পুলিশি নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মানবাধিকার—কিস্তি ১


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে ৩রা জুন রাতে আলোচনা করছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রধান সুলতানা কামাল এবং প্রাক্তন মন্ত্রীপরিষদ ও স্বরাষ্ট্র সচিব সাহাদাত হুসাইন। আলোচনায় সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন যথারীতি খালেদ মুহিউদ্দীন। মানবাধিকার পরিস্থিতি, পুলিশের আচরন ও রাষ্ট্রের আচরন নিয়ে বিশদ আলোচনা শুনে কিছুটা আশান্বিত হলাম এইটুকু জেনে যে, কিছু ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সাধারন মানুষের ও বিরোধী দলগুলোর অধিকার নিয়ে কথা বলে বলেই হয়তো সরকার তথা সরকারী দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক গোষ্ঠী ও প্রশাসনের সরকারপন্থীরা যা খুশি তা করতে পারেনা, আর করলেও তীব্র প্রতিবাদের মুখে পিছিয়ে আসতে হয় বা আচরনে সংযত ভাব আনতে হয়। অন্তত, এই আলোচনা থেকে আমার সার্বিক অনুভূতিটা এইরকমই।

আলোচনার শুরুটা সাংবাদিক নির্যাতন দিয়ে। আমি রেকর্ড করেছি এখান থেকে…

সন্ত্রাস-পুলিশ-আইন নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু কথা ও ছবি

মিজানুরঃ সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নানা রকমের তোলপাড় হয়েছে, অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করেছেন। একজন বলেছেন নিরাপদ দূরত্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে, আরেকজন বলেছেন যে পুলিশের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।

এবং আপনি জানেন? আমরা গত পরশু জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পূর্ন সভা আহবান করেছিলাম বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও করনীয় নির্ধারন করা জন্য। সভার পরে আমরা একটি পত্র পাঠাই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যে আমরা পূর্ন কমিশন সাক্ষাত করতে চাই তার সাথে এবং আমাদের উদ্বেগের কথা জানাতে চাই, এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে চাই। তার পরে তো আপনারা দেখেছেন খবরের কাগজে যে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তার মানে যখনই মানবাধিকার কমিশন একটি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছি, যখনই সাক্ষাত প্রার্থনা করেছি, তখনই কিন্তু উনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন, এবং জনগনের সাথে-সাংবাদিকদের সাথে যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল সেটা কমানোর জন্য আমি বলবো একটা দৃঢ় পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন।

খালেদঃ Translation-টা পারছিনা, কিন্তু একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, “Is it enough?”

মিজানুরঃ “Obviously, it’s not enough.”  আমরা কিন্তু কখনোই বলিনি this is enough. আমরা যখনই বলি মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলি, আমরা যদি পরিসংখ্যান দেখি তাহলে দেখা যায় আগের তুলনায় হয়তো অনেকাংশে ভালো হয়েছে। আবার একইসঙ্গে এইকথাটাও আমরা বলি but you cannot be complacent…এতে আমরা আত্মতুষ্টিতে ভূগতে পারিনা।

খালেদঃ আগের চেয়ে অনেকখানি ভালো হয়েছে?

মিজানুরঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে।

খালেদঃ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে?

মিজানুরঃ এওএওএও…বেশীরভাগ ক্ষেত্রে…এওএওএও…আমি কিন্তু বলবো আগের চেয়ে খারাপ কিন্তু হয়নি।

পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা নাকি একটা ষড়যন্ত্র! হাহাহা…

খালেদঃ হাসতে হাসতে… ঠিক আছে স্যার, আমরা আবার আসবো আপনার কাছে। আমি একটু সুলতানা কামালের কাছে আসি। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করতে চাই এই বিষয়ে যা তিনি বলেছিলেন গতকাল মিট দ্যা রিপোর্টাস-এ। “আপনারা কি চান না সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ুক? আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ সন্ত্রাসী ধরা। আর সন্ত্রাসী ধরতে গেলে যদি ওরা গুলি চালায় তবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তব্যটা কি হবে আপনারাই বলেন। জীবন রক্ষার্থে তাদের গুলি চালাতেই হবে। এজন্য কি তারা সন্ত্রাসী ধরতে যাবেনা?”

