উদ্ধৃতি সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম

১, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এমন কিছু বলবেন না, যাতে দেশের মানুষ লজ্জা পায়। প্রধানমন্ত্রীর পদের একটি মহিমা আছে, তা নষ্ট করবেন না।” প্রতিক্রিয়াঃ প্রথমে কথাটা শুনে হাসি পেলেও, উনার সহনশীলতা আগের চেয়ে বেড়েছে বলেখুশি হলাম। আজকাল হাসিনার বাঁকা কথায় খালেদা পাল্টা গালি দিচ্ছেন না।

২, “সরকার যদি এতই জনপ্রিয়, তবে কেন তাদের এত ভয়,” সমাবেশে বাধার প্রতিক্রিয়ায় বলেন তিনি। প্রতিক্রিয়াঃ সরকার তো জনপ্রিয় শুধু নিজের দলের চামচাদের কাছে!

৩, “এই সরকার জনগণের সরকার নয়, মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকার।” প্রতিক্রিয়াঃ ঠিক, নইলে অই দুই জানোয়ারের বাড়াবাড়ির বিচার করছে না কেন হাসিনা?

৪, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নতুন জোটের পক্ষ থেকে বলছি, আগামী ১০ জুনের মধ্যে তত্ত্ববধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে পুনঃস্থাপন না করা হলে ১১ জুন জোটের পক্ষ থেকে ঢাকায় সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” প্রতিক্রিয়াঃ তত্ত্বাবধায়ক তো দিবেনা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বিএনপির ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়া আলোচনা করা যাইতে পারে। তবে হাসিনার উচিৎ হবে তখন প্রধানমন্ত্রী থাকার খায়েশটা বাদ দেয়া।

৫, “এই সরকারের আমলে সীমান্তে নিরাপত্তা বলে কিছুই নেই। বিএসএফ ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশিদের হত্যা করেছে। এই সরকার প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি।” ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “তিস্তা চুক্তির কথা বলা হয়েছিল, কোথায় চুক্তি, কোথায় চুক্তির পানি? আমরা বলতে চাই, আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। কিন্তু একতরফা দিয়ে যাব, বিনিময়ে কিছুই পাব না, সেটা হবে গোলামি। এই সরকার গোলামির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এই দুর্বল-নতজানু সরকারকে বিদায় করতে হবে।” প্রতিক্রিয়াঃ ভাইরে, ভারতের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের আচরন ‘বেশ্যা’দের মতো। দিছে ১০০কোটি ডলার আর সুদে আসলে তুলে নিচ্ছে কয়েকগুন। সরকারের লাভ তারা দেখাতে পেরেছে যে তারা ভিক্ষা করে টাকা আনতে পারে।

৬, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরানো সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন তিনি। প্রতিক্রিয়াঃ অবশ্যই, “প্রতিহিংসাই আমার অহংকার”-হাসিনা।

৭, “লোডশেডিংয়ে আজ জীবন অতিষ্ঠ। অথচ কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে দলীয় লোকজন ও আত্মীয় স্বজনদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে নয়, লুটপাটের জন্যই এই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ বিনা দরপত্রে দেওয়া হয়েছে।” প্রতিক্রিয়াঃ আবার এই বিষয়ে কেউ যেন আইনী ব্যবস্থা নিতে না পারে সেজন্য ‘ইন্ডেমনিটি আইন’ করা হয়েছে। ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হলেও অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো যান্ত্রিক গোলযোগে ও গ্যাসের অভাবে বন্ধ হওয়ায় প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কম হচ্ছে।

৮, “শেয়ার মার্কেটে এতবড় লুট হয়ে গেল, তাদের কারো বিচার হয়নি, বরং তাদের আরো অধিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বললেন, যারা লুট করেছে, তারা এত ক্ষমতাবান, তাদের নাম প্রকাশ করার ক্ষমতা তার নেই। তাহলে বুঝতে বাকি থাকে না, এই ক্ষমতাবান ব্যক্তি কারা।” প্রতিক্রিয়াঃ আমরাও জানি ওরা সরকারি দলের বা তাদের কমিশন দিয়ে চলে বলেই সরকার এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়না। খালেদা তো দুইবার ক্ষমতায় আসছিলেন, উনি তার নিজের কয়টা লোকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন?

