জামায়াত, ইসলামী ঐক্য জোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও খেলাফত মজলিশের বাইরে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), কল্যান পার্টি, জাতীয় গনতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), বাংলাদেশ ন্যাপ, মুসলীম লীগ, ইসলামিক পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-ভাসানী) বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে জোটে আছে।

সম্প্রতি কয়েকজন সিনিয়র বিএনপি নেতা হরতালে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, সচিবালয়ে বোমা নিক্ষেপ ইত্যাদি মামলায় দৌড়ের উপর আছেন। আবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও চলছে কয়েকটি দুর্নীতির মামলা, একই রকম চাপে আছেন তার দুই ছেলে।

অন্যদিকে স্বাধীনতার ৪০ বছর পর শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কারাগারে আছেন নয়জন, যাদের মধ্যে দুইজন বিএনপি নেতা — খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাকা চৌ ও জিয়াউর রহমানের আমলের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল আলীম। এদেরকে বাঁচাতে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম আছেই।

কিন্তু যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত, তাদের দাবি দলের সাতজন নেতাকে মুক্তি দিতে হবে, নইলে তারা … সবই করবে। জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এখন পর্যন্ত ঘোষনা দিয়ে সম্পৃক্ত হয়েছে তাদের সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির (আগে নাম ছিল ইসলামী ছাত্র সংঘ)। এই দুইটি দলই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় অবিভক্ত পাকিস্তানের পক্ষে পাকিস্তানি সেনাবাহিনির সাথে বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, দেশে-বিদেশে জনমত গড়ার চেষ্টা করেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক শান্তি কমিটি-রাজাকার-আলবদর-আলশামস গঠন করে গনহত্যা-গুম-ধর্ষন-লুট-অগ্নিসংযোগ করেছে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে এদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হলেও দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করার কোন উদ্যোগ বা চিন্তা-ভাবনা সরকারের আছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

আবার সাম্প্রতিকসময়ের কয়েকটি সাম্প্রদায়িক হামলার (বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে বিশেষ করে হাটহাজারি, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, বাগেরহাট, রামু, উখিয়া ও সর্বশেষ রংপুরে আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা) সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব ক্ষেত্রে অন্যান্য দলের সমর্থকরা সংশ্লিষ্ট থাকলেও জামায়াতের নেতৃত্বের কথাই শোনা যায়।

এখনও এই দলটির গঠনতন্ত্রে যা বলা হচ্ছে তা বাংলাদেশের সংবিধানের সংগে সাংঘর্ষিক। তদুপরি আমাদের নির্বাচন কমিশনের উদারতার কারনে ২০১০ সালের জানুয়ারির মধ্যে তা সংশোধন করার কথা থাকলেও অদ্যাবধি জামায়াত তা করেনি। এমনকি গত ৪ঠা নভেম্বর পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত বেঁধে দেয়া একমাসের বাইরে আরো সময় চেয়েছে। এর আগে দলটি সাংঘর্ষিক কিছু থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

এমতাবস্থায় নভেম্বরের শুরুতে নয়দিনব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেয় জামায়াত, মূল দাবি যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক নেতাদের মুক্তি। আর তার পরদিন থেকেই আমরা দেখছি পুলিশের উপর জামায়াত-শিবিরের পরিকল্পিত হামলা। সরকারের দাবি তারা ধৈর্য্যের প্রমান দিয়েছে, আর জামায়াতের দাবি সরকার তাদের ‘শান্তিপুর্ণ’ কর্মসূচীতে বাধা দিচ্ছে।

এদিকে দলের প্রধান থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতার আভাস পেয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে কোথাও জামায়াত-শিবিরের হাতে মার খেয়েছে আর কোথাওবা উল্টো তাদের অফিস-কোচিং সেন্টার ভাংচুর করেছে বা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

সরকার জামায়াত-শিবিরের ‘প্রকাশ’ চন্ত্রান্ত মোকাবেলায় জনগনের সমর্থন চাইলেও তা খুব একটা আশাবাদী করতে পারেনি মানুষকে।

প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রায় সবাই এদের রুখে দেবার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তার চিহ্নমাত্র দেখা যাচ্ছেনা।

কারনটা বোধ করি, আওয়ামী লীগে জামায়াতের লোকের প্রাদুর্ভাব ও দলীয় কোন্দল, প্রশাসনের উপর সরকারের প্রভাব কমে যাওয়া, প্রশাসনের জামায়াত-বিএনপির সমর্থকদের অসহযোগিতা এবং বিশেষ করে জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকারি হুমকি ও কর্মসূচী পণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাদের স্পষ্ট অবস্থান।

