ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান ৩রা জুন রাত ১২টায় কথা বলেছেন বাংলাভিশনের নিউজ & ভিউজ অনুষ্ঠানে।

আসলে পুলিশের অগ্রহনযোগ্য আচরন আবার সামনে এসেছে সাম্প্রতিক সংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার পর, কয়েকবছর ধরেই আচরন জনগন-সরকার যা প্রত্যাশা করে, এই প্রতিষ্ঠানটি একটি আইন-শৃংখলা বাহিনী হিসেবে নিজেদের যে আশা সেখানে একটা বড় ধরনের দেখা যাচ্ছে।

এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা কখনোই পুলিশ বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে প্রত্যাশিত নয়, গ্রহনযোগ্য নয়।

এখানে আমাদের মন্ত্রী যে দুঃখপ্রকাশ করলেন এটাকে কিন্তু স্বাগত জানাতে হবে। এরকমটা আমরা আমাদের দেশে কিন্তু দেখিনা।

কিন্তু তার কথার মধ্যে কিন্তু ডিফেন্ড করার প্রবনতা দেখতে পাই। আবার একই জায়গায় যাওয়াটা। এখানে কেউ অস্বীকার করতে পারবো না, এখন পুলিশ যা করছে তা হঠাত করে হয়নি। এই সরকারের আমলে, তার আগের আমলেও ছিল। আমার কাছে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলো পুলিশকে পেশাদারিত্বের সাথে সঙ্গে কাজ করার জন্য যে পরিবেশটা দরকার সে পরিবেশটা ক্রমাগত বিনষ্ট হচ্ছে।

আমাদের রাজনৈতিক সরকার-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কিন্তু মূল দায়িত্বটা নিতে হবে। এখানে যা জলের মত স্পষ্ট তা হলো পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। নেতাদের ভুলে গেলে চলবে না যে কিছুদিন পরে তারা বিরোধী দলে যেতে পারেন, তখন…। বিরোধী দলে কিন্তু এইভাবে বলতে পারবেন না।

পুলিশের নিজেদেরও ভাবা উচিত গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে কি করা উচিত। বিশ্বের নানা দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত।

হানিফের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে পুলিশের ইমেজ নষ্ট করতে চান, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্র, সেটা যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের মধ্যে কেউ হতে পারে, বিরোধীদলের হয়ে থাকতে পারে।

আমাদের দেশে যেভাবে পুলিশকে ব্যবহার করা হয় এমনটা মনে হয় আর কোন দেশে নাই, থাকলেও খুবি কম, হাতে গোনা কয়েকটা দেশে থাকতে পারে।

দুর্নীতি, গনতন্ত্র

বর্তমান প্রেক্ষিতে আমরা কি সংবিধানের ৭ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগন, আমরা কি সেই অবস্থানে আছি? নাহ, যে জনগনের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যারা দুর্নীতি করেছে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতো, রাজনৈতিক বিবেচনায় খালাস করা হবেনা বলতো, দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে আমরা দেখিনা। বরং আমরা দেখি রাষ্ট্রক্ষমতার মধ্যে এমন কিছু পাওয়ারফুল ইনভিসিবল ইলেমেন্ট দেখি যারা আসলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবে-শাস্তি দেবে তো দূরে থাকুক বরং প্রমোট করার চেষ্টা করছে।

আপনারা কি বলেছিলেন আবার পড়ে দেখুন, দেড় বছর এখনো সময় আছে।

এতে করে কিন্তু সাধারন মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়েই চলেছে।

জনগন, গনমাধ্যম, রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা প্রতিভাবান, ভালো মানুষ আছেন তাদের সবাইকে একসাথে নিয়ে একটা প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন, তাতে সরকারের উপর চাপ থাকবে।

দেশের পলিসি স্ট্রাকচার দেখুনঃ

  • আমাদের একটা ভালো প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট হুট করে পরিবর্তন করে দেয়া হলো, বলা হলো ২কোটি টাকার নীচের কাজ এর বাইরে থাকবে। কেবিনেটে সুস্পষ্ট করে বলাই হলো আমাএর ছেলেরা ৭বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল, এদের একটা সুযোগ করে দিতে হবে।
  • আমাদের একটা আইন হলো বিদ্যুত খাতে ক্রয় করবেন, খরচ করবেন কিন্তু এগুলোকে প্রশ্ন করা যাবেনা। আপনি অনিয়মগুলোকে প্রটেক্ট করার জন্য…
  • পদ্মার দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ২য়বার প্রতিবেদন পাঠালো অর্থমন্ত্রীর কাছে, তিনি সেতা ধরে বসে আছেন। কি আছে সেটা আমরা জানতে পারলাম না। সরকার থেকে বলা হলো যেহেতু লেনদেন হয়নি তাই দুর্নীতি হয়নি।
  • দুদককে গত ৩ বছর মনস্তাত্বিক চাপে রাখা হলো একটা আইন করে। শুধুমাত্র যদি কিছু করেও থাকে সেটাও সরকারবিরোধীদের বিপক্ষে, সরকারের দিকে হাতই দিতে দেওয়া হয়নি।
  • টেলিকমিউনিকেশন আইনে পরিবর্তন করে কমিশনের ক্ষমতা মন্ত্রনালয়ে চলে আসলো।
  • বাজেটে কালো টাকা সংবিধান পরিপন্থী, নির্বাচনী অঙ্গীকার পরিপন্থী। যতবার সুযোগ দেয়া হলো একবার সফলতা আসেনি। শুধুমাত্র একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ করে দিতেই এটা এটা করা হচ্ছে।

সপ্তম নৌবহর

যে প্রেক্ষিতে সংবাদটা এসেছে এটা খুব যে নতুন তা কিন্তু নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের প্রতিরক্ষা নিয়ে একটা দ্বান্দ্বিক অবস্থান আগে থেকেই আছে। দেখা গেছে এর আগেও এমনটি হয়েছে।

তবে খবরটা গুরুত্বপূর্ণ, এটা আমাদের অবসার্ভ করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বপ্রেক্ষিত পরিবর্তন হয়েছে। মাল্টি-পোলারাইজেশন হচ্ছে। চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের, ভারতের বিজনেস স্টেক কিন্তু খুব হাই।

এটাকে আমি খুব বড় বিষ্য হিসেবে দেখছিনা, এটা পার্ট অব দা রেগুলার থিং হতে পারে।

ইস্তেহারের প্রধান ৫টি লক্ষ্যের মধ্যে ২ নাম্বারে ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনঃ

দুর্নীতি প্রতিরোধে নানামূখী পদক্ষেপ নেয়া হবে; ক্ষমতাবানদের প্রতিবছর সম্পত্তির হিসাব দিতে হবে; ঘুষ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে; কালোটাকা ও অউপার্জিত টাকার মালিক, ঋনখেলাপী, দরপত্রে প্রভাববিস্তারকারী এবং সমাজে ও রাষ্ট্রের যেকোন পর্যায়ে পেশী শক্তি ব্যবহারকারীদের বিরদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে; কর্মকর্তাদের বাড়তি সুবিধা কমানো হবে; জনঘনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সিটিজেন চার্টার চালু করা হবে; এবং ব্যাপক কম্পিউটারাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি কমানো বা দুর্নীতির সুযোগ আছে যেখানে তা নির্মূল করা হবে।

Advertisements