চাঞ্চল্যকর পদ্মা সেতুর কালিমা তদন্তকাজ ঠিকমত হচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংক বদ্ধপরিকর, এবং সেতুর অন্যান্য অর্থায়নকারীদের আস্থায় ও সাথে নিয়ে ৩সদস্যের বিশেষ কমিটি মারফত ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋনচুক্তির ভাগ্য নির্ধারন খেলা খেলে চলেছে গত একবছর।

লুইস মরিনো ওকাম্পোর দল ১তারিখে আবার আসবে। এর আগে ঢাকায় এসেছিল ১৪ই অক্টোবর, আর দুদকের কাছ থেকে সমস্ত কাগজপাতি নিয়ে গেল। একমাসের মধ্যে বিশ্বব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও দেয়নি তারা।

তারা চলে যাবার পর থেকে ঢাকায় দুদকের তরফ থেকে দেখানো হচ্ছে যে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম উপদেষ্টা মশিউর রহমান। মঙ্গলবার ডাকানো হয়েছিল সেতু বিভাগের তিন প্রকৌশলী, এক বুয়েট অধ্যাপক ও এক গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্যকে।

আচমকা চমকে দিলেন দুদক প্রধান, সেদিন মঙ্গলবার, ২৭শে নভেম্বর, বললেন তাদের মনে হয়েছে কিছু ব্যক্তি সুবিধা নিতে চেয়েছিল। আর মানে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। বিশ্বব্যাংকের দাবি সেরকমই। সরকারও মনে হয় ছাড় দিতে প্রস্তুত। নইলে দুদক চেয়ারম্যান এমন কথা ঘটা করে বলার সাহস পেলেন কোথায়? বিশ্বব্যাংক আরও বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন দিয়েছে ১৩ই অক্টোবর। এর আগের দুটি দিয়েছিল এ বছরের এপ্রিল ও গত বছর সেপ্টেম্বরে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বা অর্থমন্ত্রী কেউ পদ্মা নিয়ে কথা বলছেন না, আর সেই সুযোগে গলা ফাটাচ্ছে বিরোধীদলগুলো।

তার মানে কিছু ঘটছে, শাস্তি কমানো বা মওকুফের জন্য দেন-দরবার বা অন্যকিছু। নাকে খত দিচ্ছে আওয়ামী লীগ? সেরকম হলে সুখবর।

নির্বাচনের আগে আগে আওয়ামী লীগের উপর এটা একটা বড় আঘাত, কেননা প্রধানমন্ত্রী গত জুনের ৩০তারিখে ঋনচুক্তি বাতিলের পর থেকে বরাবর বিশ্বব্যাংকের নিজের দুর্নীতি, সাবসিডি বাতিলের পরামর্শ ইত্যাদি নিয়ে তোলপাড় করেছেন, বলেছেন লাগবে না আমাদের দাতা সংস্থার টাকা ইত্যাদি। যদিও ওই সময় অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের নেকনজর পাবার জন্য মরীয়া হয়ে ছিলেন। তিনি এখনো ধৈর্যসহকারে লেগে আছেন চুক্তিটা কার্যকর করতে।

শেখ হাসিনা বরাবরই বলে আসছেন পদ্মায় কোন দুর্নীতি হয়নি, আর বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির সম্ভাবনার কথা বলেছে শুধু। অর্থমন্ত্রীও চুক্তিবাতিলের পরপর বলেছিলেন যে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের ভিত্তি নাই, অনুমানের উপর ভিত্তি করে অভিযোগ করা হয়েছে, এবং সেই বিখ্যাত থিওরি: টাকা হাতবদল না হলে দুর্নীতি হয় কি করে?

যাই হোক। এমন কয়েকশত চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে এক কালের প্রমত্তা পদ্মা। বেশ! সাথে আছে রাজনীতি আর আমলাতন্ত্র। একটা সেতু বানাতে গিয়ে যুগ যুগ ধরে স্বপ্ন দেখা, পরিকল্পনা করা, প্রস্তাব করা, নামফলক উন্মোচন করা, ঋন প্রক্রিয়া, টেন্ডার করতেই যদি বছরের পর বছর পার হয়ে যায় তাহলে কার লাভ? যত দেরি হচ্ছে নদীর গতি প্রকৃতি বদলের কারনে নকশাও বদলাতে হচ্ছে, খরচ বাড়ছে শত-হাজার কোটি টাকা। কারা এসব বিশাল বিশাল রুই কাতলা যাদের জন্য দূর্ভোগ কাটছে না জনগনের, সম্মানহানি হচ্ছে এদেশের প্রশাসনের?

সরকার অবশ্য বিশ্বব্যাংকের এই হীন আচরনের পেছনে ড ইউনুসের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পায়।

দুদক প্রধানের স্বীকারোক্তি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে সত্যি। সরকারপ্রধান বা অর্থমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বুধবার নাগাদ কিছু বলেননি। বুঝাই যাচ্ছে কিছু একটা ঘটছে, তবে তা এখনও অমীমাংসীত।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সংশ্লিষ্টতা তাহলে মোটামুটি গ্রহনযোগ্যভাবে সত্যি মনে হচ্ছে। আর হলেই না কি! আমার কি কিছু করার আছে? মানে, ইচ্ছেমত শাস্তি দেবার?

আবার দুদকের বেহাল দশা দেখে মনে হচ্ছে এখানে স্বচ্ছতার বালাই নেই, বিশেষ করে চলমান তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে। সত্যি ঘটনা আদৌ জনগন জানতে পারবে কিনা সন্দেহ।

জনগনের সমস্যা লাঘব করা যার দায়িত্ব সে যদি এরকম খামখেয়ালি-নির্লজ্জ আচরন করে তাহলে তা বড়ই বেমানান মনে হবে, অন্যায্য ও ধিক্কারজনক হবে।

ওহ! ভুলে গিয়েছিলাম। সম্প্রতি একটি ছবিতে দেখলাম দুদকের অফিসের টানা বারান্দার দেয়ালে লেখা: দুর্নীতি করবো না, সইবো না, মানবো না!!!

experts panel

Advertisements