ইউনুসের ‘শান্তিতে নোবেল’ প্রাপ্তি, প্রতিহিংসা ও পদক-কালচার


নোবেল শ্নতি পুরস্কারের পদক ইউনুসের নোবেল প্রাপ্তি ও তাও এবার অর্থনীতিতে না হয়ে শান্তি’তে কেন প্রশ্ন তুললেন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। ক্ষুদ্রঋণের কার্যকারিতা বাংলাদেশে একরকম নেই দাবি করে তিনি বললেন ১০০০ বছরেও নাকি পরিস্থিতির উন্নতি হবেনা।

“তার (ইউনূস) বেসিক সাবজেক্ট ছিল অর্থনীতি। তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন না। কোনো যুদ্ধ বন্ধ না করেই তিনি শান্তিতে নোবেল পেলেন। নোবেল কীভাবে আসে-তা আমাদের এখানে অনেকেই জানেন।”

ইউনুসের উপর আশরাফ তথা আওয়ামী লীগের এত রাগ অবশ্য নতুন নয়, কিন্তু ৩ বছর আগের বিষয় অনেক দিন পর এবার চাগার দিল হিলারির কথা শুনে।

এরকম মেজাজ খচেছে অর্থমন্ত্রী মাল মুহিতেরও। হিলারি সেদিন বলে গেলেন তার বন্ধু ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংক যেন ঠিকমত কাজ করে, সরকার যেন হস্তক্ষেপ না করে। সরকারি সফরে এসে তার ইউনুস-আবেদ বৈঠক ও আমেরিকান দূতাবাসের আয়োজনে একটি “সাজানো টকশো”-তে অংশ নিয়ে সরকারকে নানা ধরনের পরামর্শ দেয়ায় ক্ষেপেছেন আশরাফ। প্রধানমন্ত্রী মুখ না খুললেও তার কাছের লোকেরা বলতে শুরু করে দিয়েছে, আশরাফ সাহেব তো কাল মুখে ফেনা তুলে ফেললেন!

যাকগে, এসব হিংসা-প্রতিহিংসার বিষয় নিয়ে ঘাটাতে চাইনা, দূর্গন্ধ বেরুবে।

কথা বলছিলাম আসলে পদক নিয়ে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পদক, নোবেল টাইপের। দলীয় সভায় কথ্য ভাষায় কথা বলতে গিয়ে আশরাফ সাহেব হাল্কা-পাতলা কথা বলে ফেললেন। নোবেল তো শুধু ইউনুস সাহেব পাননি, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য গ্রামীন ব্যাংকও এর ভাগীদার হয়েছে।

কেন ইউনুসকে শান্তিতে নোবেল দেয়া হলো এইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলেও এটা অনুমেয় যে সেবছর হয়তো অর্থনীতির কোটা পূর্ন হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া ইউনুস সাহেবকে সবচেয়ে বেশী সম্মান দেবার ইচ্ছা ছিল মনোনয়নকারীদের। আমরা জানি মহান নেতা নেলসন মেন্ডেলা, অং সাং সুচি এবং ইয়াসির আরাফাতের মত ব্যক্তিরা শান্তিতে নোবেল পেলেও শোষনবাদী দেশ আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাও নোবেল বাগিয়ে নিয়েছে। ফলে এর সম্মান খানিকটা যে কমছে না তা বলা যাবে না।

সরকারি দলের হোমড়া-চোমড়া হলে বা মন্ত্রীপরিষদের কেউ হলে দেশে-বিদেশে অনেক সম্মাননা-পদক মেলে, এবার সমাজের বিভিন্ন ভাগে যেমন সাহিত্যিক, শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ি ইত্যাদি ক্ষেত্রে “প্রতিভাবান-সফলদের” নানা পুরস্কারে জর্জরিত করে সরকারি এবং বেসরকারি-ব্যবসায়ি নানা সংগঠন।