সুলতানাঃ না…এটার উত্তর আমরা অনেকবার দিয়েছি। এধরনের কথা প্রথম থেকেই যখন আমরা বিচারবহির্ভূত বা সংবিধানবহির্ভূত হত্যাকান্ড যেটা বলছি, ক্রসফায়ার বললে সহজভাষায় মানুষ যেটা বুঝে, সেটা নিয়ে যখন আমরা কথা বলছি তখন থেকেই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই কথা বলে যাচ্ছেন, যে আমার পুলিশ কি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে, চুপ করে দাঁড়িয়ে গুলি খাবে, পুলসিহ কি কোনরকম প্রতিক্রিয়া দেখাবেনা?

এধরনের কথা তিনি সবসময় বলে থাকেন। তবে একটা তো ব্যাপার আছে যে, বাস্তবতা বলে কিছু জিনিস আছে। যেখানে গোলাগুলি হয় সেখানে যেই বাস্তবতা থাকে বা যেই পরিস্থির উদ্ভব হয় আর যেখানে একতরফা হত্যাকান্ড হয় সেখানে কিন্তু সেইরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়না। মিল পাওয়া যায়না। আমরা যখন কথাবার্তা বলি… আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কিন্তু একটা একটা নিজস্ব তদন্ত দল আছে, একটা তদন্ত বিভাগ আছে আমাদের। এবং তারা কিন্তু প্রত্যেকটি ঘটনা, যেখানে আমরা কথা তুলেছি, নিজেরা তদন্ত করে সেটার একটা প্রতিবেদন নিয়ে আমরা কথা বলেছি।

কোন জায়গায়ই এরকম কোন পরিস্থিতির আভাস, প্রমান বা সাক্ষ্য পাইনি সেখানে বলা হয়েছে যে গোলাগুলির একটা পরিস্থতির উদ্ভব হয়েছিল। গোলাগুলি হলে তো দুই পক্ষের গুলির শব্দ পাওয়া যাবে, সেখানে যদি গাছ-পালা থাকে সেখানে গুলিগুলা লাগবে, সেখানে খোসা কোথায়? একটা কথা বললে তো সাক্ষ্য-প্রমান দিতে হয়। যেমন আমরা যখন একটা অভিযোগ করি তখন আমাদের সাক্ষ্য-প্রমান হাজির করতে হয়। যখন রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ দাখিল করে তাদেরও কিন্তু সাক্ষ্য-প্রমান নিয়ে আসতে হয়। আজ পর্যন্ত কি সেটা কোন জায়গায় উপস্থাপিত হয়েছে? সেগুলি নিয়ে কথা হয়েছে? এবং আজ পর্যন্ত একটি পুলিশও সেরকমভাবে আহত হয়নাই। কোন পুলিশ নিহত হয়নাই সন্ত্রাসীদের হাতে। শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি সে যেই হোন না কেন – সন্ত্রাসি হতে পারেন, নাও হতে পারেন, আওরা সেটা জানিনা, কারন বিচারের মধ্য দিয়ে তার কোন কিছুই প্রমানিত হয়নি – যে ব্যক্তিটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় র‍্যাবের বা পুলিশের সাথে সে জায়গায় উপস্থিত হচ্ছেন কিন্তু শুধুমাত্র তিনি নির্মমভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে মারা যাচ্ছেন। এটাতে তো গোলাগুলি হবার কোন লক্ষন দেখা যায়না। যার ক্রাইম, তদন্ত বা detection নিয়ে কাজ করে তারা কিন্তু আলামত দেখে পরিস্থিতি দেখে বলতে পারে যে সে জায়গায় বিষয়টা কিরকম হয়েছিল। এবং সেটা ছাড়া আমরা কখনো কথা বলিনা।

খালেদঃ আপনার সাথেই আমাদের অনুষ্ঠানে র‍্যাবের মুখপত্র কমান্ডার সোহায়েল একটা হিসাব দিয়েছিলেন – উনাদের কিছু লোক আহত হয়েছেন, কেউ কেউ হাসপাতালে আছেন…এইরকম একটা হিসাব কিন্তু দিয়েছিলেন।

