বিডিনিউজ২৪ডটকম

ভুমিকম্পের পর পর আরেকটি ধাক্কা খেলাম ঋন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে “সাবসিডি কমিয়ে” ৫দিনের মধ্যে নেয়া সরকারের একটা সিদ্ধান্ত দেখে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে দাম সমন্বয় করতে নাকি বুধবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হচ্ছে ডিজেল ৫১ টাকা, কেরোসিন ৫১, পেট্রোল ৮১, অকটেন ৮৪ ও ফার্নেস অয়েল ৫০ টাকা। সাড়ে চার মাস আগের ঝাঁঝ না কমতেই উচ্চগতিসম্পন্ন দ্রব্যমূল্যের বাজারে আবার একটু ঘি ঢাললো সরকার।

জরুরি ভিত্তিতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ও পরিবহন সেক্টরের ভাড়া ঠিক না করেই, সরকার (মিঃ মুহিত) যে তেলের দাম ৫টাকা বাড়িয়ে দিলেন, কয়েকঘন্টার মধ্যে কার্যকরী একটা আদেশের মাধ্যমে, এর যৌক্তিকতা কি?

আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খবরে জানা যায়ঃ গতকাল শেখ হাসিনা তার অফিসে অর্থ ও জ্বালানি মন্ত্রনালয়ের সাথে এক বৈঠকে বলেন—“জ্বালানি পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা থাকা দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সঙ্গে সংগতি রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম কমবে, তখন দেশের বাজারেও দাম কমাতে হবে। এভাবে মূল্য সমন্বয়ের একটি নীতিমালা থাকা দরকার। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জ্বালানি পণ্যের দাম এক টাকা বাড়ালে পরিবহন খরচ কত বাড়তে পারে সে বিষয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। জ্বালানি মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যালোচনা করে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগের কথাও চিন্তা করতে হবে।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাজেটে ভর্তুকির চাপ কমাতে ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করলে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন, জানায় ওয়েবসাইটটি।

একই দিন বিডিনিউজ২৪ডটকম-এর এক খবের দেখলাম অর্থমন্ত্রী আইএমফের এক ডেলিগেশনের সাথে আলাপের পর বললেন এক বিলিয়ন ডলার ছাড়ের জন্য দাতাগোষ্ঠী জ্বালানির দাম সমন্বয়ের (বাড়ানোর) প্রস্তাব দিয়েছে, সাবসিডি কমাতে ও ট্যাক্স বাড়াতে, ভ্যাট কর্যকর করতে ও অন্যান্য…তাই সরকার “ভর্তুকি কমাতে” তেল, বিদ্যুত ও অন্যান্য পন্যের দাম বাড়াবে।

যা বুঝলাম, তা হলো বিদেশি ঋন পেতে সরকারের মাথারা ৫দিনের মধ্যে জনগনের উপর খড়্গহস্ত হলো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নীতিমালা তৈরি ও জনদূর্ভোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে কিনা তা জানি না। পাবলিক পরিবহনের ভাড়া ঠিক করার কি বন্দোবস্ত হলো সেটাও জানি না।

গতবারও হুট করেই লিটার প্রতি ২টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আর যতটুকু জানি, নিয়মনীতির একটা ব্যাপার আছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে—রেগুলেটরের কাছে প্রস্তাব দেয়া লাগে, তারা জনমত নিয়ে বিচার-বিশ্লেষন করে ঘোষনা দেন। গতবারের মতো এবারও নিশ্চিতভাবে তাদেরকে পাশ কাটানো হয়েছে। বেশ, বেশ।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে নিয়মকানুন মানা হলেও ধাপে ধাপে বাড়ছে তা। কিন্তুর তেলের ক্ষেত্রে যা ঘটছে তা মোটেও কাম্য নয়। যতটুকূ মনে পড়ে এই সরকার এখন নাগাদ ৪/৫ বার তেলের দাম বাড়িয়েছে (ফার্নেস অয়েল ছাড়া কোনটার দাম কমেনি কখনো)।

একটি পুরনো গল্প বলতে চাই সবাইকেঃ ২০০৫ সালের ২৫শে মে হাসিনা এব বিবৃতিতে ততকালীন জোট সরকারের ৫ম বারের মত তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করেছিলেন, বলেছিলেন সিদ্ধান্তটি ‘জনবিরোধী’। বলেছিলেন এতে করে নিত্যপন্যের দাম বেড়ে যাবে, আর বাড়বে জনদুর্ভোগ। সুত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম