সরকার কি জামায়াতকে ডরায়?


গত কয়েকদিনে জামায়াতের নেতাদের ডায়লগবাজি-দম্ভ বাড়ছেই। এদিকে জামায়াত-শিবির চক্রকে “প্রতিহত করতে” প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গর্জন শুনেই যাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবসম্মতভাবে এই স্বাধীনতাবিরোধী অশুভ শুক্তিকে কিভাবে নির্মূল করা যেতে পারে সেই তরিকা কিন্তু সরকার দিচ্ছেনা।

খুবই আফসোসের কথা, কেননা এই ফাঁকে জামায়াত আরো বেশী শক্তি সঞ্চয় করছে। সাথে তাদের অভিভাবক বিএনপি ও জোট তো আছেই।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে কথা বলা, বিচার বন্ধ করে আসামীদের মুক্তির দাবি যদি দেশদ্রোহীতা হয়, তাহলে তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার কেন পিছপা হচ্ছে?

সরকার কেন হরতাল ডাকতে দিল জামায়াতকে?

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর লাখ টাকা দামী অফিসারেরা কি ঘাস খায়? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু গতকালই বললেন যে জামায়াত সমাবেশের অনুমতি চায়নি, সুতরাং তাদের তা করতে দেয়া হবেনা, তাহলে আজকে তারা যে একটা পাল্টা কর্মসূচী দেবে এটা তো সাধারনভাবেই বুঝার কথা। আর সেটা প্রকাশ্যে ঘোষোনা দেবার আগেই কেন সরকার কঠোরভাবে তা প্রতিহিত করতে পারলো না?

এত আফসোস কই রাখি!

6 comments

  1. কয়েকদিনের মধ্যেই সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যাল। অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের তুলনায় সাঈদীর মামলার আলামত ও সাক্ষী দূর্বল হয়েছে। তাছাড়া ট্রাইবুন্যাল কয়েকবার তদন্ত কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের অদক্ষতায় বিব্রত ও বিরক্ত হয়েছে। এই অবস্থায় সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে ৩ হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর ও ধর্মান্তরে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৯টি ঘটনায় অভিযোগে বিচার শুরু হলেও এইসব দূর্বলতার কারনে রায় যে কি হবে তা নিয়ে চন্তায় আছি।

    আজকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে সাঈদী ট্রাইবুন্যালে যে বক্তব্য দেয় তা জামায়াতে ইসলামির ওয়েবসাইট থেকে হুবুহু এখানে তুলে ধরা হলো।

    ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সাঈদী: শেষ বিচারের দিনে আমি হবো বাদী
    Thursday, 06th December, 2012 http://jamaat-e-islami.org/newsdetails.php?nid=OTM2
    প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়া নি:সন্দেহে দুটি পর্বে শেষ হবে। একটি এই জাগতিক আদালতে আর অপরটি আখেরাতের আদালতে। আজ আমি এই আদালতের অসহায় এক নির্দোষ আসামী আর আপনারা বিচারক। দ্বিতীয় পর্বে আরেকটি বিচার হবে কেয়ামতের মাঠে। যেখানে বিচারক হবেন আল্লাহ। ওই বিচারের দিন আমি থাকবো বাদী। আজকে যারা জুলুম করছে তারা হবে বিবাদী।
    আজ বৃস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বক্তব্য দেয়ার অনুমতি দিলে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাইব্যুনালে দেয়া তার পূর্ণ বক্তব্য নিচে দেয়া হলো:

    মাননীয় আদালত,
    আমি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের এই বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলার আপামর জনগনের অতি পরিচিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। আল্লাহ স্বাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীনের রচিত দেলোয়ার শিকদার বর্তমান সাঈদী বা দেলোয়ার শিকদার ওরফে দেলু ওরফে দেইল্যা রাজাকার আমি নই।

    গণতন্ত্রের লেবাসধারী বর্তমান আওয়ামী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত: যুদ্ধাপরাধের দায় চাপানোর মিশন নিয়ে হেলাল উদ্দিনকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। মিথ্যাচার প্রতিষ্ঠায় স্বনাম খ্যাত হেলাল উদ্দীন আমার বিরুদ্ধে ২০টি জঘন্য মিথ্যা অভিযোগ এনে সরকারি ও দলীয় আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার নাম বিকৃত করেছে। আমার পারিবারিক পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে লুটেরা, খুনী, ধর্ষক, নারী সরবরাহকারী, অগ্নি সংযোগকারী পাক বাহিনীর দোসর, দূর্ধষ রাজাকার, এক কথায় এই তদন্ত কর্মকর্তা মনের মাধুরী মিশিয়ে ৪ হাজার পৃষ্ঠার নাটক রচনা করেছেন আমার বিরুদ্ধে।

    কোন মুসলমানের কলিজায় সর্ব শক্তিমান আল্লাহর উপর বিন্দু পরিমান বিশ্বাস থাকলে, মৃত্যুর ভয় থাকলে, পরকালে আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতার ভয় থাকলে, জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ভয় থাকলে অন্য কোন মুসলমানের বিরুদ্ধে শুধু আদর্শিক ও রাজনৈতিক শত্রুতার কারনে এতো জঘন্য মিথ্যাচার করা আদৌ সম্ভব হতো না।

    মাননীয় আদালত,
    আজকের এই বিচার প্রক্রিয়া নি:সন্দেহে দুটি পর্বে শেষ হবে। একটি এই জাগতিক আদালতে আর অপরটি আখেরাতের আদালতে। আজ আমি এই আদালতের অসহায় এক নির্দোষ আসামী আর আপনারা বিচারক।

    রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরনে ক্ষমতার জোরে আমার প্রতি যদি জুলুম করা হয়, তাহলে আজকের দুর্দান্ত প্রতাপশালী ব্যক্তিবর্গ যারা একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে আদর্শিক কারনে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আমার প্রতি জুলুমের প্রয়াস পাচ্ছেন তারা দ্বিতীয় পর্বের বিচারের দিন, কিয়ামতের দিন তারা নি:সন্দেহে আসামী হবে। সেদিন আমি হবো বাদী। আর সর্ব শক্তিমান, রাজাধিরাজ, সম্রাটের সম্রাট, আকাশ ও জমীনের সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র অধিপতি, সকল বিচারের মহা বিচারপতি আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনিই হবেন সেদিনের আমার দায়ের করা মামলার বিচার প্রক্রিয়ার বিচারক। সুরা আত ত্বীনের ৮ নং আয়াত আল্লাহ তায়াল বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা কি সকল বিচারকের তুলনায় শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?”। সুরা দোখানের ১৬ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “একদিন আমি এদেরকে অবশ্যই কঠোরভাবে পাকড়াও করব এবং নিশ্চয়ই প্রতিশোধ নেবই।”

    মাননীয় আদালত,
    আপনাদের এই আদালতে বসে যাঁর হাতের মুঠোয় আমাদের সকলের জীবন, সেই মহাশক্তিধর আল্লাহ তায়ালার নামে শপথ করছি। তাঁর পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে কসম করে বলছি, আমার নামে আপনাদের এ আদালতে যতগুলো অভিযোগ আনা হয়েছে তার হাজার কোটি মাইলের মধ্যে আমার অবস্থান ছিলনা। উত্থাপিত অভিযোগের একটি বর্ণনাও সত্য নয়। আল্লাহর কসম! সব ঘটনা বা দুর্ঘটনার সাথে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমার নাম যোগ করা হয়েছে। এ সকল অভিযোগের সাথে আমার দুরতম সম্পর্ক নেই।

    মাননীয় আদালত,
    আমি আশা করি সকল প্রকার রাগ-অনুরাগ ও সকল প্রকারের চাপ ও আদেশ নির্দেশের উর্ধ্বে উঠে সত্য ও মিথ্যা সার্বিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে সকল প্রকার প্রভাব মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র মহান আল্লাহকে ভয় করে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচার লক্ষে আমার প্রতি জুলুম না করে ন্যায় বিচার করবেন। মহান আল্লাহ আপনাদের সে তওফিক দান করুন।

    সুতরাং আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরনে যিনি যতটা ষড়যন্ত্র করে, জঘন্য থেকে জঘন্যতর মিথ্যা মামলা দিয়ে, মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে, মিথ্যা সাক্ষীর প্রশিক্ষন দিয়ে আমাকে মানসিক যন্ত্রনা দিয়েছেন, দেশ বিদেশে অসংখ্য অগনিত মানুষের কাছে কুরআনের বানী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমাকে বঞ্চিত করেছেন, আমার প্রিয়জনদের কাঁদাচ্ছেন, কলংকের তিলক পরিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন, আমি দোয়া করি আল্লাহ তাদের হেদায়াত করুন। আর হেদায়াত যদি তাদের নসীবে না থাকে তাহলে আমার এবং আমার প্রিয়জন, আমার কলিজার টুকরা সন্তান, বিশ্বব্যাপি আমার ভক্ত অনুরক্তদের যত চোখের পানি ফেলানো হয়েছে তাদের সকলের প্রতিফোটা চোখের পানি অভিশাপের বহ্নিশিখা হয়ে আমার থেকে শত গুন যন্ত্রনা ভোগের আগে, কষ্ট ভোগের আগে আল্লাহ তায়ালা যেনো তাদের মৃত্যু না দেন। মিথ্যাবাদী ও জালিমদের উপর আল্লাহর অভিশাপ অযুত ধারায় বর্ষিত হোক। আর জাহান্নাম যেন হয় এদের চিরস্থায়ী ঠিকানা।

    Like

  2. অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের তুলনায় সাঈদীর মামলার আলামত ও সাক্ষী দূর্বল হয়েছে। তাছাড়া ট্রাইবুন্যাল কয়েকবার তদন্ত কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের অদক্ষতায় বিব্রত ও বিরক্ত হয়েছে। এই অবস্থায় সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে ৩ হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর ও ধর্মান্তরে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৯টি ঘটনায় অভিযোগে বিচার শুরু হলেও এইসব দূর্বলতার কারনে রায় যে কি হবে তা নিয়ে চন্তায় আছি।

    http://bdnews24.com/bangla/details.php?id=212834&cid=37

    Like

  3. জামায়াত শিবির লাশ পাইয়া গ্যাসে। ওগোর আইজক্যা ঈদ। হরতালডা না আবার বুধবার পর্যন্ত টাইন্যা নিয়া যায়।

    প্রব্লেমটা হইলো, লাশটা ওরা বানাইসে।

    আপনাগো কি বিশ্বাস হয়, রাবার বুলেট লাইগ্যা একজন মইরা গ্যাসে?

    হ, শিবিরের কর্মী “মুজাহিদ”, যার বাপ কিনা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আতাউর রহমানের পোলা, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়। ঘটনাটা ঘটে চিরিরবন্দরের রানীরবন্দর বাজার এলাকায়।

    রাত সাড়ে ৯টায় দিনাজপুর শহর জামায়াতের প্রধান মতিউর রহমান জানালেন রংপুর হাসপাতাল নেবার পথে মুজাহিদ মারা গেছে।

    এই সাড়ে ৩ ঘন্টা মুজাহিদ কই ছিল? কে ওরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিছে? রাবার বুলেট কি হৃদপিন্ডে গিয়া ঢুকসিলো? অসম্ভব…

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s