সুলতানাঃ হ্যাঁ, কখনো কখনো আহত হয়েছেন এবং কোন কোন পরিস্থতিতে সেটাও আমরা জানি, সেটা তো জানা আছেই। সেটা হলে কি আর মিডিয়ায় আসছে না খবর? আসার সাথে সাথেই তারা হাসপাতালে যাচ্ছে, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে দেখতে যাচ্ছেন, আমরা দেখতেও পাচ্ছি যে কোন অবস্থায় তারা আহত হয়েছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেরকম হতেই পারে, কিন্তু এখন পর্যন্ত যেভাবে কথা বলা হয় যে, শুধুমাত্র আক্রমন হলেই পুলিশ বাহিনী বা র‍্যাব গুলি ছুঁড়ছে এবং হত্যাকান্ড ঘটছে। এইসমস্ত হত্যাকান্ড নিয়ে আমরা কথা বলেছি, সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ৯৯শতাংশ ক্ষেত্রে কিন্তু হয়েছে একতরফা গোলাগুলি।

তবে আমি একটুখানি বলবো ডঃ মিজানের কথার সূত্র ধরে এবং সাহারা খাতুন যেটা বলেছেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে, একদিকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু পুলিশের আচরনের কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। কোথায়? যেসমস্ত জায়গা তারা মডেল থানা হিসেবে স্থাপন করেছেন, যেখানে যেখানে নারী পুলিশ দেয়া হয়েছে এবং পুলিশ বাহিনীর সাথে সমাজকর্মী হিসেবে যারা থাকবে কথাবার্তা বলার জন্যে, বিশেষ করে আমরা যখন গেছি (আমরা তো নারীদের নিয়ে কাজ করি)। তাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারটা কিন্তু ভালো কাজ হয়েছে। কাজেই একেবারে ঢালাওভাবে যে পুলিশের সর্বক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে সেটাও না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেখানে এই কাজগুলি হয়েছে সেখানে ভালো হয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, কয়েকটা জায়গায় পুলিশ এমন এমন কাজ করছে যে ভালো কাজগুলি কিন্তু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এখানেই আমাদের কথা যে, তোমরা যদি ভালো কাজগুলি করতে পারো, যদি এই উদাহরনগুলি স্থাপন করা যায় তাহলে এখানে কেন সেরকম কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা, যেটা এই বিষয়গুলিকে বন্ধ করে, প্রতিহত করে ঐ জায়গায় পুলিশ বাহিনীর একটা সামগ্রিক চরিত্র দাঁড় করাতে পারেন। কেউ খুব ভালো করতে পারে, কেউ শূন্যতে পড়ে আছে তাহলে তার গ্রেডিংটা কি হবে? তার গ্রেডিং তো নীচে নামতেই থাকবে। এর এভাবেই পুলিশ বাহিনী সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে।

আস্থা হারাচ্ছেন, ভোট হারাচ্ছেন হাসিনা

খালেদঃ জনাব সাদাত হুসাইনের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে গতকাল আপনি একটি আলোচনাসভায় বলেছিলেন নিয়ন্ত্রনকারীরা পুলিশবাহিনীকে আর নিয়ন্ত্রন করতে পারছেনা। এই সম্পর্কে কিছু বলুন।

