২০০১-এর নির্বাচনী সহিংসতার তদন্ত প্রশংসনীয়


দায়ি ব্যক্তিদের নামের তালিকাঃ

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা আবদুস সোবহান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সাবেক সাংসদ শহীদুল হক জামাল, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, নাদিম মোস্তফা, জামায়াতের নেতা আবদুল্লাহ মো. আবু তাহের, সাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদীন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এইচ এম সেলিম, ঝিনাইদহের সাবেক সাংসদ শহীদুল ইসলাম, ইলিয়াস আলী, হাফিজ ইব্রাহীম, সালাউদ্দিন আহমেদ, আলমগীর হায়দার, সালেক চৌধুরী, জহির উদ্দিন মো. স্বপন, সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও নাটোরের বিএনপি নেতা একরামুল কবির।

জমা হওয়ার সাত মাস পর ২০০১ সালে সারাদেশজুড়ে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্তকমিশন প্রতিবেদন সরকার প্রকাশ করলো আজ।

অক্টোবর ২০০১ থেকে পরবর্তি ১৫ মাসে ঘটে যাওয়া প্রায় ১৮,০০০-এর বেশি ঘটনায় ২৬,৩৫২ জনকে দায়ি করা হয়েছে যাদের মধ্যে ২৫ জন সাবেক মন্ত্রী ও এমপিরাও আছে।

তদন্তকালে জমা হওয়া ৫,৫৭১টি অভিযোগের মধ্যে কমিশন ৩,৬২৫টি-কে আমলে নেয়, যার মধ্যে ৩৫৫ খুনের এবং বাকিগুলো ধর্ষন, আগুন দেয়া, লুটসহ অন্যান্য অপরাধ। এসব ঘটনার শিকার বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের।

সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে কমিশন সাক্ষ্য-প্রমান, ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে এবং এপ্রিলের ২৪ তারিখে ১,০৭৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দেয়।

কমিশনের দাবি, এসব ঘটনার সাথে জঙ্গি হামলা, ২৪ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ঊদিচি বোমা হামলা, রমনা বটমূলের বোমা হামলা, গোপালগঞ্জের বানিয়ারচর চার্চে হামলা, বিচারক জগন্নাথ পাড়েঁ ও সোহেল আহমেদের খুন হওয়া, কিবরিয়া হত্যার যোগসূত্র আছে। যার মূল লক্ষ্য ছিলো প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিনাশ করা।

কারন হিসেবে কমিশন রাজনৈতিক আদর্শে মতানৈক্য ও তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারকে দায়ি করে।

সুপারিশমালার মধ্যে আছে —

১। দায়ি ব্যাক্তিদের আইনের আওতায় আনা,

২। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হওয়া মামলাগুলোকে সক্রিয় করা,

৩। প্রতি জেলায় সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ কমিটি করা,

৪। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সাহায্য দেয়া ও

৫। সহিষ্ণুতা ও শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এর করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট ২০০৯ সালের ৬ জুন সরকারকে এই কমিশন করার জন্য আদেশ দেয়।

একই বছর ডিসেম্বর ২৭ তারিখে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করে সরকার। এর বাকি সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মনোয়ার হোসেন আকন্দ ও  সিআইডি-র বিশেষ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মীর শহিদুল ইসলাম।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন সরকার সুপারিশ অনুযায়ি ব্যবস্থা নেবে। এই জায়গায় এসেই আমি সন্দিহান, কেননা বিভিন্ন সরকারের আমলে দেখেছি কিভাবে রাজনীতিবিদেরা অপরাধ করেও এমনকি দন্ডপ্রাপ্ত হয়েও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s