হাসিনা-খালেদা, দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রধান। উনারা গত ২০ বছরের উপর পাল্টাপাল্টি ক্ষমতায় আছেন। উনাদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা এতই আকাশচুম্বী যে উনারা যুগ যুগ ধরে দলের প্রধান পদটি আগলে আছেন, এবং দলের ভেতর উনাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

স্বজনপ্রীতি-অনিয়ম-দুর্নীতি ইত্যাদিতে উনারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কয়েকবার। তবুও জনগন বারবার (নিয়মিত বিরতিসহকারে) এদেরকেই নির্বাচিত করে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাচ্ছে।

বেশ, তাই তো হবার কথা। আর কোন দল বা ব্যক্তি এখনও পর্যন্ত উনাদের মত বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি, ফলে অন্য কোন সহনশীল-বিজ্ঞ রাষ্ট্রপ্রধানকে আমরা দেখছিনা।

এই দুইজনকে নিয়ে কথা বলার কারন হলো উনারা আজ ঈদের কার্ড পাঠিয়েছেন একে অপরের অফিসে। দুজনেই এখন নানাকাজে দেশের বাইরে।

Hasina-Khaleda exchange so-called Eid greetings

এরকম শুভেচ্ছা (!) ও ইফতারের দাওয়াত উনারা প্রতিবছরই দেন। এটা একধরনের রাষ্ট্রীয় নীতি, যেহেতু উনারা রাষ্ট্রের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদে (প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী) আছেন।

কিন্তু ২০০৯ সালের পর উনারা দাওয়াত কবুল করেন নাই। সেবার সেনানিবাসে এক ইফতারে দেখা হয় উনাদের।

তারপর প্রতিবছর ইফতার আর ঈদের দাওয়াত দিয়েছেন উনারা। কিন্তু…নাহ।

দূর্ভাগ্য জনগনের যে এরা একে অপরের সত্যিকারের বিরোধী।

যত যাই হোক, উনাদের আর দেখা যায়নি একসাথে, এমনটিও হয়নি যা উনারা ফোনে কথা বলেন।

তার বদলে আমরা দেখি-শুনি উনারা (বিশেষ করে হাসিনা) মুখে যা আসে সেইসব অকথ্য ভাষায় অপরকে দোষারোপ করেন নানা সূত্র ধরে। বিশেষ করে, যিনি ক্ষমতায় থাকেন তার গলার জোর বেশী থাকে, এবং অন্যজন তার আমলে কোন ভালো কাজ করেননি এবং প্রচুর দুর্নীতি করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলা হয়। ক্ষমতায় গিয়েই অপরজনকে মামলা দিয়ে চাপের মুখে রাখা হয়। এসবই পুরানো চল, এখনও চলছে।

একজন বললে “রাজনীতির খাতিরে” অন্যজনও উত্তর দেন, চেষ্টা করেন তা যেন ঝাঁঝালো হয়–উদ্দেশ্যটা বোধ করি তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের দেখিয়ে দেয়া নিজের ক্ষমতা।

অনেকেই বলেন এসব হলো দুই সতীনের ঝগড়ার মত, যদিও বাস্তবে তার কোন সাদৃশ্য পাওয়া যায়নি।

যাই হোক, সমস্যাটা হলো, উনারা যে কোন পরিস্থিতিই হোক না কেন একসাথে বসবেন না, কেউ কারো সাহায্য নেবেন না–এ যেন ধ্রুব সত্যে পরিণত হয়েছে।

এ আমাদের জন্য লজ্জার এবং বিষাদের…কারন, অন্যথা হলে, অর্থ্যাৎ উনারা যদি কোন একটা সময়ে এই দেশে একইসাথে সরকার গঠন করতেন তবে এদেশের রাজনীতি-অর্থনীতি-সামাজিকতায় চোখে পড়ার মত পরিবর্তন আসতো।

বঙ্গবন্ধুকন্যার কাছে অনেক আশা ছিল এবার যে, উনি নির্বাচনের আগে যা বলেছিলেন, মানে পরিবর্তনের রাজনীতি করবেন, তার ফলশ্রুতিতে উনার চিন্তা-আচরনে নতুনত্ব আসবে, অতীতের ভুলগুলো শুধরে উনি এদেশটাকে নতুনভাবে পরিচালিত করতে চাইবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

নাহ, হতাশা কাটছে না, কমছে না আমার ক্ষোভ।

Advertisements