সাদতঃ এটা আমাদের মনে হয়েছে বিভিন্ন ঘটনাগুলি দেখ যে, structure (chain) of command যেটা থাকে শেটা বোধহয় নাই। নীচের দিকে যারা এসব কাজগুলি করছে তারা এত confident হয়ে গেছে যে আমাদের কিছু হবেনা। কাজেই তারা যা কাজগুলি করছে, যে ধরনের কথাবার্তা বলছে এগুলো কিন্তু trained police officer করার কথা না, বলার কথা না। তাতে মনে হচ্ছে তাদের উপরের দিকে যারা যে খুব তাড়াতাড়ি তাদের punishment দিতে পারবে বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে, এটা নিয়ে তারা মনে হয় মোটামুটি সন্দিহান। তারা মনে করে যে কিছুই করতে পারবেনা। আমি আগেও বলেছি, কালকেও বলেছি, প্রশাসনিক ভাষায় যাকে বলা হয় overlay, মানে immediate নিয়ন্ত্রনকারী কর্মকর্তার উপরে যদি আপনার কোন link থাকে; আপনি যদি hierarchically আরো উপরের লোকদের সাথে social overlay হতে পারে, আত্মীয়তার কারনে হতে পারে, professional কারনে হতে পারে; হয়তো একই subject-এ পরেছেন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ে—এইগুলির কারনে যদি আপনার একটা informal chain of communication বা access যদি হয়ে যায় তখন আপনি immediate কর্মকর্তাকে খুব একটা মানবেন না।

কালকেও কয়েকজন প্রশ্ন করেছে পুলিশ অফিসারদের যে, আপনি কি একে একে বদলি করতে পারবেন? অ্যাকশন নিতে পারবেন? সেজন্যে দেখা যায় যে পর্যায়ের কর্মচারী বা কর্মকর্তা যে সাবধানতার সাথে কাজ করা কথা সেটা তারা করছে না। তাদের আচরনের মধ্যে উচ্ছৃংখল ভাব দেখা যাচ্ছে। তাদের মনে হচ্ছে একটা damn care ভাব, একটা বেপরোয়া ভাব এসে গেছে। সেটা থেকেই আমরা বলছি যে মনে হয় chain of command-এর মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

খালেদঃ আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, এই problem-টার কি শুরু এখন নাকি…কোন জায়গা থেকে শুরু হলো?

সাদাতঃ আমরা যা দেখছি আরো আগে থেকে। কিন্তু বাংলাদেশের দুঃখ হচ্ছে, যতই দিন যায়, এটা আরো aggravate বা অধিকতর খারাপ হতে থাকে। হয়তো প্রথমে অল্প অল্প ছিল, তারপরের government-এর সময়ে আরেকটু বেড়েছে, পরের government আসলে আরো বেড়ে যায়।

আসলে confrontation politics-এ এইটা হয়ে যায়। যারা ক্ষমতায় আসে, কয়েকটা government-কে তো দেখেছি, তারা ভালো কাজ করার চেষ্টা করে, কিন্তু কিছুদিন পরে power content একটা জিনিস আছে, যারা মার খাচ্ছে বা অসহায় অবস্থার মধ্যে আছে, যারা বঞ্চিত, এসে বলে ‘আমরা কষ্ট পেয়েছি, এদেরকে কষ্ট দিতে হবে’, আমরা তখন রাস্তায় মার খেয়েছি, আমাদের কথা শুনতে হবে, এদের কথা শুনলে হবেনা। তখন সেটা আবার confrontational politics-এ আবার নিয়ে যায়, এবং once in confrontational politics…power game…power game is never a fair game.

খালেদঃ স্যার, এইক্ষেত্রে bureaucrat-দের একটা দায়িত্ব পালন করার কথা, তারা mitigate করার চেষ্টা করবে।

সাদাতঃ bureaucrat-দের এখন আর সেই শক্তি নাই। inner circle-এ bureaucrat-রা অনেক দিন থেকেই নাই। এরা magpie মানে একটু দূরের circle-এ অবস্থান করে। আপনি নিজেও সরকারি চাকরি করেছেন। আমি cabinet secretary ছিলাম কিন্তু insider না। Insider তখন ভিন্ন লোকরা আসে, তারা সিদ্ধান্ত নেয় এবং অনেককিছু আপনি জানতেও পারবেন না। bureaucrat-দের যারা ক্ষমতাকে wailed (ব্যবহার) করে তারা কিন্তু নিরপেক্ষ না, তারা politically aligned. এখন যারা পুলিশে বা অন্যান্য সরকারি চাকরি যেমন ministry-তে কিছু কিছু লোক মনে করছে যে দিনকাল যেমন পড়েছে পরে government change হইলে আমাকে তো সরিয়ে দিবে, সুতরাং আমার এই দুইবছর অযথা neutral হইয়া কি লাভ? বরং এই government-এর সাথে totally align করি, যতটুকু benefit নিতে পারি সেটাই ভালো। কারন আমি এখন neutral হলেও আগামী government আসলে আমাকে ছাড়বেনা।

