ত্রানকর্তা যখন হামলা করে, তখন বিচার দেবো কার কাছে? তবে কি আইন নিজের হাতে তুলে নেবো? নাকি পড়ে পড়ে মার খাব অথবা মারের হাত থেকে বাঁচতে বোবা-প্রতিবন্ধী হয়ে থাকবো?

এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না গত দুদিন জাহাঙ্গীরনগরে ঘটে যাওয়া ও আগামী দিনগুলোতে ঘটতে যাওয়া গোপালগঞ্জের ভিসি, তার সৈনিক রাজনৈতিক শিক্ষকমহল ও ছাত্রলীগের কর্মীবাহিনীর ত্রাসের রাজত্বে কিভাবে আঘাত হানা সম্ভব। ক্যাম্পাসের প্রশাসন, পুলিশ, মন্ত্রনালয়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা — সবখানে আওয়ামী লীগের (গোপালগঞ্জের) সৈনিকেরা ডান্ডা হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

জাবি’র শিক্ষক সমাজ প্রতিরোধ ধরে রাখার চেষ্টা করছে অনৈতিক নিয়োগ, দূর্নীতি, প্রশাসনের নানা অনিয়ম, গাছ কাটা-লেক ও জমি বন্দোবস্ত দেয়ার মত অযাচিত নানা সিদ্ধান্ত, ছাত্রলীগের একটি গ্রুপকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার সুযোগ দেয়া, অন্যান্য গ্রুপকে (ও ছাত্রদলকে) ক্যাম্পাসের বাইরে রাখার বিরুদ্ধে।

এরই মধ্যে চতুর ভিসি কয়েকবার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানাভাবে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু তার এইসব ভুয়া বাক্যালাপে কান না দেওয়ায় সুবিধাবাদী শিক্ষকদের ব্যবহার করেও যখন কাজ হলোনা, তখন শেষ অস্ত্র ছাত্রলীগের (এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বহিরাগত) সৈনিকদের দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের উপর হামলা, পাল্টা মিছিল আর চক্রান্তের মাধ্যমে সকল বিরুদ্ধাচরন দমানোর (বৃথা) চেষ্টা করছে।

এরই মধ্যে পুলিশ সার্বক্ষনিকভাবে নিরাপত্তা দিয়ে চলেছে ভিসি ও তার পন্থী রাজনৈতিক শিক্ষক ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের। তাছাড়া ছাত্রলীগের অন্য কোন গ্রুপ বা ছাত্রদল যেন ক্যাম্পাসে না আসতে পারে তাও নিশ্চিত করছে আইন-শৃংখলা বাহিনীর বোবা কিন্তু পেটোয়া দাসেরা।

আর জুবায়ের হত্যা মামলার রাশ টেনে ধরা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের বাদ দিতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে চলেছে আশুলিয়া থানার গোপালগঞ্জীয় পুলিশ।

গতকাল তো পল্লী বিদ্যুত পর্যন্ত সাহায্য করলো ছাত্রলীগকে সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে, সে সময় এবার পুলিশের লোকজন একটু দূরে সরে গেল যেন পরে বলতে পারে “আমরা তো ওখানে ছিলাম না” বলতে পারার জন্য। তারপর ক্যাডাররা হামলে পড়লো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপর। আধ ঘন্টা পর বিদ্যুত চলে আসায় দাঙ্গাবাজ ছাত্রলীগের (ভাড়াটে ক্যাডার/এরা শিক্ষার্থী হবার যোগ্যতা রাখেনা) নেতা-কর্মীরা সরে গেল।

এখানে বলে রাখা উচিত জানুয়ারিতে জুবায়ের মারা যাবার পর ভিচি বলেছিল “ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা এমন ঘৃন্য কাজ করতেই পারেনা”, “ক্যাম্পাসে কোন ছাত্রলীগ নেই”, “আমার সাথে ছাত্রলীগের কোন যোগাযোগ নেই”… ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু ছাত্রলীগ তার মুখ রক্ষা করতে পারলো না, গত কয়েক মাস ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় তারা তাদের স্বভাবসিদ্ধ আকাম-কুকাম, সন্ত্রসী কার্যকলাপ চালিয়ে গেছে। ওদের থামাবে কে?

আর থামাবেই বা কেন? অতীতের বেশীরভাগ চ্যাম্পিয়ন ছাত্রলীগারকে তো আওয়ামী লীগ সরকার আসলেই নানাভাবে বানা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে বসায় তাদের কাজের পুরষ্কার হিসেবে। (যেমন সরকারি চাকুরি পেতে বিশেষ বন্দোবস্ত করা, পদোন্নতিতে সুবিধা দেয়া অথবা কেন্দ্রীয় নেতাদের ধারের কাছে ঘেঁষার সুযোগ করে দেয়া ইত্যাদি)

কোন কোন নির্জীব মানুষ বলেন “এ আর এমন কি? বিএনপিও তো এমনি করে। এদের আচরন তো একই রকমের।”

ঠিক, কিন্তু বিএনপি কখনো পরিবর্তন/দিন বদলের কথা বলেনি, সুতরাং আচরন পাল্টানোর তাদের কোন দায় নেই, ছিলনা।

* জাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর দফায় দফায় হামলা ছাত্রলীগের
* জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগের তাণ্ডব