জাবিতে নতুন প্রক্টোরিয়াল বডি হল ১ মাসে!


শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ঢাকাতেও, যোগ দেন প্রায় তিন শতাধিক প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী


আজকে যে ৪জন সহকারি প্রক্টর ‘পদত্যাগ’ করলেন সেটাকে আসলে পদত্যাগ বলা যায় কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। কেননা এই প্রক্টোরিয়াল বডি পরিবর্তনের দাবি শুরু হয়েছে গতমাসে জুবায়ের খুন হবারও আগে থেকে। আর এই খুনের পর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবল দাবি ঊঠে এদের বিরুদ্ধে।

শোনা যায়, প্রাক্তন প্রক্টর আরজু মিয়াকে জানিয়েই জুবায়েরকে ধরে পিটাতে নিয়ে যায় ছত্রলীগের ভিসি গ্রুপের লোকেরা। ঘটনার কয়েকদিন আগে সেই গ্রুপের নেতা আজগর আলী পরীক্ষা দিতে ক্যাম্পাসে আসা জুবায়েরকে ভয়-ভীতি দেখায় ট্রান্সপোর্ট এলাকায়।

এরকম মারামারির পর গত বিএনপি আমলের প্রক্টরও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বাচিঁয়ে দিয়েছে।

আর গত ৩ বছরের এই অনির্বাচিত ভিসির জমানায় নানা রাজনৈতিক সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রক্টোরিয়াল বডির অদক্ষতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরনে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে অনেক সাধারন ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী শিক্ষার্থীদের।

ছাত্রলীগের দখলদারিত্বের রাজনীতির কাছে হার মেনেছে একই ক্যাম্পাসের এদেরই আরো কিছু ক্ষুদ্র গ্রুপ।

ভিসিবিরোধী গ্রুপের প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী এখন ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ এসে পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। যেমনটা করতো জুবায়ের। সে ঢাকা ও সাভারে থাকতো গত প্রায় দেড় বছর ধরে।

আর ছাত্রদল তো ক্যাম্পাসে নিষ্ক্রিয় সেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই।

গত ৩ বছরে প্রায় ২০টির মত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ক্যাম্পাসে প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে, যেমনটি আগেও হতো বিএনপি আমলে। প্রক্টর ও তার সহকারিরা এসব আগে থেকেই জানেন অথবা ঘটনা ঘটার পর পরই তাদের কাছে অনুরোধ আসে আক্রমনকারীদের পক্ষ থেকে আইনী ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে।

ব্যবসা করার একটা সুযোগ পায় ভিসি, প্রক্টর ও অন্যান্য “রাজনৈতিক শিক্ষকেরা”। এই সব শিক্ষকদের দেখলে সালাম দিতে ইচ্ছে করেনা। কথা বলা তো দূরে থাক।

<strong>প্রশাসনের বেহায়াপনা</strong>
এত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাবার পরেও ভিসি প্রায় ১ মাস সময় নিল তার প্রক্টরিয়াল বডি সংস্কার করতে! এটা অবাক হবার মত এইক্ষেত্রে যে এটা “নব্য আওয়ামী লীগের” সরকার যারা বলেছিল “দিন বদলের” কথা।

আর অবাক না হবার কারন গত ৩বছরেই আমরা দেখেছি–কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলাউদ্দীন-এর (প্রাক্তন জাবি ভিসি) ছত্রছায়ায় বর্তমান ভিসি এনামুল কবীর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বিভিন্ন বিভাগে, প্রশাসনের নানা স্তরে নিজেরদের লোক নিয়ে ক্যাম্পাসটাকে নিজেদের বাপের এলাকা মনে করে কুশাসন কায়েম করেছে এই ভিসি।

ছাত্র-রাজনীতি সহজভাবে ব্যবস্থাপনা করার জন্য ছাত্রলীগের একটি “মেরুদন্ডহীন গ্রুপের” নেতাদের ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করলেন তিনি, আর বাকিরা মার খেয়ে অথবা ভয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লো।

আজিম নামের প্রাক্তন এক ছাত্রলীগ ক্যাডারকে তিনি বানালেন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সম্ভবত ২৫/২৬ ব্যাচের এই আজিমের বিরুদ্ধে ছাত্রাবস্থায় সংঘর্ষ, চাদাঁবাজি, ছিনতাই ও দমন-পীড়নের অভিযোগ আছে।

তাছাড়া দায়িত্ব নেবার পর ক্যাম্পাসে এক রকমের ত্রাস হয়ে আবির্ভূত হন এই ভয়ালদর্শন ক্যাডার।

শিক্ষার্থীদের চলাফেরা, হলে থাকা ও অন্যান্য বিষয়ে স্বৈরাচারের মত নানান ধরনের নিয়ম আর মত এই ভিসি চাপিয়ে দিয়েছে তার প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায়। যার ফলশ্রুতিতে এককালের প্রতিবাদী ক্যাম্পাস এখন ভয়ের রাজত্ব। শিক্ষার্থীরা এখন অভিযোগ ও মন্তব্য করতেও ভয় পায়।

এর থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে বর্তমান শিক্ষার্থীদের জানতে হবে এই ক্যাম্পাসে অতীতে ঘতে যাওয়া ঘটনাগুলো, আর আরো সাবধানী ও প্রতিক্রিয়াশীল হতে হবে নিজেদের দাবির ব্যাপারে।

<strong>প্রক্টরিয়াল বডি</strong>
প্রক্টর হলেন তপন কুমার সাহা, ৬জন সহকারী প্রক্টর হলেন মো. আওলাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, কেএম আককাছ আলী, বিপ্লব কুমার হালদার, ইব্রাহীম খালেদ ও হুসাইন মোহাম্মদ সায়েম।

প্রথম পদত্যাগ করে ফাউল আরজু মিয়া (জানু ১৬), তারপর কবিরুল বাসার ও আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান (ফেব্রু ২), এবং আজ সকালে মো: কামাল হোসেন, মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান, নাজমুল হাসান তালুকদার ও সাব্বির আলম।

দেখা যাক আপনারা কতদূর কি করতে পারেন…

শিক্ষার্থীরা আপনাদের চোখে চোখে রাখবে, আর মিডিয়া প্রকাশ করবে আপনাদের সকল কুকর্মের নথি।

আশা করি বর্তমান বাস্তবতায় ভিসি ও তার নিরাপত্তা বাহিনী যথাযথভাবে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে। সাধারন শিক্ষার্থীদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর পেটোয়া-দূর্নীতিবাজ নেতা-কর্মীদের সহায়তা দান কার্যক্রম বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

নোংরা ছাত্ররাজনীতির দিন শেষ করতে অচিরেই ছাত্র-সংসদ চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি। কেননা সেক্ষেত্রে সাধারন শিক্ষার্থীরাও সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহার করার কু-ইচ্ছাটা কমবে।

সন্ত্রাস নয়, সুস্থ অবস্থার জন্য ছাত্রসংসদ দরকার

জুবায়েরর দোষ, নাকি ভিসির নির্লিপ্ততা?

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s