জাহাঙ্গীরনগরের অনির্বাচিত ভিসির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে একটা ধাপ পূর্ণ হলো, তাও অনেক দিন বাদে। সরকার যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না গোপালগঞ্জের লোক হয়ে, প্রাক্তন ছাত্রলীগার এবং একসময়কার ট্রেজারার, নানান একাডেমিক পদকপ্রাপ্ত শরীফ এনামুল কবীর এত খারাপ হতে পারে!

গত কয়েকমাস ধরে চলা আন্দোলন, প্রায় সব পত্রিকা-টিভিতে আসা প্রতিবেদন-মতামত, সুধীজনদের সমর্থন—কিন্তু তারপরেও এই বেহায়া ভিসি গদি ছাড়তে চায় না।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করার পরেও প্রায় ১৫দিন লাগলো তাকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে।

এই সুযোগে ভিসি তার দরকারি সুযোগ-সুবিধা গুছিয়ে নিয়েছে। অতীতের সব সরকারের মত আওয়ামী লীগও নিজেদের মধ্যে সুযোগ দেয়া-নেয়ার খেলাটা খেললো।

জানিনা এখনও কি অপেক্ষা করছে সামনে। কে আসছে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে। আবার কি শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের রাস্তায় নামতে হবে? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না। সরকারের মেয়াদ শেষ হবার আগে অবাধে টাকা খাওয়ার রাস্তা কি বন্ধ করতে পারবে এরা?

অনেক কিছু অমিমাংসিত থেকে গেলো। এপ্রিলের শেষে সাংস্কৃতিক জোটের কর্মী ও শিক্ষকদের উপর হামলা, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা—এগুলোর বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন (নিজেদের লোককে শাস্তি দিতে হাত কাঁপছে)।

তাছাড়া আমাদের দাবি জুবায়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার, সকল হত্যাকারীদের এবং মদদদাতাদের বিচারের আওতায় আনা।

আরো দাবি থাকলো এই ভিসির সাড়ে তিন বছরের সব আকাম-কুকামের ময়নাতদন্ত করতে হবে।

যেই ভিসির কারনে এতদিন সব বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, দুর্নীতি-অনিয়ম থামছিলনা, তার পতনে আশা করি আমাদের ভবিষ্যত দিনগুলিতে রাস্তায় নামতে হবেনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে কথা চলছে। তিনি সাময়িকভাবে বসছেন জাবি’র ভিসি পদে। আশা থাকলো তিনি স্বল্পতম সময়ে ভিসি প্যানেলে নির্বাচন দিবেন।

Advertisements