খালেদঃ চট্রগ্রামের আইন-শৃংখলা ও মানবাধিকার পরিস্থতি নিয়ে মামুন আব্দুল্লাহ আমাদের কিছু বলুন।

মামুনঃ চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিত দেশের অন্য জায়গার তুলনায় কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন এখানকার আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে। চট্টগ্রামে মানবাধিকার প্রস্থিতি প্রশাসনের দিক থেকে খুববেশি লঙ্ঘিত হচ্ছেনা, তবে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ঘটনা ঘটছে, যেমন প্রায় ২বছর আগে ২জন ইউপি চেয়ারম্যান, একজন প্রবীন ও রহস্যজনকভাবে মেডিকেল কলেজের একজন ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন, কিন্তু তাদের কোন খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছেনা। পুলিশ বলছে এরা স্বেছহায় আত্মগোপন করেছে, কিন্তু তার কোন সুনির্দিষ্ট প্রমান পুলিশ দিতে পারছেনা।

ডঃ সাদাত যেটা বলেছেন, এখানেও পুলিশ প্রশাসনে overlay করার নজির আছে। একজন পুলিশ কমিশনার আমাকে বলেছেন ভাই আমি একজন কনস্টেবলকে বদলি করতে পারছিনা, কারন তার সরাসরি যোগাযোগ আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সাথে। একজন পুলিশ সুপার বলেছেন কোন থানায় কোন ওসি আসবে এটা তো আমি ঠিক করতে পারছিনা, তাহলে আমি কিভাবে এদের control করবো? এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছিলে ১৯৯৭ সালে রাউজান থানা হাজতে, সীমা রাণী নামে একটি কিশোরীকে ধর্ষন করেছিল পুলিশ এবং সেটির বিচার হয়েছিল। আরেকটি বড় ঘটনা বিগত জোট সরকারের আমলে বাঁশখালীতে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ১১জনকে পুড়িয়ে মারা হয়। সেটার বিচার এখনো হয়নি, বিচার প্রক্রিয়া পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম কারাগারের মানবাধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

খালেদঃ মামুন আপনি প্রথমে বলেছিলেন চট্টগ্রামের অবস্থা মোটামুটি ভালো, কিন্তু ভালোটার লক্ষন দেখে বুঝেছি ভয়াবহ অবস্থা। খুলনার অবস্থা শুনবো সোহেল মাহমুদের কাছ থেকে।

সোহেলঃ এখানকার সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা হচ্ছে একজন শিক্ষার্থী পরশ, দৌলতপুরের পাট ব্যবসায়ির ছেলে, যে নিখোঁজ হয় প্রায় ১৫দিন আগে। এটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় খুলনাতে, প্রতিবাদ হয়। খুলনা মেয়র একটি মানববন্ধন থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন পুলিশের অদক্ষতার কারনেই পরশকে এখনও উদ্ধান্র করা যাচ্ছেনা। তার পরপরেই পুলিশ একটি লাশ ও স্বীকারোক্তি দেখিয়ে তা পরশের বললেও পরিবার থেকে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন DNA পরীক্ষা করে দেখা হবে। আর পুলিশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে আলোচিত আরেকটি ঘটনা হলো হরতালের সময় দুই পিকেটারকে পুলিশ থানায় নিয়ে ঝুলিয়ে পিটিয়েছিল। তারপরেও ঐ পুলিশের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

খালেদঃ রাজশাহীর ওবস্থা শুনবো আহসান হাবীব অপুর কাছে।

অপুঃ রাজশাহীর মানবাধিকার সংগঠনগুলো কিছুদিন পর পর হত্যা, অপহরন ও নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্দ্বেগ প্রকাশ করেছে। গতমাসে ৫৪টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া ১২দিন আগে একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ি নিখোঁজ হন, তাকে এখনো পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। সর্বশেষ নাটোরে ৬ষ্ঠ শেনীর এক ছাত্রকে অপহরন করা হয়, এবং হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করার পর তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়।

