এত কিছুর পরও আমাদের প্রস্তুতি শেষ হয়না, কিছু কিছু বিষয়ে তো খুবই নাজুক অবস্থা। আর যার দায়িত্ব সেটা নিশ্চিত করা তারা নানা অযুহাত দেখিয়ে, কচ্ছপ গতিতে বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছেন। দৌড়ঝাপ যাও বা দেখা যায় বিপদে পড়লে তারপর।

সাম্প্রতিক জ্বালানী তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করাটা তার একটা বড় প্রমান। গতবারের দাম-বাড়া পরবর্তি ভাড়া সমন্বয়টাই সরকার ঠিক মত করতে পারেনাই, আবার বাড়িয়ে দিল একধাপ। তাড়াহুড়ার কারনটি যদিও আইএমএফ-এর ঋন পাওয়া। মুহিত আজকাল এ বিষয়ে কথা বলতে এখন আমেরিকায় আছেন।

বাস মালিকরা গতকালই নতুন মুল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। আর সিএনজি অটোরিকশা মালিক বা চালকেরা তো আবশ্যই মানছেনা (আগেরটাই এখনো মানেনি)।

মুল্যস্ফীতি ও টাকার অবমূল্যায়নের কারনে এমনিতেই মানুষ হিমশিম খাচ্ছে, তার উপর তেলে আর গ্যাসে ৫টাকা করে বৃদ্ধি দূর্ভোগ শুধু বাড়াবে।

সরকার যদিও বলছে আন্তর্জাতিক মহলের সাথে সমন্বয়ের জন্য এবং সরকারের উপর ভর্তুকির চাপ কমাতেই করা হচ্ছে। বর্তমান অর্থবছরে যখন ৬০০০কোটি টাকা রাখা হলো, তখন কি ভাবা হয়নি আন্তর্জাতিক অবস্থা, আর নতুন চালু হওয়া বিভিন্ন তেল-ভিত্তক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য ক্রমবর্ধমান তেলের চাহিদার ব্যাপারটি?

সিএনজির দাম বাড়ানোর পেছনে মুহিতের একটা পুরনো যুক্তি আছে—গাড়ির ব্যবহার কমানো।

আরেকটা ঘটনা হলো জামাতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, যা কিনা আমাদের সামরিক বা আধা-বেসামরিক গোয়েন্দারা টের পাননি।

একটা বড় ভুমিকম্প ভড়কে দিলো আমাদের, কেননা আমাদের মানসিক বা আত্মরক্ষামুলক প্রস্তুতি নেই। গত প্রায় ৩বছরে এই সরকার একটা ভালো কাজ করেছে – ইউএনডিপির সহায়তার ভুমিকম্পসহ অন্যান্য দূর্যোগে আমাদের ঝুঁকির পরিমান ও করনীয় নির্ধারন করেছে।

ফলাফল ভয়ানক হলেও আমাদের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত সামান্যই। সেটা টের পেলাম সম্প্রতি প্রকাশিত ২টি জরিপের ফলাফলে। একটি করেছে ইউএনডিপি আরেকটি করেছে জার্মানির জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়। দুটিতেই ভুমিকম্প, সুনামি ও অন্যান্য দূর্যোগে বাংলাদেশের অবস্থান উপরের সারিতে।

তথাপি ঢাকা ও অন্যান্য শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো এখনও চিহ্নিত করা যায়নি (আমার সন্দেহ আছে, কিন্তু প্রকাশ করবেনা, কেননা তাহলে কিভাবে তারা জানলো টাঙ্গাইলে বড় ভুমিকম্প হলে পরে ৭২,০০০ ভবন ভেঙ্গে পড়বে?)।

জিনিসপত্রের দাম নির্ধারণ ও মনিটর করায় এই সরকারের ব্যর্থতা আগের সরকারকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়িদের সামলাতে পারছেনা সরকার। কদিন আগে সংসদীয় কমিটি রোজার আগে চিনি নিয়ে তুলকালাম করার জন্য ৪টি বড় কোম্পানিকে দায়ি করেছে, সুপারিশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। তারপরের কিছু জানা যায়নি।

মনিটরিং হচ্ছে নামকাওয়াস্তে। এই কাজে সহায়তা দিতে সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে মাঠে নামার কথা বিভিন্ন ব্যবসায়ি সংগঠনের (!)।

আর বাজার পরিস্থিতি সামলাতে সরকারি টিসিবির আরো বেশি অগ্রনী ভুমিকা পালন করা জরুরী হলেও বানিজ্য সচিবের মতে টিসিবি-কে শক্তিশালী করলে নাকি “মুক্তবাজার অর্থনীতির বিরোধীতা করা হয়”।

আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে পরিবেশ দূষন ও প্রতিকারের প্রতিবন্ধকতা। দরকারি সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের একজনমাত্র পরিচালককেই (মুনীর চৌধুরী) দেখি ঘুরে ঘুরে আইন ভংগকারীদের জরিমানা করে বেড়াচ্ছেন, কার্যক্রম বন্ধ করেছেন অনেক অবৈধ আর দূষনকারী প্রতিষ্ঠান। তথাপি সারা দেশে চলছে দূষন আর তার বিস্তৃতি।

বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সরকারের তড়িত গতিতে লোকবল বাড়ানোর কোন প্রক্রিয়া চোখে পড়েনা। যদিও আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিবেশকে বাঁচাতে সারা বিশ্ব মাইকিং করে বেড়াচ্ছেন।

ভেজাল খাদ্যের কথা আর কি বলবো, ছড়িয়ে গেছে সবখানে। দেখার দায়িত্ব বোধকরি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এবং বিএসটিআইয়ের। মাঝেমাঝে মোবাইল কোর্ট করেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে। আর চলছেই স্বাস্থ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকা। সরকারের দায়িত্ববোধ এক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ।

কিছুদিন আগে পত্রিকা মারফত একটা ভয়াবহ বিষয় জানতে পারলাম – দেশের প্রায় ৬১টি ওষুধ কোম্পানি নাকি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেনা আর নিম্নমানের ওষুধ তৈরি করছে বলে সংসদীয় কমিটি সেগুলো বন্ধ করে দেবার সুপারিশ করেছে। এতোবছর কিভাবে চলছিল এইগুলো? মনিটরিং হয়নি। এতোদিনে যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতির কারন হয়েছে এরা, তার বিচার কি হবে? সরকার শুধু লাইসেন্স দিয়েই খালাস (সেখানেও নিশ্চয়ই দূর্নীতি ছিল)।

Advertisements