সোনায় সোহাগা হয়েছে বৃহস্পতিবার, যেদিন ইসলামী ঐক্যজোটের প্রধান মুফতি আমিনী বলে, যুদ্ধাপরাধ বিরোধী চলমান বিচারকে নাকি সে সমর্থন করে “কিন্তু বিচারের নামে প্রহসন হলে এদেশের মানুষ তা মানবে না।” হাহাহা… সোজা করে বলার সাহসটা নাই যে, এই বিচার বন্ধ কর।

তার দাবি জামায়াত-শিবিরের উপর জুলুম নির্যাতন নাকি কেউ সমর্থন করতে পারে না।

বিশ্লেষনসহ একটা ফতোয়াও দিয়ে দিলো এই লোকটা!!! “আওয়ামী সরকার ইসলামকে র্নিমূল করা, ইসলামী রাজনীতি বন্ধ করা, মাদ্রাসা মসজিদকে ধ্বংস করার জন্য যা করার দরকার তার সবই করছে। ইসলাম র্নিমূলের এজেন্ডা নিয়ে এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। শেখ হাসিনার পতনে আন্দোলন এখন ফরজ হয়ে গেছে।”

জামায়াত-শিবিরসহ সম্প্রতি ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির উপর সরকারের আগ্রাসী ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। এই আগুনে তাদেরকেই জ্বলতে হবে।”

জামায়াতের ব্যাপারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোটের প্রায় সবার মনোভাব একইরকম। সাংবাদিকদের সামনে কতটা রাখঢাক করলো সেটা সলে ধর্তব্য নয়।

আমি মনে করি, এখনই উপযুক্ত সময় জামায়াত-শিবিরকে থামানোর। ১৯৭৫ সালের পর এত ভালো সুযোগ আসেনি এ জাতির জীবনে।

অবিলম্বে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির ও সমমনা ভন্ড রাজনৈতিক দলগুলোর সব নেতা-কর্মীদের নামের তালিকা করে এদের আইনানুগভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। তালিকার কথাটা বললাম কেননা এরা তখন হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে নয়তো বিএনপিতে যোগ দিবে, যেই দলের প্রধান জামায়াতকে প্রথম বাংলাদেশে করার সুযোগ দিয়েছিল।

খালেদা জিয়া ১১ই নভেম্বর রামুতে বলেনঃ নির্যাতন বাড়িয়ে জামায়াতকে পক্ষে নেবার চেষ্টা করছে আওয়ামীলীগ। ‘৯৬-এ নিজামীকে পাশে রেখে কর্মসূচী ঘোহশনা করেছেন, ‘৮৬-তে এরশাদের অধীনে নির্বাচন করেছেন জামায়াতকে নিয়ে। আওয়ামীলীগকে বিশ্বাস করা যায়না। জামায়াত এখন সন্ত্রস্ত, এ অবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করার জন্য অত্যাচার বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। আওয়ামীলীগ ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে অন্য ধর্মের মানুষের উপর অত্যাচার করে, সম্পদ দখল করে। কিন্তু আমরা সবার স্বাধীন ধর্মকর্মের মূল্যবোধে বিশ্বাসী। এ দেশে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই।

আমীর খসরু ৯ই নভেম্বর: জামায়াত বিএনপি’র স্ট্র্যাটেজিক এলায়েন্স, শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত জোট, আদর্শগত নয়। আশরাফের বক্তব্য রাজনৈতিক। সরকারের জোটেও বিভিন্ন মতের দল আছে, স্বোইরাচার এরশাদ আছে। গনতান্ত্রীক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সবাইকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে।

৬ই নভেম্বর মির্জা ফখরুল বলেন সরকার কোন উস্কানি ছাড়াই ৫ তারিখে সারাদেশে জামায়াতের কর্মসূচীতে অমানবিকভাবে হামলা করেছে। তিনি সকল গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীর মুক্তি এবং আহতদের চিকিৎসা দেবার দাবি জানান। ৫ তারিখের পুলিশী হামলা ছিল এই স্বৈরাচার সরকারের ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ।

১৪ নভেম্বর ১৮ দলের বৈঠকের পর ফখরুল দাবি করেন পুলিশের উপর হামলায় জামায়াতকে প্ররোচনা দেয়নি বিএনপি। জামায়াতের কাজের জন্য তারা নিজেরাই জবাবদিহি করবে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারন করে বলেন পরবর্তীতে সংঘর্ষ এড়াতে সরকারের উচিত জামায়াতের গনতান্ত্রিক কর্মসূচীতে বাধা না দেয়া।

পাকিস্তানপ্রেমী জামায়াত কেন বাংলাদেশে রাজনীতি করে?

জামায়াতের ইসলাম, রাজনীতি ও আমাদের দূর্বলতা

Advertisements