তৈরি হয়েছে, অনেকগুলোর পরিকল্পনা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম থেকেছে, দুর্নীতি “কম” হয়েছে ইত্যাদি ভালো ভালো কথাই মানুষ বেশী মনে রেখেছে।

কোন সরকারই যেহেতু তাকে জেলে আটকে তার কুকর্মের কোন বিচার করছেনা, সেহেতু জনগনও ধরে নিয়েছে এর পিছে লেগে লাভ হবেনা, তার চেয়ে ভালো মজা নেই এরশাদের কাজ-কর্ম দেখে বা কথাবার্তা শুনে।

এভাবেই প্রায় সবাই এড়িয়ে যায়, আর সকল কুকর্ম ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায় নতুন নতুন বেহায়াপনায়। জনগন কেন ক্ষমা করবে এই ঘৃণ্য স্বৈরাচারকে? এরশাদকে ক্ষমা করতে পারে নৈতিক অবক্ষয়ে রুগ্ন আওয়ামী লীগ, যারা শুধু ভোটের রাজনীতি করে। আমরাও যদি একে ক্ষমা করে দেই/ এড়িয়ে যাই বা তার নানা ইস্যু নিয়ে “মজা নেই”, তাহলে তার কুকর্মগুলো চাপা পড়ে যাবে আর সমাজে কোনদিন “ন্যায়বিচার” প্রতিষ্ঠা হবে না।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা হলেও উনার চরিত্রে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছেনা, সুতরাং উনি যে নীতিহীন হবেন এবং ভোটের রাজনীতি করবেন এবং বেহায়ার মত “যাকে দরকার তাকে ধরবেন” সেটা স্বাভাবিক। তাই তিনি এরশাদকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করলেন কিনা সেটা আসলে বিবেচ্য নয়। অন্যান্য প্রধান দল বিএনপি ও জামায়াতও অনেক স্বৈরাচারী আচরন করে, বিশেষ করে দলের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে।

আমার মনে হয় আমরা জনগনও বেহায়ার মত এরশাদকে “বিনা বিচারে” বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়ে “অন্যায়” করছি।

১৯৯০-এর শেষদিকের কথা; তখন আমি ক্লাশ ফাইভে পড়ি। এক হরতালে ক্লাশ চলছিল। এলাকার ভাইয়ারা মিছিল নিয়ে এসে আমাদের হেডমাস্টার স্যারকে অনুরোধ করলেন স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে। কিন্তু উনি রাজী হচ্ছিলেন না। অগত্যা মিছিলকারীদের কেউ একজন ঘন্টা আর কাঠের ডান্ডাটা এনে আমার হাতে দিয়ে বললেন “ছুটির ঘন্টা বাজাও”। আর আমিও খুশিতে দ্রাম-দ্রাম করে বাজালাম, আর সাথে সাথে ক্লাশ থ্রী থেকে ফাইভের পোলাপাইন ছুটে বের হয়ে গেল। আমি যোগ দিলাম সেই মিছিলে। সেই মিছিলে আমার আপন ভাইও ছিল। ও হ্যাঁ, ঘন্টাটা আমার হাতে দেয়ার কারন হলো আমি ঐ ক্লাশের ক্যাপ্টেন ছিলাম। দারুন মজা পেয়েছিলাম। আমাদের অজ-পাড়াগাঁয়ে সর্বাত্মক হরতাল হয়েছিল।

“গাড়ির চাকা ঘুরবেনা, দোকান-পাট খুলবেনা” আর “এরশাদের চামড়া তুলে নিবো আমরা” খুব মনে পড়ে।

Advertisements

3 Comments

  1. আপনার পুরো বক্তব্যর সাথে আমি একমত না হতে পেরে দুঃখখিত। আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে কয়জনের শাসনের ভালো রেকড আছে তা আপনি নিজেই একটু হিসাব কষলে গরমিল দেখবেন, অর্থাৎ সবার ই ভালো খারাপ দুটা দিক ই আছে এবং এটাই থাকবে নরমাল । কিন্তু এরশাদএর শাসনে হয়ত ক্ষতির পরিমান টা বাঙ্গালী জাতি কে একটু কম ই ভোগ করতে হয়েছিলয়।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s