৯, “তারা ১০ টাকা কেজিতে চাল দিতে পারেনি, কৃষকদের বিনামূল্যে সার দিতে পারেনি, শুধু তাই নয়, প্রতিটি কৃষি উপকরণের দাম বাড়িয়েছে। সারের দাম তিন গুণ বাড়িয়েছে।” প্রতিক্রিয়াঃ এমনকি কৃষকদের ধান-পাটের ন্যায্য দাম দিতেও সরকার পিছু হটছে। মাটির গুনাগুন রক্ষা করে, কম খরচে উন্নত কৃষি সহায়তা এখনো দিতে পারেনি সরকার। নির্বিচারে পরিবেশ দূষণে আক্রান্ত কৃষি ব্যবস্থাকে বাঁচানোর কোন তাগিদ সরকারের মধ্যে নেই।

১০, “সত্য খবর দেয় বলে গণমাধ্যমকে ভয় পায় সরকার। এই সময়ে ১৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। সবশেষ খুন হয়েছে সাগর-রুনি। এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার-টিচার আর হবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই দায়িত্ব নিয়ে এখন বলছেন, আলামত মুছে গেছে। আলামত মুছে ফেলে এখন বলেন, মুছে গেছে!” প্রতিক্রিয়াঃ এই বিষয়টা অন্তত স্পষ্ট যে সরকারি নেতা বা তাদের মদদেই এই হত্যাকান্ড ঘটেছে।

১১, “বিচার বিভাগ আজ সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। অনেক বিচারক চাইলেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এই জন্য ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেছেন, দেশে আজ মুখ চেয়ে রায় দেওয়া হয়। এখন আওয়ামী লীগের জন্য এক বিচার, অন্যদের জন্য আরেক বিচার।” প্রতিক্রিয়াঃ নির্জলা সত্য কথা, একদম বিএনপি আমলের মত অবস্থা।

১২, “দেশে এখন বাকশাল চলছে। গণতন্ত্র এখন বন্দি, এক জনের শাসন চলছে। এই গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে।” প্রতিক্রিয়াঃ এইরকম গনতন্ত্র অরাজনৈতিক জনগন পছন্দ না করলেও, খালেদা ও হাসিনা উভয় পরিবারেই এর প্রভাব জন্মলগ্ন থেকেই। আরো যে কত দিন এদের সহ্য করতে হবে তার কোন ঠিক নাই।

১৩, সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা মুখ খুলুন, নইলে পরে জনরোষে পড়বেন। জনগণের হাতে লাঞ্ছিত হবেন।” প্রতিক্রিয়াঃ এরা বিপদ দেখলে মুখ খুলে না, কেননা সরকারি চাকুরি হইলো আজীবনের সম্পত্তি, সেই আরাম ছেড়ে কে আসবে?

১৪, “সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তাই তাদের এত ভয়। সরকার এখন আতঙ্কে ভুগছে। তাদের ভয় এখন জনগণকে। এতই যদি ভাল কাজ করেন, উন্নয়ন করেন, তবে কেন এত ভয়?” প্রতিক্রিয়াঃ নিজের খেয়ালখুশিমত সব সিদ্ধান্ত নিলে জনগন তো দূরেই থাকবে, যেমনটি ছিল আপনাদের আমলে।