সবসময়েই কিছু অযোগ্য বা কমযোগ্য (পেছনের সারির কেউ) ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেখা যায় এসব “সম্মানের” জোরে নিজের দেশে তো বটেই বিদেশে গিয়েও খানিকটা বাহাদুরি করা যায় “আমি অন্যান্য (ফকিরন্নী) বাংলাদেশীদের থেকে আলাদা” এমন ভাব প্রকাশ করে।

শুধু যদি ভাবনা-পরামর্শ বা কাজের গুনাগুন ও প্রভাব বিবেচনায় “পদক” দেয়া হয় বা গ্রহন করা হয় তাহলে আমার কোন সমস্যা নাই। নাহলে সমস্যা আছে। সেক্ষেত্রে এসব পদক দেয়া ও নেয়া উভয়ই ঘৃন্য ক্রিয়াকলাপ বলে গন্য হইবেক।

আজকাল আবার প্রায় সব নামিদামী পুরস্কারই পরিচিতি ও প্রভাবের জোরে প্রভাবান্বিত করা যায় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যেমন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদক যে কতগুলা, সাথে আছে সম্মানসূচক নানান ডিগ্রি। এই তো গত সপ্তাহেই তিনি পেলেন ইউনেস্কো থেকে।

বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে তার হাতে পদক তুলে দেন সংস্থার মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা। বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশেষ অবদানের জন্যই শেখ হাসিনাকে ইউনেস্কোর “কালচারাল ডাইভারসিটি পদক” দেওয়া হয়েছে।

একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সমাবর্তন আয়োজনের মাধ্যমে বোকোভাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অফ লজ’ ডিগ্রি দেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।

তাছাড়া রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি কলকাতায় মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড নেন। সামাজিক ও প্রশাসনিক কাজের স্বীকৃতি হিসাবে ২০১১ সালে মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড সম্মান দেয়া হচ্ছে তাকে। দীপু মনি ছাড়াও এবার ভারতের ২৪ জনকে এই সম্মানা দেয়া হয়। কয়েক বছর আগে রাজনীতিতে অবদান রাখার জন্য একই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা এবং কলকাতায় গিয়ে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন।

বেশ একটা পদক-সংশ্লিষ্ট সপ্তাহ পার করলাম।

4 comments

  1. নোবেল কমিটি ইউরোপীয়ান ইউনিয়নকে নির্বাচন করার ব্যাপারে যাই বলুক না কেন, আমি গোস্বা করলাম আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর কন্যা, দেশনেত্রী, গনতন্ত্রের মানসকন্যা, সমুদ্রজয়ী সফল রাষ্ট্রনায়ক (নায়িকা), জাতিসংঘে বিশ্বশান্তির মডেল প্রস্তাবকারী শেখ হাসিনাকে এ বছরের নোবেল শান্তি পদকটি না দেয়ার জন্যে। উনাকে এই পদন না দেয়ার পেছনে প্রতিহিংসাপরায়ন ইউনুস বা খালেদা জিয়ার হাত থাকতে পারে বলে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে। আমি এই ভয়ানক ষড়যন্ত্রের তীব্র বিরোধীতা করছি ও নোবেল কমিটির কাছে তাদের নির্বুদ্ধিতার জন্য নিন্দাবাক্য প্রেরণ করছি।

    Like

  2. কিন্তু ভাই, আমি তো দেখছি সৈয়দ আশরাফ কইছে ১০০০ বছরেও কোন পরিবর্তন হইবো না। আর কী কমু দেশের রাজনীতিবিদদের কথা, একজন না হয় ভুল কইরা একটা পদক পাইছে তাতে এতো কওনের কি আছে। তার কী সাধ আহ্লাদ বলে কিছু নাই।

    Like

    • ধন্যবাদ মুন, একটা শুন্য কম লিখে ফেলসি। গ্রামীন ব্যাংকের যদি ১০০০ বছর লাগে তবে রাজনৈতিক সরকারের ৫০০০ বছর লাগবে।

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s