খালেদঃ আপনি তো স্যার সারাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কথা শুনলেন, এবং আপনার এক ছাত্র যে প্রশ্ন করলো আপনি কেন ম্যাক্সিম গোর্কির ডানকো হতে পারলেন না, সেটা নিয়ে বলুন।

মিজানুরঃ এই ৩জন প্রতিবেদক যে ৩টি জায়গার কথা বললেন সেগুলো আসলে আইনশৃংখলা পরিস্থতির কথা বলেছেন। এগুলোকে কিন্তু ঢালাওভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতি বলা ঠিক নয়। তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি অবিচার করা হয়। আমাদের দেখতে হবে রাষ্ট্র সেসব ঘটনায় কি ব্যবস্থা নিয়েছে, নাকি রাষ্ট্রের মদদে হয়েছে। যদি রাষ্ট্রের মদদে হয়ে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে এগুলো মানবাধিকারের লঙ্ঘন। কিন্তু যদি একজনকে অপহরন কএর নিয়ে যায় একটি অপরাধী চক্র এটিকে কিন্তু সাথে সাথেই আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলবো না। আমরা দেখবো পুলসিহ বা র‍্যাব তাএর উদ্ধারের জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সেটা যথাযথ বা যৌক্তিক মনে হচ্ছে কিনা। যদি মনে করি সেটাকে খুব অবজ্ঞা করা হচ্ছে, অবজ্ঞা করা হচ্ছে, খুব ঢিলেঢালাভাবে লোক-দেখানোর তদন্ত চলছে তখন প্রশ্ন উঠবে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। এই সুক্ষ পার্থক্যটা কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে। আইনশৃংখলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি এ দুটার মধ্যে মনে হয় পার্থক্য নির্ণয় করা বাঞ্ছনীয়।

খালেদঃ স্যার একটি জায়গায় কিন্তু গুমের কথা এসেছে। আপনি ক্লাশরুমে, সেমিনারে বলেছেন কিন্তু গুম হচ্ছে একটি সাংঘাতিক রকমের অপরাধ। রাষ্ট্রের কাজ হলো খুঁজে বের করা।

মিজানুরঃ এখন তো চালু হয়ে গেছে গুম হতে পারে ৩ভাবে। একটা হলোঃ আমি নানাকারনে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যেতে পারি, আরেকটি হতে পারে অপরাধী চক্র আপনাকে ধরে নিয়ে নিখোঁজ করে নিয়েছে, আর তৃতীয় হচ্ছে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতায় বা মদদে আপনি হচ্ছেন। যেকোন কারনেই হোক না কেন, চূড়ান্ত বিচার হচ্ছে আমরা যেটা বলি এটা রাষ্ট্রের দায়ত্ব খুঁজে বের করা।

খালেদঃ ধরেন আমি স্বেচ্ছায় আমি গুম হয়ে গেছি, তখন আমার মেয়ে-বউ কি নিজে থেকে গিয়ে তো আর বলবেনা ওকে খুঁজে দাও। স্বেচ্ছায় গেলে তো আর তাকে বলে যাবার কথা না। তখন তো রাষ্ট্রের দায়িত্ব…

মিজানুরঃ তখন রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে অপরাধীকে খুঁজে বের করা। আর যদি রাষ্ট্রের কোন বাহিনী, রাষ্ট্রের কোন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গুমের পেছনে কোনধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে তাহলে তো এখানে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।

খালেদঃ আমি অবশ্য পার্থক্যটা ভালো বুঝতে পারছিনা, আমি এত ভালো ছাত্র না। সুলতানা আপার কাছে আসবো স্যার যেগুলো বললেন সেগুলো নিয়ে একটু ব্যাখ্যা শুনতে। তার আগে একটা বিরতি নিয়ে আসি।    

5 comments

  1. […] আগের অংশের শেষভাগে ডঃ মিজানুর বলছিলেন আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এক নয়। পুলিশি নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা… […]

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s