১৫, “নিদর্লীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দেওয়া হলো। এর সময়ের মধ্যে সরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনর্বহাল না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব। ওই কর্মসূচিতে হয় দাবি পূরণ করবে, নইলে সরকারকে বিদায় নিতে হবে।” প্রতিক্রিয়াঃ এইসব দাবিনামার কথা মঞ্চে বলার কারন জনগনকে দেখানো যে আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আছি। আসলে তলে তলে মীমাংসা করতে বদ্ধ পরিকর, কেননা তার নিজের নামে ২টি, তারেকের কমপক্ষে ২টি, কোকোর নামে ২টি মামলা চলছে; সরকার এগুলো নিয়ে জিম্মি করে রেখেছে এই জিয়া পরিবারকে।

জুন পর্যন্ত কর্মসূচীঃ

১, মহাসমাবেশে বাধা দেওয়া, গণগ্রেপ্তার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ২৯ মার্চ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। প্রতিক্রিয়াঃ ৩দিন হরতাল দেয়া দরকার ছিল যেভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এমন বাধা বিএনপিও দিয়েছে ২০০৪ ও ২০০৬ সালে। আর শুনলাম ২৯ তারিখে নাকি তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলাইয় অভিযোগ গঠনের শুনানি, সেটাকে বাধা দেয়ার এটা একটা চতুর চেষ্টা।

২, পুরো এপ্রিল মাস সরকারের ‘ব্যর্থতা’র প্রতিবাদে জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ। প্রতিক্রিয়াঃ দলটা গুছিয়ে নেয়ার এটা একটা বড় সুযোগ।

৩, পুরো মে মাস সার ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা প্রতিবাদে জেলা উপজেলায় ঘেরাও কর্মসূচি। প্রতিক্রিয়াঃ এই ইস্যুগুলো নিয়ে সারাবছর আন্দোলন করার কথা থাকলেও বিরোধী দল শুধু কিভাবে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে পারবে সেই ধান্ধাতেই আছে।

যদি আবার ক্ষমতায় আসে বিএনপি, তবেঃ

১, জনপ্রতিনিধিদের হাতে আরো ক্ষমতা দেব। প্রতিক্রিয়াঃ তার মানে উপদেষ্টা-মন্ত্রীদের ক্ষমতা কমবে?

২, দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতায় আনা হবে। প্রতিক্রিয়াঃ তার মানে বিভিন্ন পর্যায়ে আপনার দলের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় চাঁদা তুলবে না? ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেট তো আপনার দলেই বেশি।

৩, প্রাথমিকভাবে ১ কোটি গরিব মানুষকে রেশন ব্যবস্থায় আনা হবে। প্রতিক্রিয়াঃ দেন, খুব ভালো হবে। তবে উন্নয়ন বাজেটের টাকা থেকে দিবেন নাকি?

৪, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে। প্রতিক্রিয়াঃ সেটা তো আমি প্রধানমন্ত্রী হলেও পারবো, কারন আপনি তো বলেননি কতদিনে করবেন!!!

৫, ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। প্রতিক্রিয়াঃ এটা না পারলে আপনি তো ক্ষমতায়ই আসতে পারবেন না।

৬, গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। প্রতিক্রিয়াঃ বিদেশিরা নিজেদের স্বার্থেই সেটা করতে বর্তমান ও পরবর্তি সরকারকে চাপ দিচ্ছে-দিবে।

৭, নতুন কলকারখানা চালু এবং বন্ধগুলো চালু করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে খালেদা বলেন, “কীভাবে দেব, সেই টেকনিক আমাদের আছে, এখন বলব না। সময় হলেই বলব।” প্রতিক্রিয়াঃ গতবার আপনাদের খুঁটিখাম্বা রাজনীতির পর এই সরকার তেলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখাইলো  এই সরকার। এখন আপনে বলতেছেন নতুন চমক দিবেন! আমরা কি মফিজ নাকি?

৮, যুবকদের কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে তা পূরণের বিষয়েও একই কথা বলেন তিনি। প্রতিক্রিয়াঃ সব সরকারই যুবকদের আশ্বাস দেয় নির্বাচনে তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেবার জন্য। আর আপনি যদি হাসিনার মত শুধু ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আ লীগের লোকদের কাজ দেন, তবে আর ভালো কি হবে???