৭০লাখ টাকার কেলেঙ্কারীর পর এই প্রথম কোন ইন্টারভিউ দিলেন সুরঞ্জিত। কাল রাতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির আজকের বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তিনি; সঞ্চালক খালেদ মুহিউদ্দীন অনেক কথাই জিজ্ঞেস করলেন তাকে, আবার কিছু বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়নি সময়ের অভাবে।

তবে এই কথপোকথনের একটা অংশ—মানে সুরঞ্জিত ৯ই এপ্রিলের ঘটনা নিয়ে যেসব প্রশ্ন তুলেছেন সেগুলো আমার নিজেরও জানার ইচ্ছা ও আগ্রহ উভয়ই আছে।

)          ইস্কাটন থেকে পিলখানার মধ্যে থানা আছে, পুলিশ ফাঁড়িও আছে, ড্রাইভার আলী আযম কেন পিলখানাতেই গেল?

)          ড্রাইভার যদি পিলখানাতে যেতে পারে মালিককে ধরিয়ে দিতে, তবে সে কেন তদন্ত কমিটির সামনে যাচ্ছে না?

)          বিজিবি’র তো পিলখানাতে কাউকে আটক রাখার ক্ষমতা নাই, তাহলে তারা সেই ৪জনকে একরাত আটকে রাখলো কেন?

)          একটি টিভি চ্যানেল কিভাবে সাথে সাথেই জেনে গেল পিলখানার ঘটনার কথা?

)          সেখানে তো সেনাবাহিনীও থাকে, তাদের ভূমিকা কি?

)          এখনো পর্যন্ত সেই ঘটনায় কোন মামলা হয়নি কেন?

)          “আমার পদত্যাগপত্র কোথায়? কি লেখা ছিল সেখানে?” (“কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেনি”)

দুদকের তদন্ত শেষ হবার আগেই কেন রাজনীতিতে ফিরলেন সেই প্রসঙ্গে তিনি জনগনের প্রতি তার দায়িত্ব পালনের কথা বললেন।

রেলওয়ের কমিটির যে সুরঞ্জিতকে নিয়ে কিছু করার এখতিয়ার ছিলনা, এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন কমিটি চাইলে তাঁর সাথে কথা বলতে পারতেন।

সুরঞ্জিতের দাবি একটি ঐক্যবদ্ধ গোষ্ঠী যারা রেলওয়েকে বছরের পর বছর দুর্নীতির মাধ্যমে পঙ্গু করে রেখেছে, সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং তার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে লাগতে পারে; কেননা তিনি রেলওয়েকে উন্নত করতে চাইছিলেন, সবসময় অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন (সম্ভবত সংবিধান সংশোধন কমিটির মূল ব্যক্তি হওয়াটা একটা বিশেষ কারন), আগে বামপন্থী রাজনীতি করতেন এবং মন্ত্রীও হলেন।

তবে তিনি কষ্ট পেয়েছেন ডেইলি স্টার তার ছেলের একটি লাইসেন্স পাবার ব্যাপারে যেভাবে ইহইচই করলো তা নিয়ে। তদন্ত/অনুসন্ধান না করে এমন প্রতিবেদন দেয়ায় তিনি ব্যথিত হয়েছেন।

আমার মতে, সরকারি হস্তক্ষেপে নিজেদের লোকদের বিরুদ্ধে কোন তদন্ত বা মামলা নিরপেক্ষ না হলেও সাংবাদিক ও সচেতন জনগনের উচিত নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান করা।

ওমর ফারুকের সম্পর্কে আমি যতটুকু জেনেছি তা হলো সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রলীগার, এবং সুরঞ্জিত মন্ত্রী হবার আগে থেকেই সে সরকারি নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির তদবিরের কাজ করে দিত। সব কাজেই সুরঞ্জিতের নাম ব্যবহার করলেও, সুরঞ্জিত আদৌ সেইসব টাকার ভাগ পেতেন কিনা তা আমি নিশ্চিত নই।

মৃধার সম্পর্কে ইতিমধ্যেই অনেক তথ্য পেয়েছে রেলওয়ের তদন্ত কমিটি। ওর খবর আছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।

তবে ওমর ফারুকের ড্রাইভার যে কিনা রেলওয়েতে নিয়োগ নিয়ে ঘটতে থাকা দুর্নীতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এলেন, তার সম্পর্কে খবর পাওয়াটা খুব জরুরি। তিনি কি পালিয়ে আছেন না তাকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বা ‘গুম’ করা হয়েছে তা জানাটা জরুরি।

সুরঞ্জিতের গদিপ্রীতি; রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্নীতি’র পালন

Advertisements