বাজেট নিয়ে কি বলবো বুঝতে পারছিনা। বলতে পারেন বাকলেস হয়ে গেছি। এত ভেজাল থাকলে কিভাবে কথা বলি? কোনটা রেখে কোনটা নিয়ে বলি? আর এতগুলো ব্যাপার নিয়ে কথা বলতে গেলে তো সারা রাত লেগে যাবে লিখতে, আবার বলতে গেলেও চাপা ব্যাথা হয়ে যাবে।

তাই আমি এইবার পত্রিকায় শুধু খবর ও মতামত পড়ছি আর টিভিতে দেখছি কে কি বলেন।

আমার বাকলেস হবার আরেকটা কারন হলো গত যতগুলো বছরের কথা মনে পড়ে কোন সরকার কোনদিন তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক লোকদের চিন্তা-মতামত-পরামর্শের বাইরে কিছু করেনা। অনেকেই অনেক কথা বলে ২/৩ মাস আগে থেকেই, নানা অনুরোধ এবং আশংকা জানিয়ে মিটিং পর্যন্ত হয় মন্ত্রীর সাথে—কিন্তু বাস্তবে মানে বাজেট বক্তৃতায় তার প্রতিফলন দেখা যায়না বিন্দুমাত্র।

এটা একধরনের হিরো-ইজম বলা যেতে পারে, সক্ষমতা নিয়ে, যে, আমরা বাজেট বানাতে পারি। যদিও কখনো ৩মাস পর পর আর কখনোও বা মাঝপথেই সেই বাজেটে কাট-ছাট করা হয় নানা ভুল অনুমান ও বরাদ্দ সংক্রান্ত।

তবে মন্ত্রীরা একটা বাজেট থেকে যেসব জিনিস বুঝতে পারেন সেগুলো থেকে শিক্ষা নেন না এবং বেশীরভাগ সময় ভুল স্বীকার পর্যন্ত করেন না।

জনগন তখন হাসেন। তথাকথিত বাহাদুরেরা ব্যর্থ হলে সবাই হাসেন।

খালি আমি না, অনেকেই বলছে ফ্যাকড়া আছে এই বাজেটে; খালি অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের লোকজন স্বীকার করেননা। উনারা যেহেতু নিজেরাই বাজেট দিলেন তাই সেটার সমালোচনা করা তাদের জন্য হারাম বলেই সেরকম কিছু বলছেন না।

আবার বিরোধীদলগুলো এবং তাদের সমর্থিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশেষজ্ঞরা এই বাজেটের বিরোধিতা করে মুখে ফেনা তুলে ফেলবেন এবং নিজেদের আমলে করা বাজেটগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করবে সেটাও স্বাভাবিক।

গত দুই বছর ধরে দেখছি দেশের অর্থনীতি মোটামুটি একটা নিয়মিত ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ছোট করে দেখা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে সারা বিশ্বেই মন্দা চলছে, এবং এটা সমাধানযোগ্য।

তাই তাদের আর কাউকে দরকার নেই, এমনকি যারা বিনা পয়সায় নিজ উদ্যোগে সরকারকে সাহায্য করতে চায় তাদেরও না।

“তাহলে তো মান যাবে”—এই ভেবেই হয়তো এহেন আচরন সরকারগুলোর মধ্যে বারবার দেখা যায়!

তবে আমি বলি কি, ঝুঁকি থাকলেও তা অবশ্যই সমাধানযোগ্য – তবে প্রশ্নটা হলো কতদিনে তা হচ্ছে। কতদিন জনগনকে দূর্ভোগের মধ্যে অপেক্ষায় থাকতে হবে সমাধানের আশায়।

আমলাতান্ত্রিক-ব্যবসায়িক-রাজনৈতিক জটিলতার কারনে স্বাভাবিকভাবেই দেরী হয় ইত্যকার সমস্যা সমাধানে। তবুও কোন সরকারি দল অদ্যাবধি জনগনের মধ্য থেকে কারো পরামর্শ নেয়নি।

দেশ যখন একবিংশ শতাব্দী মাড়িয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছে, স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়ে গেছে, তখনও এদেশে জাতীয় ইস্যুতেও ঐক্যমত হয়না। বাজেট, পররাষ্ট্রনীতি, রপ্তানী, টিপাইমুখ, দুর্নীতি, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ইত্যাদি নানা সংবেদনশীল ইস্যুতেও না।

আমার কাছে বড়ই আশ্চর্যজনক ও পরিতাপের বিষয় এটা। সরকারে একদলীয় সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বারবার মনে করিয়ে দেয় একনায়কতন্ত্র/রাজতন্ত্রের কথা।

আরেকটা সহজ বাংলা কথা হলো, আপনি কষ্ট করে যত কিছুই জমান না কেন, এবং যতই পরিকল্পনা করুন না কেন ভবিষ্যত নিয়ে – তলায় ফুটা থাকলে সব মধু গলে বের হয়ে যাবে।

মানে, দুর্নীতি না থামালে সুন্দর সুন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনা দেখতে ভালো লাগবে, হাততালিও পাবেন কিন্তু কাজের বেলায় দেখা যাবে ঠনঠনাঠন।

সর্বশেষ মজার (!) ব্যাপার হলো যেই টাকায় বাজেট হয়, নানা খাতে বরাদ্দ হয় এবং খরচের হিসাব দেখানো হয় এসবই জনগনের টাকা (অতি সামান্য থাকে বিদেশী অর্থসাহায্য)। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের আচরনে মনে হয় মন্ত্রী-আমলা-ব্যবসায়িদের বিনিয়োগের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে বাজেট হচ্ছে, “সুতরাং আমার যা খুশি তা করবো”!

Advertisements