কিছু শব্দ “থাকবে না”


কয়েকটা শব্দ, কিছু আচরন, কিছু ভাবনা, আমি দেখতে চাইনা কোথাও, আমি শুনতে চাইনা, এগুলোর অস্তিত্ব থাকবেনা কোথাও—এমন একটা স্বপ্ন আমি দেখি অনেক দিন। জানি তা পূরণ হবে।

মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে আমি মনে করি আমার জীবন ধন্য। কিন্তু বোঝার ক্ষমতা হবার পর যা দেখেছি – মানুষ এবং তার পরিবেশ – তাতে আমি কষ্টে আছি। বিচার-বিশ্লেষণের কিছুটা বুদ্ধি হবার পর মনে হয়েছে এটা আমার দেখার কথা না। আর মানুষ হিসেবে যতটা ভালো, ততটা আমরা করছি না। করছি অপেক্ষাকৃত সহজ অথচ ক্ষতিকর কাজটা।

আরো কিছুদিন কষ্টে থাকতে হবে তাও জানি। কেননা এত সহজে মানুষ ঘুরে দাঁড়ায় না, কাঠ-খড় পোড়াতে হয়, বা নিজে থেকে তাকে মানুষের মত মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হয়।

মনে পড়ে ছোটবেলায় খেলাধুলা আর পড়াশুনা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায় জাগতিক বিষয়গুলো বেশিক্ষন মাথায় থাকতো না। কিন্তু প্রতিনিয়ত দেখতে হতো সেইসব দৃশ্য, যা কখনোই কখনো আশা করিনি।

বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে আমার জন্মস্থান থেকে খুব বেশিদূর বাইরে ঘুরে দেখতে পারিনি ঠিক, যা দেখেছি তাই চেষ্টা করেছি ভাল করে দেখতে। আর তাতেই আরো স্পষ্ট করে দেখেছি পৃথিবীটাকে। অনুভব করেছি চেয়েছি তাদের স্বত্বা, ক্রমে আরো নিবিষ্ট হয়েছি—বোধকরি নিজের অজান্তেই। …এবং এখন যুক্ত হয়েছে স্বদিচ্ছা, কারন এখন বোঝার পাশাপাশি সামর্থ বেড়েছে, আর বেড়েছে সমর্থন। দিনদিন বাড়ছে আশা।

যত দিন যায়, আরো মানুষকে সঙ্গে নেই, যারা শুধু নিজেরা নয়, আরো কিছু মানুষকে ভালো রাখার ইচ্ছা পূরণে। আর তাই এক এক করে সব বন্ধুদের বলি – কিছু বিষয় এড়িয়ে চলতে, কিছু কাজ না করতে আর কিছু ভাবনার ধরন পাল্টাতে। আর সেই ভালো কাজগুলোর ফসল চারপাশে দিতে। দল আরো ভারি করতে — তবে কাজ ফেলে দলবাজি করতে নয়।

চারপাশের ঘটমান অবস্থা আর তার অধঃপতনের ধরন বিচারে – বিশ্বের এবং বাংলাদেশের যেটুকু ইতিহাস জেনেছি – এই আধুনিক সময়ে তুলনামূলক বিচারে আমরা ভালো নেই।

আমার মনে হয় কিছু বিষয় আছে যা আমাদের বাধা দিচ্ছে আরো প্রকাশিত হতে, নিজেদের মেধা, বিবেক আর সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে একটা সুন্দর পৃথিবী গড়তে। প্লিজ, আরো একটু ভালোবাসুন নিজেকে, চারপাশকে, সবকিছুকে। আর তাতেই বোধ করি সার্থক হবে মানবজীবন।

এই ব্যাপারে আমার ধারনা বা দর্শন খুব বিশেষ কাজের না, অন্তত এক মুহুর্তে বিশ্বকে জাগিয়ে তোলার মতো না। কিন্তু এমন আরো অনেকেই চেষ্টা করেন বলে আমি জানি। এভাবে করেই বাড়বে সম্ভাবনা একটা সুন্দর পৃথিবী দেখে যাবার।

ভালো কাজের প্রসার ধীরে হলেও তার স্থায়িত্ব, আর উপকারিতা অনেক বেশি–এই চিন্তা মাথায় রেখে একাগ্রতা ধরে রাখতে হবে।

চলুন আরো একটু চেষ্টা করি, মানে অভ্যাস করি—কেননা হুট করে কিছু করলে তার ফল টিকে থাকে না, হুট করে একদিন সত্য কথা বলে ফেললে, কারো উপকার করলে বা শুধু আমাদের খুব কাছের কয়েকটা মানুষের জন্য কিছু করলে তা কৃপণতার শামিল আমার কাছে। কেননা আমরা মানুষ, আমাদের অনেক ক্ষমতা, যা আমাদের [ভালো] কাজে লাগানো উচিত, যতদিন বাঁচি।

কদিন ধরে কিছু শব্দ মাথায় আসছে, এগুলো আর দেখতে চাইনা এখন, এই যুগে, এই সময়ে, এই কালে, এই বিশাল সুযোগের দিনে—যখন আমরা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারি, প্রত্যেকেই, সবসময়।

এগুলোর ফল যদি কারো কাছে কখনো ভাল মনে হয় তবে আমি বাকরুদ্ধ। আর যদি মনে করেন এগুলো কোন ভাও কাজে আসে না, তবে চলুন নিজের এবং আশেপাশের মানুষদের এই অভ্যাসগুলো বদলে দিতে চেষ্টা করি।

ব্লগারদের অনুরোধ করবো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করুন শব্দগুলো, আপনাদের কোন পরামর্শ থাকলে আরো কিছু শব্দ যোগ করুন, আর ছড়িয়ে দিন সবখানে, সবার মাঝে।

আমি যে শব্দগুলো প্রাথমিকভাবে ভেবেছি সেগুলো হল – অমানবিক, আশাহত, নির্যাতনকারী, একচোখা, অধৈর্য, মিথ্যুক, ধূর্ত, লোভী, খুনী, দাঙ্গাবাজ, অপরিচ্ছন্ন। আর সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ যা সেটা হলো – ‘অসম্ভব’।

ধ্বংসের পরিণাম শুধুই আরো ধ্বংসযজ্ঞ।

One comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s